সাতক্ষীরায় মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার ধুম


140 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার ধুম
এপ্রিল ১৩, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

থেমে নেই কারেন্ট পোকার তান্ডব

কমতে শুরু করেছে ধানের মূল্য

মন ভাল নেই কৃষকের

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সাতক্ষীরার মাঠে মাঠে ধান কাটার ধুম পড়েছে। দিগন্ত বিস্তৃত ধান ক্ষেত্রের মৃদুমন্দ হাওয়া বইছে নবান্নের উৎসব এর প্রবাহতায় পাকা ধানের সোদা গন্ধে কৃষক মাতোয়ারা আনন্দিত, চোখে মুখে খুশির ঝিলিক, পাকা ধানের সুভাষ কৃষকের মন প্রাণকে জাগরন ঘটালেও কোন কোন কৃষকের মনে প্রাণে আনন্দের ছোয়া নেই। ক্ষেতের পর ক্ষেতে ধানে আক্রমন করছে কারেন পোকা খ্যাত এক ধরনের বিষাক্ত কীটের সংক্রমনে মুহুর্তে পাকা ধানক্ষেত ধান শুন্য হয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরায় কৃষক কুলের মাঝে খুশি আর আনন্দের পাশাপাশি বিরাজ করছে মর্মবেদনা বিরহ, কোন কোন কৃষক এর স্বপ্ন কারেন পোকা ধুলিসাৎ করেছে, স্বপ্ন ভেঙ্গেছে, আগামী দিনের আশা আকাংখাকে কারেন কীট নিস্তব্ধ করেছে। কোন কোন এলাকায় বরোধানের যেমন বাম্পার ফলন হয়েছে অনুরুপ ভাবে বিচলীর ব্যাপকতা কৃষককে আনেক বেশী লাভবান করেছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে গত কয়েক দিন যাবৎ হঠাৎ করে ধানের দামের তারতম্য ঘটেছে, তিন দিন পূর্বেও ধানের মুল্য প্রতিবস্তা (ষাট কেজি) চৌদ্দ শত টাকা অথবা তার বেশী ছিল কিন্তু গত দুইদিন যাবৎ বস্তা প্রতি ধানের এগারশত বা তার কিছু বেশি। হঠাৎ করে ধানের দরপত্তন কৃষককে কিছুটা বিপাকে ফেলার পাশাপাশি আর্থিক ভাবে লোকসানের মুখে ফেলেছে। বরোধান চাষে বর্ষার পানির পরিবর্তে সেচের পানির উপর সম্পুর্ণভাবে নির্ভরশীল থাকতে হয় বর্ষার পানি এবং সেচের পানি খরচের দিক দিয়ে কৃষককে অর্থ গুনতে হয়। অন্যদিকে সারসহ অন্যান্য উপকরন সব মিলে বরো চাষে খরচ অনেক বেশী বলে জানান কৃষকরা। সাতক্ষীরা তালা পাটকেলঘাটা এবং কলারোয়াকে শষ্য ভান্ডার বলা হয় অন্যদিকে সদর উপলোর বির্স্তীন এলাকা শষ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। উলে­খিত এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবারে প্রাকৃতিক দূর্যোগ দুর্বিপাক কম বিশেষ করে কাল বৈশাখির এলোমেলো আঘাত ও শিলাবৃষ্টি ধানের জন্য (উঠতি ধানের জন) মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনে এবারের মৌসুম কালবৈশাখির তান্ডব বা শিলা বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় ধান উৎপাদন আশাতীত ও বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলে উৎপাদন আরও কয়েকগুন বৃদ্ধি পেতো, জেলার দেবহাটা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ন ভূমিতে লবনা ক্ত সহায়ক বরো ধান বিশেষ সাফল্য পেয়েছে কৃষকরা। তবে কারেন্ট পোকার আক্রমন সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। জেলার দেবহাটার পারুলিয়ার পুটেনামের এক কৃষক জানান তিনি পাঁচবিঘা জমিতে বরো ধান করছিলেন, ধান কাটার তিন/চার দিন পূর্বে হঠাৎ করে কারেন্ট পোকার আক্রমনে তিন বিঘা জমির ধান শেষ মুহুর্তের সময় স্বপ্ন ও শেষ। কোন কোন কৃষক ধান কাটতে কাচি নিতে হইনি অর্থাৎ ধান নষ্ট করেছে। একাধিক কৃষক জানান যারা নাবিকরে (দেরীতে) ধান রোপন করেছেন সেই সকল ধান ক্ষেত কারেন্ট পোকার আক্রমনে দগ্ধ হয়েছে। পক্ষকাল পূর্বেও কারেন্ট পোকার উৎপাত ছিল না। একদিকে কারেন্ট পোকার আগ্রাসন অন্যদিকে ধান কাটার জোনের অভাব কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হচ্ছে। কোন কোন ধান ক্ষেত একদিনেই সাবাড়, তাই কৃষকদের মাঝে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তোলার প্রচেস্টা চলছে দ্রুততম সময়ে ধান কাটা, মাড়াই এবং বাজার জাত করনের লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার করছে কৃষকরা। মেশিনের মাধ্যমে ধান মাড়াই এবং ক্ষেত হতেই পাইকারী ভাবে বিক্রি করছে ধান্ গত দুই দিন যাবৎ ধানের মূল্য কম, কারেন্ট পোকার আক্রমন, ধান কাটতে জোন সংকট সব মিলে কৃষকরা এবং বরো চাষ অস্থির আর ইন্তিকাল অতিক্রম করছে। কিন্তু সব কিছুর উপর কৃষকের মাঝে খুশি, আনন্দস্রোত ধানের বাম্পার ফলন, চোখ ধাদানো, মন জুড়ানো গোছা গোছা ধানের শীষে ধান।
শেয়ার