সাতক্ষীরায় শীতকালিন সবজির আবাদ ৩০ শতাংশ কমেছে


346 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় শীতকালিন সবজির আবাদ ৩০ শতাংশ কমেছে
ডিসেম্বর ৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল :
সাতক্ষীরায় শীতকলিন সবজির আবাদ কমেছে। গত বছরের তুলনায় অন্তত ৩০ শতাংশ সবজি উৎপাদন কম হয়েছে বলে ধারনা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। জেলায় এবার অতি বর্ষার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারনে সময়মত সবজির আবাদ করতে পারেনি কৃষকরা। গত শীত মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে ৯ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছিলো। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে বিভিন্ন প্রকার শীতকালিন সবজির আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে বিভিন্ন প্রকার শীতকালিন সবজির আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৪৫ হেক্টর। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর, তালায় ৮৯০ হেক্টর, দেবহাটায় ৩০০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৯৫০ হেক্টর, আশাশুনিতে ৪০৫ হেক্টর ও শ্যামনগরে ৪৫০ হেক্টর। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, ওলকপি, বাধাকপি, পালন শাক, সিম, বরবটি ও টমেটো। সূত্রটি আরো জানায়, গত শীত মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে ৯ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছিলো। সে হিসাবে চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত যে পরিমান আবাদ হয়েছে তা গেল বারের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের সবজি চাষী শহীদুল ইসলাম জানান, গত বছর ৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার শীতকালিন সবজি চাষ করলেও এবার মাত্র দুই বিঘা পরিমান জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি জানান, এবার বর্ষার পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকার কারনে সময়মত আবাদ করতে পারেননি। একই অবস্থা তার গ্রামের অধিকাংশ কৃষকেরই। তিনি আরো বলেন, নগরঘাটা গ্রামে বারো মাসই সবজি চাষ হয়ে থাকে। এখানকার কৃষকরা মুলত সবজি চাষের উপর বেশি নির্ভরশীল।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক মফিজুল ইসলাম জানান, দুই বিঘা জমিতে এবার ফুলকপি চাষ করেছেন। তবে অন্যান্য বছরে তুলনায় এবার দেরিতে চারা রোপন করতে হয়েছে তার। তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে সবজি বাজারে না উঠাতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায় না। জমি চাষ, চারা রোপন, সেচ, সার-কিটণাশক ও শ্রমিকের মজুরী দিয়ে বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হবে তার। সে হিসাবে ২ বিঘাতে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ তুলে তার পর লাভের চিন্তা করতে হবে। কিন্ত এবার সময়মত বাজারে ফুলকপি তুলতে না পারায় লোকসানের আশংকা করছেন তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আবদুল মান্নন  জানান, সাতক্ষীরার সকল উপজেলাতেই বারো মাসই সবজি চাষ হয়ে থাকে। কিন্ত এবারের শীতকালি সবজির আবাদ গত বারের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। তার কারন হলো এবার জেলায় অতিবৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে সবজির আবাদ উপযোগী জমিতে দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে ছিলো। আর এই জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করতে না পারায় কৃষকরা সময়মত সবজির আবাদ করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, জেলায় সবজির আবাদ কিছুটা কম হলেও ফলন বেশি হয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।