সাতক্ষীরায় শিবির নেতা, বিবাহিত ও ব্যবসায়ীদের দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ !


1582 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় শিবির নেতা, বিবাহিত ও ব্যবসায়ীদের দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ !
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ বিশেষ প্রতিনিধি ॥
——————–
সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের কমিটিতে ছাত্র নেই। কমিটিতে অছাত্র ও বিবাহিতদের রাম-রাজত্ব। সেই সাথে এক সময়কার শিবির নেতাও হয়েছেন বর্তমানে ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা। সাতক্ষীরা জেলার কালিগজ্ঞ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি শেখ শাওন আহম্মেদ সোহাগ। এই সোহাগ ছিলেন শিবিরের অন্যতম ক্যাডার।
কখনো বিদ্যালয়ের বারান্দায় যায়নি কালিগজ্ঞ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠণিক সম্পাদক খায়র”ল বাসার। সভাপতি গৌতম লস্কর বিয়ে করেছেন অনেক আগেই।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিবাহিতদের দিয়ে চলছে সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলার ছাত্রলীগের সকল ইউনিটের কার্যক্রম। এতে একদিকে যেমন ত্যাগী পরীক্ষিত ছাত্র নেতারা বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না।
চাকরীজীবি, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, অছাত্র ও বিবাহিতদের দিয়ে চলছে মেয়াদোত্তীর্ন কমিটি। এছাড়া সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি বর্তমান ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা। এছাড়াও রয়েছে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে টাকার বিনিময়ে শিবির নেতাকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছে। এতে করে চরম হতাশা ও অসন্তোষ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে।
২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বরে এস.এম. মার”ফ তানভীর হুসাইন সুজনকে সভাপতি ও এহসান হাবীব অয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্যের একটি আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এক বছর পরে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট এক বছরের মেয়াদী পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালিন সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। এক বছরের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয় এই কমিটির। অথচ এই কমিটি বর্তমানে সাড়ে চার বছরের অধিক সময় পার করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন বিয়ে করেছেন গত এক বছরেরও বেশী সময় আগে। সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তার একটি মেয়ে রয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির ভোমরা স্থলবন্দরে মেসার্স জেবা এন্টারপ্রাইজ নামের ভোমরা কাস্টমস্ সিএন্ডএফ এর এজেন্ট ব্যবসা রয়েছে। যেটা নিয়ে তিনি সব সময় ব্যস্ত সময় পার করেন। তাছাড়া পরিবার পরিজন নিয়ে দলীয় কার্মকান্ডে খুব বেশী সময় দিতে পারেন না।
তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার মশিয়ার রহমানের ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ছাত্রত্ব নেই তবুও বহাল তবিয়তে তালা উপজেলা ছাত্রলীগের পদ আকড়ে ধরেছেন। কমিটির অধিকাংশ নেতাই বিবাহিতও অছাত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তালা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, বর্তমান কমিটির বিবাহিত নেতাদের মধ্যে রয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন, সহ-সভাপতি নাছিম হায়দার রিপন, সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান, সাইফুল আযম জিমি, মার”ফ হাসান রিঙ্কু, খন্দকার আরঙ্গজেব নয়ন, সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের রাজু, তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার মশিয়ার, আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির সমুন, দেবহাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গৌতম লস্কর, সাধারণ সম্পাদক আবু নাজিরসহ আরো বেশ কয়েকজন নেতা বর্তমানে বিবাহিত জীবন যাপন করছেন। জেলা কমিটিসহ ৭ টি উপজেলার মধ্যে ৪ উপজেলার সভাপতিই বিবাহিত। এদের বেশিরভাগ নেতার বয়স ২৯ বছরের উর্দ্ধে এবং তারা সন্তানের জনক ও ব্যবসায়ী। তাছাড়া ইউনিয়ন কমিটিগুলোও একই অবস্থা।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের রাজু ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষা অসাদুপায় অবলম্বন করার দায়ে দুই বছর বহিস্কার করা হয়। তিনিও বিবাহিত।
তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার মশিয়ার বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
দেবহাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে বিয়ের বিষয় স্বীকার করেছেন। কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গৌতম লস্করও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবীব অয়নের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি একটু পরে ফোন দেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
তবে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন বলেন, আপনি স্বাক্ষাৎ করেন স্বাক্ষাতে কথা হবে।

—————————————
শেখ শাওন আহমেদ সোহাগের বক্তব্য :
—————————————-

সোহাগ ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, আমাকে শিবির নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি ২০১১ সাল থেকে কালিগঞ্জ কলেজ ছাত্রলীগের ইয়ার কমিটির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ছাত্রলীগ সংগঠনে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন শুরু করি। পরবর্তীতে আমার সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তারপর সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই হিসেবে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে আমি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছি।

তিনি আরও বলেন, আগামীতে কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেখানে আমি সভাপতি প্রার্থী। এমতাবস্তায় আমার প্রতিপক্ষরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সংগঠনে আমার ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে উক্ত সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। আমি প্রকাশিত মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হুসাইন বলেন, যে সকল ইউনিটের সভাপতি বা সম্পাদকরা বিবাহিত রয়েছেন তাদের তালিকা তৈরী করা হয়েছে ইতোমধ্যে। সাতক্ষীরার বিষয়গুলো আমি অবগত রয়েছি। শিঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।