সাতক্ষীরায় রাইটসের সংবাদ সম্মেলন : শিশু পাচার ও সুরক্ষায় সামাজিক সচেতনতা জরুরি


291 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় রাইটসের সংবাদ সম্মেলন : শিশু পাচার ও সুরক্ষায় সামাজিক সচেতনতা জরুরি
জুন ২৫, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
শিশু পাচারের মতো সামাাজিক ক্ষত কিভাবে দুর করা যায় তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবলমাত্র আইন শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারেনা । শিশু সুরক্ষায় নাগরিক সমাজের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে। এর জন্য দরকার সামাজিক সচতেনতা।  যতো প্রতিকূলতাই  থাকুক সামজিক সংগঠন সমূহ আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হলে সমাজ থেকে এই অভিশাপ দুর করা সম্ভব।

শনিবার বিকালে সাতক্ষীরার ক্যাথলিক  মিশন  মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা তুলে ধরেন বেসরকারি সংস্থা রাইটস পরিচালিত শিশু পাচার রোধ বিষয়ক প্রকল্প ম্যানেজার উম্মে কায়সার সুমনা। এ সময় বেসরকারি সংস্থা  ক্রিসেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক মো.আবু জাফর সিদ্দিকী ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে  সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি  এনটিভি ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে নানা উপাত্তের সাথে উঠে আসে বাল্য বিবাহ এবং পাচার প্রবণতার কথা। মা ও শিশু পাচার এবং তাদের পরিণতি কি তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা। প্রকল্প ম্যানেজার বলেন শিশু সুরক্ষায় প্রথম কাজ  শিশুর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা। তাদেরকে স্কুলমুখী  করে গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন শিশুর পুষ্টির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। শিশুকে যাতে  কোনোভাবেই কেউ শ্রমে বিনিয়োগ করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। রাইটস সাতক্ষীরা , খুলনা ও যশোর জেলায় শিশু পাচার রোধে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন এর মাধ্যমে অনেকটাই আশাব্যঞ্জক অর্জন হয়েছে। তিনি জানান শিশু পাচার রোধে জেলা পর্যায়ের পরামর্শ সভা, স্কুল অভিযান, সংবাদ সম্মেলন  , স্কুল শিক্ষকদের প্রশিক্ষন , বেসরকারি সংস্থা প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষন , পুলিশ , আইনজীবি ও সংবাদ কর্মীদের নানা প্রশিক্ষনের আওতায় এনে পাচার রোধ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি জুন পর্যন্ত  ছয় মাসে এক হাজার ছয়শত ছেলে শিশু , কন্যা শিশু ও নারীপুরুষ উপকৃত হয়েছে উল্লেখ করে সুমনা আরও বলেন এই প্রকল্প ২০১৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর ও বলবৎ থাকবে। তিনি জানান চলমান এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২১০ জন স্কুল শিক্ষক, ১২০ জন সংবাদকর্মী এবং ১৪৫ জন আইনজীবি ও পুলিশ যথাযথ প্রশিক্ষন লাভ করেছেন এবং  তা বাস্তবে প্রয়োগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয় বিদেশে পাচার হয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার ৬৭৯ নারীকে উদ্ধার করে তাদের পুনর্বাসনে রাইটস ভূমিকা রেখেছে। তাদের মধ্যে ২৭৩ জনকে আইনি সহায়তা দিয়ে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া সহিংসতার শিকার আরও ৭৫ নারী ও শিশুকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সুমনা আরও বলেন চাকুরির জন্য পাচারের শিকার ১৭৬  যুবককে ইরান, জর্ডান, সৌদি আরব , থাইল্যান্ড ,দুবাই ও ভারত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কমপক্ষে ২১৫ জন নারীকে তাদের জীবিকা অর্জনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে পাচার ও সহিংসতার শিকার এমন পাঁচটি মামলায় আসামিরা সাত থেকে কুড়ি বছর সাজা ভোগ করেছেন  বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া এ ধরনের ৭২০টি ঘটনার  সত্যতা  উদঘাটন করে সে সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করছে রাইটস।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে প্রকল্প ম্যানেজার উম্মে কায়সার সুমনা আরও বলেন শিশু পাচার রোধ ও শিশু সুরক্ষায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের অগনিত  নারী পুরুষ, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবি,পুলিশ , সাংবাদিক এবং সামাজিক নেতাদের সাথে কাজ করেছে রাইটস। এমনকি ২০ জন ছাত্রকেও প্রশিক্ষন  দিয়ে কর্মক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি ।