সাতক্ষীরায় রঙিন মাছ উৎপাদন করে সাফল্য অর্জন


1111 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় রঙিন মাছ উৎপাদন করে সাফল্য অর্জন
অক্টোবর ২২, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

রাহাত রাজা :
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বজ্্রবক্্র গ্রামের জেসমিন সুলতানার স্বামী সাইফুল্লাহ গাজী ছিলেন গার্মেন্টকর্মী । কাজ করতেন রাজধানীর মিরপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ।মাস শেষে যা টাকা বেতন পেতেন ,তা থেকে বাসা ভাড়া দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা দিয়ে সংসার চলত না ।

একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিলেন মাছ চাষের । ফিরে এলেন গ্রামে । পরেশ নামে এক বন্ধু রঙিন মাছের চাষ করতেন । তাঁর কাছ থেকে ছয় জোড়া ব্্রড মাছ (অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য রঙিন মাছ বিশেষ)  সংগ্রহ করে শুরু করলেন চাষ । সেই ছয় জোড়া মাছ এক যুগ পর এখন কয়েক লাখে গিয়ে ঠেকেছে । সাইফুল্লাহ -জেসমিন  দম্পতির মূলধন এখন ২০ লাখ টাকা ।

লিজ নেওয়া পুকুরের সংখ্যা ১৬ টি । এসব পুকুরে বিভিন্ন জাতের রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে ।
কর্মসংস্থান হয়েছে ২০ জন শ্রমিকের । জেসমিন সুলতানা বললেন- ‘‘২০০৪” সালে মাত্র ছয় জোড়া পোনা মাছ দিয়ে চাষ শুরু করি । ব্যবসা বাড়াঁতে তখন হাতে টাকা ছিলো না  ।
পরে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন নিয়ে মাছ চাষ সম্প্রসারণ শুরু করি । এখন আমি একজন সফল উদ্যোক্তা । আমার মাছের খামার থেকে ঢাকার কাঁটাবন ,খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রঙিন মাছ যাচ্ছে ।,
রঙিন মাছ চাষ কেবল সাতক্ষীরা অঞ্চলেই সিমাবদ্ধ নেই । ফেনী  , ময়মনসিংহ  ও ফরিদপুরও বাণিজ্যিকভাবে  রঙিন মাছের চাষ হচ্ছে । এ ছাড়া অনেক বিকল্প কর্মসংস্থান হিসাবে বাসার ছাদেও রঙিন মাছের চাষ করে তা বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করছে ।
রঙিন মাছের জন্য দেশের সবচেয়ে বড় বাজার হলো রাজধানীর কাঁটাবন অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য রঙিন মাছ আগে পুরোটাই ছিল আমদানি নির্ভর । এখন দেশের বিভিন্ন প্রজাতির  রঙিন মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে । ফলে ধীরে ধীরে সেই বিদেশিনির্ভরতা  কমে এসেছে ।  আর

দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় শৌখিন মানুষ দেশীয় রঙিন মাছের দিকেই ঝুঁকছে ।
বাংলাদেশে অ্যাকুয়ারিয়ামে রঙিন মাছ ব্যাপক জনপ্রিয় । শৌখিন মানুষ বাসা বাড়িতে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অ্যাকুয়ারিয়াম রাখে । শপিং মল, হোঁটেল  রেস্টুরেন্ট এমনকি  দোকানেও এখন অ্যাকুয়ারিয়ামের ব্যবহার বেঁড়েছে । ব্যবসায়ীরা  বলেন ,অ্যাকুয়ারিয়াম আগে উচ্চবিত্তদের বাড়িতে বেশি দেখা যেত । সময় পাল্টেছে , এখন মধ্যবিত্ত এমনকি নি¤œবিত্তরাও শখের বশে বাসা বাড়িতে অ্যাকুয়ারিয়াম রাখে । দিন যত যাচ্ছে এর ব্যবহারও ততই বাড়ছে । অ্যাকুয়ামিয়ামের রঙিন মাছ সংগ্রহকারী বলেন দেশে উৎপাদনের সুবাদে অ্যাকুয়ারিয়ামের রঙিন মাছ আমদানি এখন অনেকটাই কমে এসেছে ।
এই খাতে দেশ ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণ  হচ্ছে ।
এটি বড় একটি সুখবর । কারণ আমরা

চাই দেশের টাকা দেশেই থাকুক । তিনি জানান- এখন অনেক শিক্ষার্থীও রঙিন মাছের উৎপাদন করে তাঁদের কাছে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে । এতে করে শিক্ষার্থীরাও নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে । সাইফুল্লাহ গাজী জানান , পুকুরের পরিবেশ একটু ভালো রাখলে , চুন ব্যবহার করলে , স্বচ্ছ পানি থাকলে এবং জীবাণুমুক্ত পানি হলে সেখানে রঙিন মাছ উৎপাদন করা যায়, কিচিং গোরামি , মিল্কি কই কার্প , কই কার্প , কমিটিসহ ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির রঙিন মাছ উৎপাদন হয় । প্রতিটি মাছের দাম সর্বনি¤œ ১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পযান্ত । তিনি বলেন সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে  ঋণ পেলে এ ব্যবসা আরো সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে । আহছানিয়া মিশন থেকে এখন এক লাখ ২০ । তাঁর পুকুর গোল্ডোন গোরামি , ব্লু গোল্ডেন হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি । সরকারের পক্ষ থেকে একটু সহযোগিতা পেলে ব্যাপকভাবে চাষ করে রঙিন মাছ বিদেশে রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে ।

বিদেশ থেকে রঙিন মাছ আমদানিকারক পপুলার অ্যাকুয়ারিয়াম সেন্টারের অংর্শীদার শহীদুল ইসলাম বলেন , মালেশিয়া ,থাইল্যার্ন্ড ও সির্ঙ্গাপুর থেকে  রঙিন মাছ আমাদানি করা হয় । আগে আমরা মাসে ১০০ রঙিন মাছের কার্টন আমদানি করতেন । এখন ৩০ থেকে ৪০ কার্টন মাছ আমদানি করছি । কারণ  দেশেই এখন রঙিন মাছ উৎপাদন হচ্ছে । দামও তুলামূলক অনেক কম । বিদেশের এক জোড়া গোর্ল্ড ফিশের দাম পড়ে দুই হাজার টাকা  । চিংড়ির জোড়া ৬০০ টাকা । এর বেশি দামও আছে । তা ছাড়া ওই সব রঙিন মাছের খাবারের দামও বেশি । তাই মানুষ এখন দেশে উৎপাদত রঙিন মাছ বেশি কিনছে । শহিদুল ইসলাম জানান , দেশে অ্যাকুয়ারিয়াম ও রঙিন মাছের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে । আগে রাজধানীতে ৩৪ টি দোকান ছিল । এখন দোকানের সংখ্যা শতাধিক । তা ছাড়া ফার্নিচারের দোকান গুলোতেও অ্যাকুয়ারিয়াম তৈরি হচ্ছে।