সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন


141 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন
জানুয়ারি ২০, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় আজ তৃতীয় দিনের মত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষ যুক্তিতর্ক প্রদর্শন করেছে। বুধবার সাতক্ষীরার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। আদালত উভয়পক্ষের বক্তব্য রেকর্ড করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক প্রদর্শন করে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল সুজিত মুখার্জী, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা, সাতক্ষীরার পিপি এ্যাড. আব্দুল লতিফ, সাবেক পিপি এ্যাড. এসএম হায়দর, সাবেক পিপি এ্যাড. ওসমান গনি প্রমুখ। অপরদিকে বিবাদীপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এ্যাড. শাহানারা আক্তার বকুল, এ্যাড. আব্দুল মজিদ, এ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু ।

রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে গিয়ে ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দী পৃথক পৃথকভাবে তুলে ধরেন। এসময় বলা হয় সাক্ষীদের জবানবন্দীতে এই মামলার অভিযোগ পুরোপুরি প্রমানিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দী পর্যালোচনা করে বলেন ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে হত্যার জন্য বিভিন্নরকম চেষ্টা করে। কলারোয়ায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সংঘটিত শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা তারই অংশ। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার হলে আসামীরা প্রত্যেকে দোষী প্রমানিত হবেন এবং সর্বোচ্চ সাজা পাবেন।

অপরদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবি আব্দুল মজিদ বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিনের মামলার বিবরন তুলে ধরে বলেন, এর মধ্যে তথ্যগত অসংলগ্নতা ও অসংগতি রয়েছে। সাক্ষীদের জবানবন্দীতে আসামীরা কোনভাবেই দোষী প্রমানিত হয়নি। কয়েকটি ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তৎকালীন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের পরামর্শ ও নির্দেশ মোতাবেক তার অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন। বিবাদীপক্ষের যুক্তিতর্ক স্থাপন বুধবারের মত অসমাপ্ত থাকে। বৃহস্পতিবার বিবাদীপক্ষ তাদের অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কলারোয়ার এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা পতœীকে দেখে মাগুরা ফিরে যাচ্ছিলেন। এসময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহর পৌছালে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র, বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা গুলিবর্ষন করে এবং বোমা বিস্ফোরন ঘটায়।

এসময় বিরোধীদলীয় নেতা প্রানে রক্ষা পেলেও তার গাড়িবহরে থাকা সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ফাতেমা জাহান সাথী, মোজাম্মেল হক রাসেল, শেখ হাসিনার ক্যামেরাম্যান শহীদুল হক জীবন সহ অনেকেই আহত হন। বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও এ ঘটনায় আহত হন। কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ মোসলেম উদ্দিন এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি মামলা করেন। থানা মামলাটি রেকর্ড না করায় ২ সেপ্টেম্বর ২০০২ তারিখে তিনি সাতক্ষীরার আমলী আদালতে মামলাটি করেন। এ মামলা খারিজ হয়ে যাবার পর পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর পুনরুজ্জীবিত হয়। এসময় তদন্ত করে পুলিশ তৎকালীন বিএনপি দলীয় সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব সহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়।

#