সাতক্ষীরায় যৌনকর্মীদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে এ্যাডভোকেসী সভা


494 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় যৌনকর্মীদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে এ্যাডভোকেসী সভা
আগস্ট ২৮, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না,সাতক্ষীরা।
আমরা সামাজের কাছে অবহেলিত এবং ঘৃনিত। আমাদের কোথাও কোন যায়গা হয়না। আমাদেরকে কেউ যায়গা দিতে চায়না। আমাদের কথা কেউ ভাবেনা। সাতক্ষীরায় আমরা পাচশ’র বেশি যৌনকর্মী রয়েছি। প্রত্যেকের অবস্থা একই রকম। করোনাকালে আমরা বড়ই অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছি। আগেরমতো আমাদের কাষ্টমার হয়না তাই আমাদের ইনকাম একেবারে কমে গেছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাবো আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করুন। আমাদেরও পরিবার এবং সন্তান আছে। বর্তমানে আমরা তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। আমাদের আপনারা বাচান-আমরা বাচতে চাই। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা কর্মরত সংগঠন লাইট হাউস আয়োজিত কোভিড ১৯ঃ যৌনকর্মীদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে আমাদের ভাবনা বিষয়ক এক এ্যাডভোকেসী সভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলছিল একজন যৌনকর্মী।

করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় সাতক্ষীরা লাইট হাউসের দরিদ্র, কর্মহীন হিজড়া ও এমএসডব্লিউ(যৌনকর্মীদের) অধিকার এবং মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে সারা বিশে^র মতো বাংলাদেশও কোভিড ১৯ (করোনা ভাইরাস) মহামারী মেবাবেলা করছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব দেশের দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বিশেষ করে যৌন সংখ্যালঘু (নারী যৌনকর্মী) জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক। লাইট হাউস সারা দেশের মত সাতক্ষীরাতেও করোনা মহামারী মোকাবেলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অন্যন্য সেবার পাশাপাশি এই মহামারী সময়ে লাইট হাউস তাদের খাদ্য নিরাপত্তাসহ তাদের জীবন ও জীবিকা নিয়েও কাজ করছে।

এ্যাডভোকেসী সভার সভাপতি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক দেবাশিস সরদার যৌনকর্মীদের সহযোগীথার হাত বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন তাদের কোন তালিকা আমাদের কাছে নেই। আজ আমরা তাদের বিষয়ে জানতে পারলাম। আসলে সেক্স ওয়ার্কারদের জন্য আমাদের আলাদাভাবে কোন বরাদ্ধ নেই। কিন্তু সমাজসেবা অধিদপ্তরের কুষ্টিয়াতে সামাজিক প্রতিবন্ধীদের একটা আবাসন ও পূর্নবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সীট খালি আছে।সেখানে থাকা খাওয়াসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সেখানে যদি কেউ যেতে চায় তাহলে আমরা ব্যবস্থা করে দিতে পারবো। সামাজিকভাবে পরিবর্তন আনতে হবে। একদিনের শিশুদের জন্য খুলনায় বেবি হোম রয়েছে তাদের শিশু সন্তান যদি সেখানে দিতে আগ্রহি হয় তাহলে সেটাও বন্দোবস্ত করা যাবে।এছাড়া ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে তাদেরকে স্বাবলম্বী করার সুযোগও রয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ,কে,এম শফিউল আজম বলেন ওদেরকে সাপোর্ট দেওয়া প্রয়োজন। তারা আমাদের সমাজের একজন। তারা আসলেই অবহেলিত এবং ঘৃনিত হয়ে আমাদের সমাজে বসবাস করে আসছে। ক্ষুধা মানুষকে অন্যায় অপরাধসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে ফেলতে পারে। তাদেরকে বাচাতে কিভাবে তাদেরকে সহযোগীতা করা যায় সেবিষয়ে এখনই ভাবতে হবে এবং সরকারী -বেসরকারীভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সভায় বিশেষ অতিথি জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্ত পুলক কুমার চৌধুরী বলেন পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠির পাশাপাশি সেক্সওয়ার্কারদের হেল্থ সাপোর্ট দেয়া প্রয়োজন। লাইট হাউস কনসোটিয়ামের উপ-নির্বাহী প্রধান কে,এস,এস, তারিখের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেন এর এস,আর ম্যানেজার সেলিমা সুলতানা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ রোকনুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ আজিবুর রহমার, করবী সুলতানা, বরসা’র সহাকরী পরিচালক মোঃ নাজমুল আলম মুন্না এবং লাইট হাউস ম্যানেজার মোঃ সনজু মিয়াসহ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ।