সাতক্ষীরায় মানসিক রোগীরা পাচ্ছেনা চিকিৎসা সেবা : বাড়ছে নারী নির্যাতন ও ডিভোর্স


193 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় মানসিক রোগীরা পাচ্ছেনা চিকিৎসা সেবা : বাড়ছে নারী নির্যাতন ও ডিভোর্স
আগস্ট ১৪, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ঘটছে শিশু নিপীড়ন

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সাতক্ষীরা জেলায় আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও সাইকিয়াট্রি বিভাগ এবং পর্যাপ্ত মনোরোগ ও স্মায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হাজার হাজার রোগী বেসরকারী ক্লিনিকমুখী হচ্ছে। এমনকি চিকিৎসা সেবা গ্রহণের প্রত্যাশায় রোগীকে নিয়ে ছুটছেন স্বজনরা রাজধানীর বেসরকারি ক্লিনিকসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও। এতে ক্লিনিক মালিকরা লাভবান হলেও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আর্থিক এবং মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে রোগী ও তার আত্মীয়-স্বজনরা। জেলার মানসিক রোগীরা পাচ্ছেনা সরকারি হাসপাতালে সেবা। এদিকে নারী নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা, মারামারি, ডির্ভোস-সেপারেশন ও পারিবারিক কলহে ঘটছে অহরহ শিশু নিপীড়ন। আর বেকারত্ব, পরিবার ও কর্মস্থলে অবহেলা, পারিবারিক অশান্তি, যৌথ পরিবার থেকে ভেঙে সম্পর্কের বন্ধন আলাদা হওয়া, মাদকের আগ্রাসন, জীবন-যাপনে প্রযুক্তির অতিনির্ভরতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারকে মানসিক রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। অপরদিকে বাজার-ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দরুণ সব ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই কারণে নানা রকম মানসিক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে সরকারি-বেসরকারি সব মেডিকেল কলেজে মানসিক রোগ বিভাগের অধীনে কমপক্ষে ১০টি শয্যা বরাদ্দ রাখতে হবে। এসডিজি অর্জন করতে হলে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

জানা যায়, জেলার ৭টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা, ৭৮টি ইউনিয়নে জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় একুশ লাখের অধিক। এছাড়াও চাকরিসূত্রে বিভিন্ন জায়গা থেকে সাতক্ষীরা জেলায় এসে আবাস গেড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ওই মানুষগুলোর এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছেন। অথচ স্বাধীনতা পরর্বর্তী সময় থেকে অদ্যাবদি জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে সাইকিয়াট্রি বিভাগ চালু এবং মনোরোগ ও স্মায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি হয়নি। এদিকে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসক আছেন শূন্য দশমিক ৫০ জন। এর মধ্যে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট) ২২০জন। অর্থাৎ প্রতি লাখ মানুষের জন্য শূন্য দশমিক ১৩জন। একইভাবে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ৫০জন- অর্থাৎ প্রতি লাখ মানুষের জন্য শূন্য দশমিক শূন্য তিনজন। সাইকিয়াট্রিক সোস্যাল ওয়ার্কার রয়েছেন মাত্র ৭, অকুপেশনাল থ্যারাপিস্ট মাত্র ৩জন। অপরদিকে মানসিক চিকিৎসক তৈরিতে প্রথম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় ১৯৭২ সালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ‘ওটিএইচএম’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালে দেশের প্রথম মেন্টাল হেলথবিষয়ক ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ কোর্স চালু হয়। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের অধীনে (বিসিপিএস) এ সংক্রান্ত এফসিপিএস কোর্স চালু হয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ তৈরিতে এমডি ও এমএস কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। আর দেশের ২০০৯ ও ২০০৫ সালে সর্বশেষ যে জাতীয় সমীক্ষা দুটি হয়েছে তার ফলাফল অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে অন্তত একজন কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। অথচ দুটি বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতালসহ সব মিলিয়ে দেশে রয়েছে মোটে ৭০০-এর মতো শয্যা।

সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৯৪টি বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে মানসিক সমস্যায় জর্জরিত দম্পতি ডির্ভোস-সেপারেশন বা তালাকের ১৮২৭টি আবেদন করেন। যা পূর্বের বছরের তুলনায় শতভাগ বেশি। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভিকটিম ইনচার্জের কাছ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত ১৪২ টি অপমৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ১০ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ধর্ষণের ১৩৩টি ঘটনা সংগঠিত হয়। এদিকে জেলায় ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ০৯ আগস্ট পর্যন্ত মারামারি, নারী ও শিশু নিপীড়নের শিকার হয়েছে প্রায় দু’হাজারেরও অধিক। তবে সদর হাসপাতালের ভিকটিম ইনচার্জের কাছে ৪৯৪টি মারামারির ঘটনা রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। অপরদিকে মানবাধিকা সংগঠন স্বদেশ এর তথ্যমতে, সাতক্ষীরা জেলায় ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মানবাধিকার লংঘনজনিত ১১৮টি ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এরমধ্যে নারী নির্যাতন জানুয়ারি মাসে ১০, ফেব্রুয়ারি মাসে ১০, মার্চ মাসে ০৯, এপ্রিল মাসে ০৭, মে মাসে ০৯ ও জুন মাসে ০৬টি। তালাক স্ত্রীকে মে মাসে ০১টি। ধর্ষণ জানুয়ারি মাসে ০২টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ০২টি, মার্চ মাসে ০১টি, জুন মাসে ০৩টি। ধর্ষণের প্রচেষ্টা ফেব্রুয়ারি মাসে ০১টি, মে মাসে ০১টি, জুন মাসে ০১টি। হত্যা জানুয়ারি মাসে ০৪, ফেব্রুয়ারি মাসে ০২, মার্চ মাসে ০৩, এপ্রিল মাসে ০৩, মে মাসে ০৪ ও জুন মাসে ০৪টি। আত্মহত্যা ফেব্রুয়ারি মাসে ০৫, মার্চ মাসে ০২, এপ্রিল মাসে ০৩, মে মাসে ০৪ ও জুন মাসে ০৪টি। এসিড নিক্ষেপ মে মাসে ০১টি। শিশু নির্যাতন মার্চ মাসে ০১টি, এপ্রিল মাসে ০১ টি, মে মাসে ০৩টি, জুন মাসে ০১টি। গুম/অপহরণ জানুয়ারি মাসে ০১টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ০৩টি, মে মাসে ০২টি, মরদেহ উদ্ধার জুন মাসে ০৪টি।

সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে কোন সাইকিয়াট্রি বিভাগ বা মানসিক রোগের চিকিৎসক পদ নেই। এছাড়াও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে সাইকিয়াট্রি বিভাগ চালু হয় নেই। এবং সারাদেশে মানসিক রোগের চিকিৎসক সংখ্যা অপ্রতুল। এখন প্রতিনিয়ত কিছু ডিগ্রীধারী চিকিৎসক বের হচ্ছে; কিন্তু সেই সংকট বা ঘাটতি কাটাতে কিছু দিন সময় লাগবে। পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে মানসিক চিকিৎসকের পদ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল যেহেতু নতুন সেহেতু এখানে ওই পদ সৃষ্টি হতে আগামী ২ থেকে ৩ বছর লাগতে পারে। জেলার অধিকাংশ জনগণের মধ্যে মানসিক সমস্যা ও মানসিক অশান্তি বেড়েই চলেছে। মানসিক সমস্যা একটি সামাজিক ব্যাধি। এদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া উচিত। আশা করছি, সরকার দ্রুত এই জনবহুল জেলার মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার বিষয়ে অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অপরদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খোদা বলছেন, জেলায় হু-হু করে বাড়ছে মানসিক রোগীর সংখ্যা। আমাদের প্রতিষ্ঠানে এখন সাইকিয়াট্রি বিভাগ ও চিকিৎসক পদ সৃষ্টি হয়নি। আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বারবার বলছি। গত শনিবারে (০৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। তাদেরকে উপরিউক্ত বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল ও সাইকিয়াট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মনোরোগ ও ও স্মায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ধীরাজ মোহন বিশ্বাস বলেন, আমার প্রাইটিস জীবনের এক পর্যায়ে ভেবে দেখলাম দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ জেলা সাতক্ষীরা। এই জেলায় প্রতিনিয়ত মানসিক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই রোগীদের চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শ দেওয়ার লক্ষে সাতক্ষীরার পলাশপোলে নাজমুন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগস্টিক সেন্টারে প্রত্যেক শুক্রবার সকাল ০৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করি। প্রত্যেক বুধবার স্বাস্থ্যকর্মী আবু বক্কর এর কাছে সকাল ০৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে প্রায় ১৫০ এর অধিক রোগী সিরিয়াল দেয়। এরমধ্যে কিছু রোগী আসে না। তবে প্রত্যেক শুক্রবার প্রায় ১০০ থেকে ১৩০ জনের অধিক রোগীকে চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করি। ওই পরামর্শ সেবা গ্রহণ করে কত শত হাজার মানসিক রোগী বিগত ২০ বছরের অধিক সময়ে ভালো হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছে তা বলা মুশকিল। তবে এধরনের রোগীকে একেবারে শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকের নিকট আনা হয়্ তাদের প্রথম অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করলে দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের ধোপাডাংগা গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন মো. সামছুর রহমানের স্ত্রী তাছলিমা খাতুন বলেন, গত কয়েক মাস ধরে আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এবং বিভিন্ন উল্টো-পাল্টা কথাবর্তা বলতো। পাশর্^বতী এলাকার লোকজনের মুখে মনোরোগ ও ও স্মায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ধীরাজ মোহন বিশ^াস এর কথা জানতে পারি। আমার স্বামীর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো করার উদ্দেশ্য সাতক্ষীরার পলাশপোলে নাজমুন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগস্টিক সেন্টারের ব্যবহৃত সিরিয়াল নম্বরে ০১৭৪৮৯১৭০৭৪ একটি সিরিয়াল দিয়েছিলাম। সেই সিরিয়াল মোতাবেক গত ১৫ জুলাই আমার স্বামীকে সাথে নিয়ে ওই ক্লিনিকে গিয়েছিলাম। ডা. ধীরাজ মোহন বিশ্বাসের রুমে ঢোকার পূর্বে আবু বক্কর নামের এক স্বাস্থ্যকর্মী পরামর্শ ফি বাবদ ৮ শত টাকা নিয়েছিলেন। অত:পর আমার স্বামীকে নিয়ে চিকিৎকের চেম্বারে ঢুকেছিলাম। চিকিৎসক আমার স্বামীকে দেখে কয়েকটি টেস্ট ও প্রেক্রিপশনে কয়েকটি ঔষধ লিখে দিয়েছিল। ওই ঔষধগুলো খেয়ে আমার স্বামী এখন পূর্বের তুলনায় অনেকটা সুস্থ্য। সেজন্য শুক্রবার (১২ আগস্ট) আরেকবার আমার স্বামীকে ডা. ধীরাজ মোহন বিশ^াসকে দেখানোর জন্য এসেছি। অপেক্ষা করছি। সিরিয়াল মোতাবেক স্বাস্থ্যকর্মী আবু বক্কও ডাকবেন বলে আশ^স্ত করেছেন। অপরদিকে মুনজিতপুর এলাকার বাসিন্দা রফিক বলেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী মারা যাওয়ায় তার মেয়ে সামিয়া রহমান তুন (১২) শক পেয়েছিল। সেই জন্য কয়েকমাস যাবৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে উল্টো-পাল্টা কথাবর্তা বলতো। স্থানীয় চিকিৎসককে দেখালে তিনি মনোরোগ ও ও স্মায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ধীরাজ মোহন বিশ^াস এর পরামর্শ নিতে বলেন। সেজন্য গত ১৫ দিন পূর্বে তাকে দেখাতে পলাশপোলে নাজমুন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম। ডাক্তার আমার ভাইজীকে দেখে (ঈঞ ঝপধহ ঙভ ইৎধরহ, ঊবম ঙভ ইৎধরহ (ঈড়ষড়ঁৎ) টেস্ট ও কিছু ঔষধ লিখে দিয়েছিল। এবং ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডক্টরস্ ল্যাব ও সিবি হসপিটালের একটি বিভিন্ন প্রকার টেস্টের নাম লেখা কাগজ ধরিয়ে দিয়েছিল। ওই ঔষধগুলো খাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রকার টেস্টেও সেই কাগজটি নিয়ে সিবি হসপিটালে টেস্ট করানোর উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। কাউন্টারে কথা বলতেই এক নাম না জানা ব্যক্তি প্রেসক্রিপশন দেখে বলল ৬ হাজার ৮৬০ টাকা। তখন তাকে বলেছিলাম নাজমুন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগস্টিক সেন্টারের এক স্বাস্থ্যকর্মী তো বলেছিল ৪ হাজার ১০০ টা নিবে। এরপরে সিবি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ গত ১২ আগস্ট আমার কাছ থেকে ৪ হাজার ১০০ টাকা নিয়ে আমার ভাইজীর টেস্টগুলো করিয়ে দিয়েছিল। ওই টেস্টের রিপোর্ট ডাক্তারকে দেখাতে শুক্রবার তার চেম্বারে গিয়েছিলাম। অপেক্ষায় রয়েছি কখন ডাকবে ডাক্তারের সহকারী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা বলেন, এই জেলাকে জামায়াত-বিএনপির ঘাঁটি বলা হতো। অথচ এখন সবচেয়ে বেশি বিষণœতায় রয়েছে এই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। হামলা, মামলা, কারাগার, আদালতপাড়া আর পালিয়ে বেড়াতে বেড়াতে পাগল হবার দশা। ব্যবসা বাণিজ্য সব গেছে। মামলার খরচ আর নিজেদের দু’মুঠো অন্ন সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছে। অস্থিরতা আর বিষণœতা ভর করেছে। অনেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। এসব রোগে আক্রান্তদের পাশে সামাজিকভাবে দাঁড়াতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরিবার ও সমাজ থেকে তাদের প্রতি খারাপ আচরণ করা হয়। এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। তাদের সর্বক্ষণ নজরে রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে সাইকিয়াট্রি বিভাগ চালু হলে রোগীরা একটু সস্তি পাবে এবং স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শ নিতে পারবে। সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

#