সাতক্ষীরায় যানজটে নাকাল জেলা শহরের মানুষ !


295 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় যানজটে নাকাল জেলা শহরের মানুষ !
অক্টোবর ১৯, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

১০ হাজার ইজি বাইক থামিয়ে দিয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা

এম কামরুজ্জামান :
সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের গতি থামিয়ে দিয়েছে ১০ হাজার ইজিবাইক আর ব্যাটারিচালিত ভ্যান। অবৈধ এই দুটি যানবাহন যানজটের পাশাপাশি প্রায় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে নাগরিক জীবন বিষিয়ে তুলেছে। গায়ে গায়ে লেগে থাকা ইজি বাইকের জন্য ফুটপথ বিহীন রাস্তায় হাঁটা-চলা করাই এখন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত কয়েক বছরে অনভিজ্ঞ চালকের বেপরোয়া এসব ইজিবাইকের চাপায় চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, যুবক, শিশুসহ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত এসব ভ্যানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার পর কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও অজ্ঞাত কারনে বার বার ফিরে আসে সেই পুরনো দৃশ্য।

সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, ইজিবাইকের চেয়ে আরো বেশি ভয়ংকর উপযুক্ত ব্রেকবিহীন ব্যাটারিচালিত ভ্যান। ঝুঁকিপূর্ণ ইঞ্জিনচালিত ভ্যান পুরো পৌর শহর জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। হাঁটু পর্যন্ত লুঙ্গি উঠিয়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত নানা বয়সের চালক রিকশায় হ্যান্ডেলে এক পা তুলে বেপরোয়া গতিতে যাত্রী বহন করছে। প্রতিদিন প্রায় ১০টি নতুন (ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইজিবাইক) সাতক্ষীরা পৌর এলাকার রাস্তায় নামছে।

সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব অবৈধ যান চলাচল বন্ধে কয়েক দফা সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে বিপজ্জনক যান হিসেবে চিহ্নিত করে পৌর এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে মাইকে প্রচারও চালিয়েছে, কিন্তু এসব ভ্যানের চাকা থামেনি। মাঝেমধ্যে ট্রাফিক পুলিশ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে ‘চোর পুলিশ’ খেলা করে। পুলিশ ব্যাটারি খুলে নেয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভ্যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। কিন্তু দু-দিন পরই ‘যাহা লাউ, তাহাই কদু’ এর মতো অবস্থা। এদিকে সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ইজিবাইক চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করায় শহরে যানজটের নিরসন হচ্ছে না।

সাতক্ষীরা সরকারি গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী পূজা রানী সরকার বলেন, উল্টো পথে ‘ইজিবাইক এসে তার জেঠাকে চাপা দেয়। তিনি এখন পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইটাগাছা এলকার আকরাম আলী জানান, যানজটের কারনে শহরে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত দুই মাস আগে তার সামনেই ইজি বাইক ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ওষুধ কোম্পানীর মার্কেটিং অফিসার নিহত হয়।
কলেজ ছাত্রী রেহানা পারভীন বলেন, ‘চার্জার ভ্যান উঠলে বুক কাঁপে। কিন্তু উপায় নেই। ফুটপথ না থাকায় পায়ে হাটাও যায় না। যে কারণে বাধ্য হয়ে চার্জার ভ্যানে উঠতে হয়।

সাতক্ষীরা সচেতন নাগরিক কমিটির নেতা এ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, ‘ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান সাতক্ষীরা শহরের যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারন। এটি পৌর শহরের ঐতিহ্যকেও নষ্ট করে দিয়েছে। এ দুটি বাহন নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। জরুরি ভিত্তিতে এর এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকীন আহমেদ চিশতি বলেন, ‘ সাতক্ষীরা পৌর এলাকার মধ্যে ৬০০ ইজিবাইক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া আছে। । আর যেসব ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি দেওয়া আছে তার রঙ হলুদ। কিন্তু তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি ইজিবাইক পৌর এলাকায় চলাচল করছে। আর ইঞ্জিন বা ব্যাটারীচালিত ভ্যান সবই অবৈধ। এসব নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্ট্রি হচ্ছে। এটা নিয়ন্ত্রনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। পৌরসভা সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে’।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভায় একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। সাতক্ষীরা জেলা শহরকে একটি বাসযোগ্য শহরে পরিনত করতে ‘কিøন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’ নামে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে। আশাকরছি অচিরেই জেলা শহরের যানজটসহ সব ধরনের পরিবেশ ফিরে আসবে’।

#