‘সাতক্ষীরায় মিথ্যে চেক জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে এক কাঠ মিস্ত্রী’


401 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘সাতক্ষীরায় মিথ্যে চেক জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে এক কাঠ মিস্ত্রী’
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
অপরাধ না করেও মিথ্যে চেক জালিয়াতির মামলায় গত ১১ দিন ধরে কারাগারে  আটক আছে সাতক্ষীরার এক নিরীহ দরিদ্র কাঠ মিস্ত্রী। সংসারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় তিনটি শিশু মেয়েসহ বৃদ্ধ শশুর-শাশুড়িকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ওই কাঠ মিস্ত্রী  স্ত্রী। শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সাতক্ষীরা শহরের লষ্করপাড়া এলাকার হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী সানজুয়ারা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সানজুয়ারা খাতুন বলেন, তার স্বামী পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রী। তিন শিশু মেয়ে ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে কোন রকমে কষ্টে তার সংসার চলে। কিন্তু গত ৮ আগষ্ট রাতে হঠাৎ করে সদর থানা পুলিশ এসে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। সকালে গিয়ে জানতে পারলাম তার নামে ঢাকার আদালতের একটি চেক জালিয়াতি মামলার ওয়ারেন্ট আছে। কিন্তু ওয়ারেন্টের কাগজে লেখা আসামীর নামের সাথে তার স্বামীর নামের পুরোপুরি মিল নেই। আংশিক মিল দেখে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বামীর নাম হাফিজুল ইসলাম, পিতার নাম মকছেদ কাগুজি, গ্রাম লষ্করপাড়া। আর যার নামে ওয়ারেন্ট আছে তার নাম হাফিজুর রহমান, পিতা- মোকছেদ আলী, গ্রাম কাটিয়া। তার স্বামীর জাতীয় পরিচয় পত্র দেখিয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পরও তাকে কোর্টে চালান দেয়া হয়। থানা থেকে বলা হয় প্রমান করে আসুন এই হাফিজুল সেই হাফিজুর নয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী অশিক্ষিত এবং পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রী। নিজের নাম বাংলায়ও ভাল করে লিখতে পারে না। এছাড়া জীবনে সে কখনো ঢাকায় যায়নি। অথচ  ঢাকাস্থ এবি ব্যাংকের একাউন্ট থেকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে যে চেকটির লেনদেন দেখানো হয়েছে তাতে চেক দাতার স্বাক্ষর ইংরেজীতে করা।  সম্পূর্ন ভূল তথ্যের উúর ভিত্তি করে তার স্বামী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে এখন জেলে আছে। সংসারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় তিনটি শিশু মেয়েসহ বৃদ্ধ শশুর-শাশুড়িকে নিয়ে বর্তমানে তিনি খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। স্বামী সামান্য একজন কাঠ মিস্ত্রী হওয়ায় আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় এই বিশাল ব্যায়বহুল মামলাটি তাদের পক্ষে চালানো কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তিনি মিথ্যে মামলার দায় থেকে স্বামীকে মুক্তি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।