সাতক্ষীরায় রোয়ানুর প্রভাবে ঝড়ো বাতাস-বৃষ্টিপাত বাড়ছে


693 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় রোয়ানুর প্রভাবে ঝড়ো বাতাস-বৃষ্টিপাত বাড়ছে
মে ২১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
সাতক্ষীরায় রোয়ানুর প্রভাবে গত রাত থেকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে বাতাসের গতিবেগ বাড়ছে। বাড়ছে বৃষ্টিপাতও। তবে ঝড় ও বৃষ্টি দুপুরের পরে আরো বাড়তে পারে বলে সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাজেদুল হক জানান। অন্যদিকে, উপকূলীয় এলাকাজুড়ে মাইকিং করে লাল পতাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে থাকা ট্রলার ও জেলেদের নৌকাগুলোকে নিরাপদ স্থানে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলায় অবস্থিত ১৩২টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানান, জেলা শহরসহ প্রত্যেক উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে। এ ছাড়া মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লাল পতাকা উড়িয়ে জনগণকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালি ইউনিয়নের সাইক্লোন সেন্টার খুলে গ্রাম পুলিশ বসানো হয়েছে।
সূত্র জানান, সিপিপির টিম লিডার কর্তৃক প্রচারিত ঘুর্ণিঝড়ের বার্তা সমজিদে প্রচার করার জন্য বলা হয়। সাইক্লোন সেল্টারে পর্যপ্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ রাখা হচ্ছে। প্রত্যেক উপজেলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট ও সিপিপি বাহিনীকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলায় প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ও পানি মজুদ রাখা হয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের সাথে গবাদিপশু সাথে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে শনিবার সকাল থেকেই শহরসহ সমগ্র জেলায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। বৃষ্টি অবিরাম চলছে। বৃষ্টির সাথে ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সাথে সাথে বাতাসও বইতে থাকে।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত জেলায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি আরো ২/৩ দিন থাকতে পারে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম জানান, স্কুল কলেজসহ উপজেলার ৮৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গাবুরা, পদ্মপুকুর, মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালিতে বিকেল থেকেই লাল পতাকা উড়িয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাইক্লোন সেন্টারে গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার খান জানান, জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। যে কোন সময় যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে পর্যপ্ত খাদ্য, নগদ অর্থ আছে। পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।