সাতক্ষীরায় শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে শেয়ারিং মিটিং


169 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে শেয়ারিং মিটিং
অক্টোবর ২৮, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

বুধবার (২৮ অক্টোবর) অগ্রগতি সংস্থার আয়োজনে অগ্রগতি সংস্থার ট্রেনিং সেন্টারে অত্র সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সবুর বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনলাইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের যৌন নির্যাতন পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ে জরিপ পর্যালোচনা প্রতিবেদনের উপর শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অগ্রগতি সংস্থার অনলাইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতায় এই শেয়ারিং মিটিং এর আয়োজন করা হয়। অত্র শেয়ারিং মিটিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার সহকারি পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সাতক্ষীরা জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক, সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ (অব:) অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ (অব:) সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস ইনচার্জ শেখ রফিকুল ইসলাম, সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক মোঃ আলাউদ্দীন ফারুকী প্রিন্স, পাটকেলঘাটা হারুন-উর-রশিদ কলেজের অধ্যাপক মোঃ আরশাদ আলী, আশাশুনি সরকারী কলেজের অধ্যাপক ক্যাপ্টেন মোঃ ইসাহক আলী, সাতক্ষীরা সরকারী স্কুলের শিক্ষক (অবঃ) প্রভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, কুমিরা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ঝর্ণা রানী, কালিগঞ্জ শিশু সুরক্ষা ফোরামের সভাপতি হরিদাস ঘোষ, সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, লাবসা ইমাদুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, মাছখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী, নগরঘাটা কবি নজরুল বিদ্যা পীঠের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম সহ আরও অনেকে।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সবুর বিশ্বাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে শিশুরা অনলাইনের সাথে সংযুক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ অভিভাবক সচেতন নন। তাই এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিশুদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করা নয়, বরং নিরাপদ করার জন্য অর্থাৎ শিশু বান্ধব করার জন্য কিছু সতর্কতামূলক ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কী ধরনের সাইটে প্রবেশ করবে এবং কী ধরনের সাইটে প্রবেশ করবে না- সে বিষয়ে শিশুদের পরামর্শ দিতে হবে। প্রয়োজনে নজরদারিতে রাখতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারে শিশুকে বাধা দেওয়া যাবে না। তাকে বোঝাতে হবে ইন্টারনেট খারাপ কিছু না। এখান থেকে অনেক ভালো কিছু শেখার আছে।

এ বিষয়ে জেলা তথ্য কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে সকলকে অবহিত করা প্রয়োজন।এছাড়া উপস্থিত প্রধান শিক্ষকগন স্ব-স্ব জায়গা থেকে মতামত দেন। তারা বলেন- এই প্রকল্পের কার্যক্রম জেলা ব্যাপী হওয়া উচিৎ এবং আমাদের শিক্ষকদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষন প্রদান করা প্রয়োজন।শিশুদের সচেতনতার জন্য আমাদেরও দক্ষতা অর্জন দরকার।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, যে কোন সমস্যা চিহ্নিত করতে হলে সেই সমস্যার মূলে যেতে হবে। তাছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। বিশ্বায়নের যুগে ইন্টারনেট ব্যবহার পরিহারকরা সম্ভব নয়।যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অভিভাবক নিজে যদি ইন্টারনেট ব্যবহারে যত্নবান হন তাহলে এর অপব্যবহার কমে যাবে। পরিবারই একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা কেন্দ্র এবং এরপর বিদ্যালয়সমূহ থেকে শিশুরা শিখে থাকে।তাই অভিভাবক এবং শিক্ষকদের দায়িত্ববান এবং সচেতন হতে হবে। আর যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে সবাই সম্মিলিতভাবে তার মোকাবেলা করতে হবে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অত্র প্রজেক্টের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মাসুম বিল্লাহ সোহাগ।

#