সাতক্ষীরায় ম্যাজিস্টেটের বাসায় কাজের মেয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন । মেডিকেল বোর্ড গঠন। মামলা নিয়ে ধ্রুমজাল


499 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ম্যাজিস্টেটের বাসায় কাজের মেয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদে  মানববন্ধন । মেডিকেল বোর্ড গঠন। মামলা নিয়ে ধ্রুমজাল
আগস্ট ২০, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলামের বাসায় কাজের মেয়ে বর্বর নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে। শিশু নির্যাতন ঘটনার প্রতিবাদ এবং ঘটনার সাথে জড়ীতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিক সমাজ।
এদিকে, বর্বোরচিত এ ঘটনা নিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ নির্যাতনের শিকার মেয়েটির হতদরিদ্র পিতা গোলাম রসুলের কাছ থেকে কম্পিউটার কম্পোজ করা একটি অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়েছে। গোলাম রসুল এ তথ্য নিশ্চিত করলেও ওসি এমদাদ শেখ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এদিয়ে ধ্রুম জালের সৃষ্ঠি হয়েছে। মেয়েটির পিতা গোলাম রসুল জানিয়েছেন, ওই অভিযোগপত্রে ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলামের স্ত্রী তানিশা বেগম ও শ্বাশুড়ি বিউটি বেগমকে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে, বুধবার রাতে মেয়েটির ২২ ধারায় জবানবন্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের নির্দেশে ৪ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা সচেতন নাগরিক সমাজের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসনে জাহিদ জজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নির্যাতনের শিকার বিথীর হতদরিদ্র পিতা গোলাম রসুল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহম্মেদ, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড: শাহ আলম, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড: নূরুল আলম, নারী নেত্রী নাসরিন খান লিপি, সাংবাদিক কল্যান ব্যানার্জি, প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান মাসুম, এজিও পরিচালক ও মানবাধিকার নেতা মাধব চন্দ্র দত্ত, শ্রমিকলগি নেতা হারুন-উর-রশিদ প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে তারা সাতক্ষীরা সদর থানায় অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। এ সময় বক্তারা বলেন, বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলামের বাসা থেকে বর্বর নির্যাতনের শিকার কাজের মেয়ে বিথী কে পুলিশ উদ্ধার করে। ঘটনা একদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও থানায় মামলা রেকর্ড করেনি। ঘটনা নিয়ে যাতে থানায় মামলা না হয় সেজন্য প্রভাবশালী নির্যাতনকারীরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। অবিলম্বে ওই ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলাম, তার স্ত্রী তানিশা বেগম ও শ্বাশুড়ি বিউটি বেগমকে গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। তারা আরও বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা করলে সাতক্ষীরাতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এদিকে, বুধবার বিকেলে মেয়েটি ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলামের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধারের পর রাতেই ২২ ধারায় তার জবানবন্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট শিমুল কুমার বিশ্বাস মেয়েটির জবানবন্ধি রেকর্ড করেন। এদিকে, নির্যাতনের শিকার কাজের মেয়ে বিথীর পিতা গোলাম রসুল খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে মাগুরার শালিখা থেকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পৌছে তার মেয়ের সাথে দেখা করেছেন। গোলাম রসুল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়ে বিথীর শয্যাপাশে বসে বলেছেন, আমার মেয়ের উপর যারা নির্যাতন চালিয়েছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমি এ ব্যাপারে বাদি হয়ে মামলা করতে চাই।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক লস্কর তাজুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: রফিকুল ইসলাম মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় তাদের সামনেই নির্যাতনের শিকার বিথী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ‘নার্সের সিট রুমে’ বেডে শুয়ে তার উপর বর্বর নির্যাতনের লোমহর্ষক কাহিনী বর্ননা করেন। মেয়েটি বলেন, ১ বছর ২ মাস আগে সাতক্ষীরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতের পিয়ন,মেয়েটির প্রতিবেশি চাচা সোহরাব হোসেন সাগরের মাধ্যমেই বিথীকে নিয়ে আসা হয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলামের বাসায়। মেয়েটিকে আনার পর ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলাম ঢাকায় তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ির বাসায় পাঠিয়ে দেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির ২ নং রোডের ৬৪ নং বাড়িতে নূরুল ইসলামের শ্বশুর নুরু সাহেব ও শ্বাশুড়ি বিউটি বেগম থাকেন। ঢাকার ওই বাসায় প্রায় ১১ মাস থাকাকালীন সময়ে মেয়েটির উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলামের শ্বাশুড়ি বিউটি বেগম  প্রায় হাত ,পা, মুখ বেধে নির্যাতন চালাতো। তার গায়ে গরম খুঁনতি ও রুটি তৈরীর গরম তাওয়া দিয়ে স্যাকা দেয়া হতো। রুটি বেলা বেলুন দিয়ে তার শরীরের অসংখ্য স্থানে পিটিয়ে জখমকরা হয়েছে। মুখে খামচে দেয়া হতো। বাথরুমে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রাখ হতো। সকালে ছোট ২ থানা রুটি এবং রাতে পঁচা পান্তা ভাত খেতে দেয়া হতো তাকে। খাওয়ার অভাবে তার কঙ্কালসার শরীর হয়েছে। মেয়েটি আরও জানায়, বিউটি বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রায় মাছ,মাংস, পোলাও-বিরানী রান্না করলেও মেয়েটিকে তা খেতে দেয়া হতো না। দুপুরে কোন খাবার তাকে দেয়া হতো না। নির্যাতনের সময় যাতে মেয়েটি চিৎকার না করতে পারে সেজন্য তার হাত ও মুখ কাপড় দিয়ে বেধে রাখা হতো। মেয়েটি তার পিতার সাথে কথা বলতে চাইলে তাকে বলতে দেয়া হতো না। ১ বছর ২ মাস একটি বারের জন্য বিথীর পরিবারের সাথে দেখা বা কথা বলতে দেয়া হয়নি তাকে। মেয়েটি বলেন, প্রায় আড়াই মাস আগে ঢাকা থেকে ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলাম তার সাতক্ষীরার পলাশপোলস্থ ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসেন। মেয়েটি বলেন, আমি আর ওই ম্যাজিস্টেট খালুর ও তার স্ত্রী নাতাশা খালার বাসায় আর যাবো না। গেলে ওরা আবারও আমাকে মারধর করবে। নির্যাতনের শিকার দশ বছর বয়েসের মেয়েটির এধরণের নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ননা শুনে উপস্থিত ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক লস্কর তাজুল ইসলাম , ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: রফিকুল ইসলামসহ সেখানে উপস্থিত সিনিয়র একাধিক সাংবাদিক , চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ সদস্য শিউরে ওঠেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বিথীর সুচিকিৎসার জন্য সার্জারী বিভাগের চিকিৎসক ডা: শরিফুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের অপর সদস্যরা হলেন, মেডিসিন বিভাগের ডা: আসাদুজ্জামান, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: শামছুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা: ফরহাদ জামিল। গঠিত মেডিকেল টিমকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেয়েটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিকেল রিপোর্ট দেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: রফিকুর ইসলাম নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালেই মেডিকেল টিমের সদস্যরা মেয়েটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। মেডিকেল টিমের সদস্য শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: শামছুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা: ফরহাদ জামিল জানান, সকালে তারা মেয়েটির দেখেছেন। মেয়েটির শরীরে একাধিক ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। বড় ধরনের ৪টি ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। এরমধ্যে পিঠের বামপ্রান্তে যে ক্ষতটি রয়েছে সে-টি গরম কিছু দিয়ে স্যাকা দেয়ার কারণেই দগদগে ঘা হয়েছে। কতো দিন আগের ক্ষত জানতে চাইলে ওই চিকিৎসক বলেন, পিঠে যে বার্ণ রয়েছে তা সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ আগের ঘটনা। অন্যান্য ক্ষত গুলো আগের বলে মনে হচ্ছে।তিনি বলেন, মেয়েটি মানষিক চাপে রয়েছে। তার মানষিক চিকিৎসাও প্রয়োজন। গঠিত মেডিকেল টিমের সদস্যরা এক সাথে বসেই মেডিকেল রিপোর্ট তৈরী করবেন। এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন তারা।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টা ২০ মিনিটের সময় নির্যাতিত বিথীর হতদরিদ্র পিতা গোলাম রসুল জানান, বিকেল ৩ টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ কম্পিউটার কম্পোজ করা একটি অভিযোগপত্রে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। তবে ওই লিখিত অভিযোগের কোন কপি তাকে দেননি। অভিযোগপত্রে ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলামের স্ত্রী তানিশা বেগম এবং শ্বাশুড়ি বিউটি বেগমকে আসামী করা হয়েছে বলে দেখেছি। পুলিশ যে অভিযোগপত্রে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন সেখানে ম্যাজিস্টেট নূরুল ইসলামকে আসামি করা হয়নি বলে গোলাম রসুল জানান।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, মেয়েটির পিতা বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরা পৌছে তার মেয়েকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি বলেন, বুধবার মেয়েটি উদ্ধারের পর সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। যার জিডি নং-৯৪১। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়েটির পিতা গোলাম রসুলের কাছ থেকে কম্পিউটার কম্পোজ করা একটি অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন কি-না ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটির পিতা গোলাম রসুলের কাছ থেকে কোন অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়নি। তবে অন্য কেউ নিয়েছে কি-না খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু মেয়েটি ২২ ধারায় নির্যাতনের ব্যাপারে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেটের কাছে মুখ খুলেনি বিধায় মেডিকেল রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কিছু করা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত. কাজের মেয়ে বীথি (১০) কে  বুধবার বিকালে সাতক্ষীরার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল ইসলামের ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অসুস্থ্য অবস্থায় তাকে সাতক্ষীরা সদর  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১টা থেকে মেয়েটি বাড়ির ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ‘পানি দাও, পানি খাব’ বলে আকুতি জানালে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। কিন্তু ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় তারা তাকে সাহায্য করতে পারেননি। পরে প্রতিবেশীরা বিভিন্ন স্থানে জানাজানি করলে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। এরপরও   ঘন্টা দেড়েক পুলিশকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে সাতক্ষীরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিতাই চন্দ্র সাহা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নম্বর-১ শিমুল কুমার বিশ্বাস, সাতক্ষীরা সদর এএসপি সার্কেল আনোয়ার সাঈদসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এলে ঘরের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এসময় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তার গায়ে পোড়া, ছ্যাকা এবং আঘাতের ৩০টিরও বেশী চিহ্ন রয়েছে। তবে কাজের মেয়ে বীথি ( ১০)  তার ওপর কোন ধরনের নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছে ।  এমনকি  দগদগে ক্ষতচিহ্নগুলো দেখাতেও বার বার আপত্তি জানায় সে।
সাতক্ষীরা শহরের টাউনবাজার ব্রীজের বিপরীতে পলাশপোল মহল্লায় মো: আকরাম হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন সাতক্ষীরা আদালতের জুডিসিয়াল  ম্যাজিস্ট্রেট,চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙা উপজেলার মো: নূরুল ইসলাম। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, তিনি ও তার স্ত্রী নাতাশা প্রায়ই শিশুটির ওপর নির্যাতন করে থাকেন। প্রতিবেশীরা মেয়েটির চিৎকার শুনে এগিয়ে এলেও তার সঙ্গে তারা কথা বলতে দিতেন না। দিনভর ঘরের দরজা বন্ধ থাকতো ।  মেয়েটির পিতা বা স্বজনদের সাথেও মোবাইলে কথা বলতে দেয়া হতো না শিশুটিকে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকমত খাবারও দেয়া হতো না মেয়েটিকে। না খেয়ে তার শরীর যেনো ন্যুয়ে পড়েছে। মেয়েটি এতোটাই দুর্বল যে, তার কথা বলা বা ঠিক মতো চলারও শক্তি নেই।
মেয়েটি তার নাম বিথী ইসলাম এবং বাবার নাম গোলাম রসুল উল্লেখ করে জানায়, মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বড় আমিয়ান গ্রামে তার বাড়ি। ক্লাস থ্রি তে পড়াকালীন তার বাবা তার মাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। তার প্রতিবেশি কাকা পরিচয়ের সাতক্ষীরা চীফ জুডিশিয়াল আদালতের কর্মচারী সোহরাব হোসেন সোহাগ তাকে সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল ইসলামের বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসাবে নিয়োগ করান।