সাতক্ষীরায় যৌতুক মামলায় পুলিশ কারাগারে


344 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় যৌতুক মামলায় পুলিশ কারাগারে
নভেম্বর ৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা :
প্রেম অত:পর বিয়ে, মাঝখানে আদায় যৌতুকের ২ লাখ টাকা। সে টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার পর আবার ঘুন ঘুন করে যৌতুকের গান গাইতে গাইতে শ্বশুরের কাছে দাবী করা হয় আরও দেড় লাখ টাকা। শুরু হয় দাম্পত্ত জীবনে বিরোধ। এরই মধ্যে বিয়ে গোপন করে পুলিশে চাকুরি গ্রহণ। চাকুরি গ্রহণের পরই স্ত্রীকে তালাক। এবার বিচারের জন্য আদালতে পা বাড়ায় স্ত্রী। সবই যেন নাটকের মত মনে হলেও বাস্তবে রুপ দিয়েছে সাতক্ষীরা সদরের ইন্দিড়া গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে পুলিশ সদস্য মোশাররফ হোসেন। অবশেষে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার কারাগারে গিয়ে ঘটনার অনেকটাই পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন এই পুলিশ সদস্য।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, সদরের আগরদাড়ি ইউনিয়নের ইন্দিড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও প্রতিবেশি রমজান আলীর মেয়ে রোকসানা সূলতানার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই জেরধরে তারা আদালতে এসে বিগত ১১ সালের ২৭ এপ্রিল এফিউডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে। পরে এফিউডেভিট অনুযায়ী  ৩০ হাজার টাকার কাবিনও প্রস্তুত করে স্থানীয় মৌলুভির কাছে। চলছে ঘর সংসার। ইতোমধ্যে ২০১২ সালে পুলিশ সদস্য হিসেবে চাকুরিও গ্রহণ করে মোশাররফ। চাকুরিতে কনফার্ম হওয়ার পর স্ত্রী রোকশানা সুলতানানে আর ভাল লাগেনি মোশাররফের। এবার হাত বাড়ায় অন্যের স্ত্রীর দিকে। খুলনায় দায়িত্ব পালন কালে পরিচয় হয় খুলনা জেলার কয়রা থানার খিরোল গ্রামের ইব্রাহিমের স্ত্রী শিরিনা আক্তার রাণীর দিকে। তাকে পটিয়ে পাটিয়ে স্বামী ইব্রাহিমের কাছ থেকে তালাক করিয়ে ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিড়িতে বসেন আলোচিত এই পুলিশ সদস্য মোশাররফ হোসেন। রাগে প্রথম স্ত্রী রোকসানা সুলতানা গেল বছরের প্রথম দিকে সোজা চলে আসে সাতক্ষীরা আদালতে।  ঠুকে দেন যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় একটি যৌতুক মামলা। মামলা নং-২৬৩/১৫। বিজ্ঞ আদালত তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন সাতক্ষীরা সদর থানার ওসিকে।

ওসির পক্ষে এস আই হিমেল তদন্তের নামে নতুন করে নাটক তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বাদিনীর কাছ থেকে দাবীকৃত সুবিধা না পেয়ে আসামীর নিকট থেকে সেই সুবিধা গ্রহণের পর আসামীর পক্ষে ভূয়া স্বাক্ষীর ঠিকানা দেখিয়ে মিথ্যা সাজানো প্রতিবেদন দাখিল করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে বাদিনীর নারাজি আবেদনের পর স্বাক্ষীদের ভূয়া ঠিকানা বাদিনীর আইনজীবি প্রমান করায় বিজ্ঞ আদালত দ্বিতীয় দফার শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে আসামী পুলিশ সদস্য মোশাররফের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন।

অবশেষে গেল বছরের জানুয়ারী মাসে দায়েরকৃত মামলার জটিলতা ছাড়িয়ে চলতি বছরের শেষের দিকে অর্থাৎ ৮ নভেম্বর গতকাল মঙ্গলবার ধার্যদিনে আসামী সাতক্ষীরা অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ বিচারক কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, স্ত্রী রোকসানা কর্তৃক যৌতুক মামলা দায়েরের পর স্বামী পুলিশ সদস্য মোশাররফ তার মা সাজিদাকে দিয়ে রোকসানার পিতা রমজান আলীর নামে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মিথ্যা ধর্ষন মামলা দায়ের অতপর দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিষয়টি আদালত থেকে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ আলোচিত ছিল। এঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্য কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বাদিনীকে নানাভাবে হুমকী দেয়া হচ্ছে বলে গতকাল দুপুরে সাতক্ষীরা আদালত চত্বরে দাড়িয়ে জানিয়েছেন গনমাধ্যম কর্মীদের।