সাতক্ষীরায় মিথ্যা মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার দাবিতে এক বিধবার সংবাদ সম্মেলন


447 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় মিথ্যা মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার দাবিতে এক বিধবার সংবাদ সম্মেলন
আগস্ট ৩, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরায় বসত বাড়িসহ ৫ কাঠা জমি দখলের জন্য শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে এক বিধবা ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে একই গ্রামের মৃত্যু আনোয়ার সরদারের স্ত্রী মোছাঃ আমেনা বেগম এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তেব্য তিনি বলেন, গোপালপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান গাইনের ছেলে আব্দুর রশিদ একজন মামলাবাজ, প্রতারক ও পর সম্পদ লোভী। মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করা তার পেশা। তার ভাই আব্দুর রউফ গাইনের জায়গা জমি গ্রাস করতে সে নিজের শিশু ছেলেকে হত্যা করে রউফ গাইনসহ তার ছেলে মেয়ের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কাশেম গাইন ও হবিব সরদারের নেতৃত্বে  খাগড়াঘাট গ্রামে রউফ গাইনের দুই তালা বিল্ডিং ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। রশিদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রউফ পিতার বসত ভিটা ছেড়ে সোনার মোড়ে শশুর বাড়িতে বউ বাচ্চা নিয়ে বসবাস করছে। রশিদ গাইন তার বোনের ১০ বিঘা জমি জবর দখল করে খায়। প্রতিবাদ করায় প্রভাষক আল ফারুকের নামে নারী নির্যাতন ও ঘর জ্বালানো মামলা দিয়েছে। ভেটখালি গ্রামের সিরাজ গাজীকে শ্যামরগরে নিয়ে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে জোর করে ২ বিঘা জমি লিখে  নেয়। এছাড়া  কাশিমাড়ীতে গাছে রেঁধে শিশু নির্যাতনের মূল হোতা রশিদ গাইন। তার পরামর্শে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে দুটি শিশুকে গাছে বেঁধে ছবি গনমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। তিরি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রশিদ গাইনের ছেলে মাহমুদুর রহমান গাইন সাবেক এমপিকে জমি লিখে না দেয়ায় ও গোপালপুর গ্রামে এমপির ঘনিষ্ট নারী পাচার কারী এক মহিলাকে দিয়ে তার বৃদ্ধ পিতাকে হয়রানির অভিযোগে যে বিবৃতি দিয়েছে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী আনোয়ার রাতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় মুখের মধ্যে কাপড় ঢুকিয়ে শ্বাস রুদ্ধ করে হত্যা করে রশিদ গাইন। তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও নির্যাতনের ভয়ে তার দেবরের ১০ কাটা জমি রশিদকে লিখে দেয়। বর্তমানে স্বামীর ৫ কাটা জমিতে মেয়ে আশুরা কে নিয়ে তিনি বসবাস করছেন। কিন্তু এই জমি আত্মসাত করার লোভে রশিদ একের পর এক মিথ্যা মামলা  দিয়ে  তাদেরকে হয়রানি ও নির্যাতন করছে। গাবুরার আইয়ুব শেখের স্ত্রী ছবেদাকে দিয়ে গত ৯ জুন  শ্যামনগর থানায় একটি মিথ্যে নারী পাচারের মামলায় তার ছেলে, মেয়ে ও জামাইকে আসামি করে। পরে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। এই মামলায় পুলিশ ফাইনাল রির্পোট দিলেও রশিদের কারনে তাদেরকে জেল থেকে বের করা যাচ্ছে না। রশিদ অবৈধ অর্থ ব্যায় করে কৌশলে তাদেরকে জেলে আটকে রেখেছে। তার নির্যাতনে গোপালপুর গ্রামের মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। রশিদ গাইনের অত্যাচার থেকে  রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।