সাতক্ষীরায় মিষ্টি আলুর জাত নির্বাচন করতে অনুষ্ঠিত হলো কৃষক মাঠ দিবস


836 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় মিষ্টি আলুর জাত নির্বাচন করতে অনুষ্ঠিত হলো কৃষক মাঠ দিবস
মার্চ ২৩, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

রাহাত রাজা ::
সাতক্ষীরার লবনাক্ত এলাকার কৃষক , কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কৃষি গবেষকদের অংশগ্রহণে মিষ্টি আলুর জাত নির্বাচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার বিনেরপোতা কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে এক মাঠ দিবসে মিষ্টি আলুর জাত নির্বাচন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা কেন্দ্র ( বিনেরপোতা কৃষি গবেষনা কেন্দ্র ) এই মাঠ দিবসের আয়োজন করে।


মিষ্টি আলুর জাত নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান।
সাতক্ষীরার বিনোরপোতা কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষক মাঠ দিবসে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বারি কন্দাল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হরিদাস চন্দ্র মোহন্ত, আঞ্চলিক ধান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: ইব্রাহিম, বিনা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আল আরাফাত তপু, রাবির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলি আহমেদ ফকির ,আন্তর্জাতিক আলু গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআইপি’র ফিল্ড অফিসার সাজ্জাদুল ইসলাম, সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান ।
উক্ত মাঠ দিবসে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

 
মাঠ দিবসে কৃষি গবেষকরা বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ১৪ টি মিষ্টি আলুর জাত হতে কমলা শাসযুক্ত মিষ্টি আলুর জাত বারি মিষ্টি আলু-২, বারি মিষ্টি আলু-৪, বারি মিষ্টি আলু-৯ উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন এ এবং ও খনিজ সমৃদ্ধ।
আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগে আক্রান্ত হয় ও পরবর্তীতে অন্ধত্ব বরণ করে। কমলা শাসযুক্ত মিষ্টি আলু উৎপাদন মৌসুমে বেশি খেয়ে ভিটামিন এ দেহে গ্লাইকোজেন রুপে জমা করা যায় যা দেহে পরবর্তীতে ভিটামিন এ এর ঘাটতি দেখা দিলে তা পূরন করতে পারে। দৈনিক ১৪৫ গ্রাম মিষ্টি আলু খেলে ভিটামিন এ এর অভাব পূরণ করা সম্ভব হবে। মিষ্টি আলুর পাতা শাক হিসাবে খেলে ভিটামিন এ, বি ও সি পাওয়া সম্ভব। কমলা শাঁসযুক্ত মিষ্টি আলু খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করলে ডায়বেটিস রোগ নিয়ন্ত্রন, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও ক্যানসার রোগের ঝুকি কমাবে। এই কমলা শাঁসযুক্ত মিষ্টি আলুর জাতটি বসতবাড়ির পার্শ্বে স্বল্প জমিতে, বাগান ও পুকুর পাড়ে চাষ করা যায়। তাছাড়া বসতবাড়ির ৫ শতাংশ  জমিতে মিষ্টি আলুর লতা উৎপাদন করে সহজেই ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার লতা বিক্রি করা সম্ভব।
তারা আরো বলেন, গরীবের খাদ্য হিসাবে পরিচিত প্রতি ইউনিট জমি থেকে সবচেয়ে বেশি ক্যালরি উৎপাদনকারী দেশের ৪র্থ খাদ্য উৎপাদক ফসল মিষ্টি আলু একটি পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ, লাভজনক, বহুমুখী খাদ্য উৎপাদনকারী (হালুয়া, চিপস, জ্যাম, জ্যালী, মিষ্টি, সালাত, সেদ্ধ আলু, জুস, পিয়াজু, পরাটা, রুটি, পাটিশাপটা, লুচি, পুলি পিঠা, ফ্রেন্স ফ্রাই, বড়া, নিমকি, নুডুলস, চপ, ভর্তা, সবজি, ভাজি, কেক, ইত্যাদি) ও লবণ সহিষ্ণু ফসল হলেও সাতক্ষীরা অঞ্চলে একমাত্র ভোমরা ইউনিয়নের হাড়দ্দাতে (প্রায় ৫০০ বিঘা) ছাড়া চাষাবাদ খুবই সীমিত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ১৪ টি মিষ্টি আলুর জাত হতে কমলা শাসযুক্ত মিষ্টি আলুর জাত (বারি মিষ্টি আলু-২, বারি মিষ্টি আলু-৪, বারি মিষ্টি আলু-৯ ও অগ্রবর্তী লাইন) উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন এ (প্রায় ১০৫০ আইইউ) ও খনিজ সমৃদ্ধ।
গত ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বারি, বেনারপোতার প্রত্যক্ষ তত্বাবধায়নে হাড়দ্দা এলাকায় কৃষকের মাঠে চালানো গবেষণায় উঠে আসে বিঘা প্রতি ১৩২০০ টাকা খরচ করে বিঘা প্রতি ৯০-১০০ মণ ফলন পাওয়া গিয়েছিল যার তৎকালীন বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৪০,০০০ টাকা।

 
এই ফসলটি মাটির উপরিভাগ সম্পূর্ণরুপে ঢেকে রাখে বিধায় এটি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং লবণাক্ততা (১০-১২ ডিএস/মিটার থেকে কমিয়ে ৪-৫ ডিএস/মিটারে নামানো সম্ভব হয়েছে) উপরে উঠতে দেয় না। এ ফসল জন্মগতভাবেই পরিবর্তনশীল জলবায়ু ও বৈরী পরিবেশ (খরা ও লবণাক্ততা) সহিষ্ণু, চিরসবুজ ও জমি সম্পূর্ণরুপে ঢেকে রাখতে সক্ষম বিধায় সাতক্ষীরার সবচেয়ে লবণাক্ত উপজেলা শ্যামনগরে (বসতবাড়ির ভিটা উঁচু ও বড় হয়) এর লতা উৎপাদনকারী নার্সারি ও মিষ্টি আলু উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যান্য লবণাক্ত উপজেলা যেমন আশাশুনি, কালিগঞ্জ, তালা ও সদরে রোপা আমন এমনকি নাবী রোপা আমন কাটার পরে লবণাক্ত জমিতে সহজেই একটি নিড়ানি, ১-২ টি সেচ ও কোন প্রকার রোগবালাই এর আক্রমণ বিহীন একটি লাভজনক বেষ্টনি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। যা একদিকে বিঘা প্রতি ৪০-৫০ মণ ফলন দিবে ও পরবর্তী ফসলের জন্য পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও লবণাক্ততার মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।
এই ফসলের জীবনকাল ১২০-১৩০ দিন হওয়ায় সহজেই মিষ্টি আলু উঠানোর পর মাত্র একটি চাষ দিয়ে লবণাক্ততা সহিষ্ণু বারি তিল-৩ ও ৪, বারি মুগ-৬, বারি ঢেঁড়স-১, পাট, ইত্যাদি চাষ করে আবার রোপা আমন ধান চাষ করা সম্ভব।
তারা বলেন, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার কৃষক-কৃষাণী ভাই ও বোনের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে কমলা শাসযুক্ত মিষ্টি আলু নিয়ে টকধরফ এর অর্থায়নে ঝটঝঞঅওঘ চৎড়লবপঃ এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আলু গবেষণা কেন্দ্রের (সিআইপি) সার্বিক সহযোগীতায় কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর এর প্রত্যক্ষ তত্বাবধায়নে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বেনারপোতা, সাতক্ষীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও আন্তর্জাতিক আলু গবেষণা কেন্দ্র (সিআইপি) মনে করেন কমলা শাসযুক্ত লবণ সহিষ্ণু মিষ্টি আলুর জাত অত্র এলাকায় চাষ করলে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে ও পুষ্টিগত দিক দিয়ে লাভবান হবেন।