সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় মুনসুর আহমেদের সাক্ষ্য গ্রহণ


548 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় মুনসুর আহমেদের সাক্ষ্য গ্রহণ
নভেম্বর ১৭, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

মামলার পরবর্তী দিন ২২ নভেম্বর

॥ এম কামরুজ্জামান ॥


সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ী বহরে হামলা মামলায় স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আলোচিত এই মামলার অন্যতম স্বাক্ষী সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুনসুর আহমেদের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়েছে। সাতক্ষীরা চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে দুপুরে তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। তবে সুপ্রীম কোর্টের এ্যাপিলেট ডিভিশনের চেম্বার জজ আদালতে লিভ টু আপীল শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য হওয়ায় সাক্ষী জেরা করেননি আসামী পক্ষের আইনজীবীরা।

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এড. আব্দুল লতিফ জানান, মামলাটির ১০ নং স্বাক্ষী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদকে রাস্ট্রপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করেছে এবং তার জবানবন্দী গ্রহণ হয়েছে। তবে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আগামী ২২ নভেম্বর রোববার এই মামলার পরবর্তী দিনধার্য্য করেছে আদালত।

আসামীপক্ষের আইনজীবী এড. আব্দুল মজিদ বলেন, সুপ্রীম কোর্টের এ্যাপিলেট ডিভিশনের চেম্বার জজ আদালতে লিভ টু আপীল শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য হওয়ায় তারা সাক্ষী জেরা করতে অস্বীকৃতি জনিয়েছেন। আদালতের কাছে তারা লিভ টু আপীল শুনানী না হওয়া পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। আগামী ২২ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এড. তামিম আহমেদ সোহাগ জানান, মামলাটির ৯ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণের পর বিগত ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে কোয়াশমেন্ট করেন আসামীরা। এরপর চলতি বছরের ২২ অক্টোবর উচ্চ আদালত থেকে মামলাটির স্থগীতাদেশ প্রত্যাহার হয়ে ৯০ দিনের মধ্যে বিচার কার্য শেষ করার জন্য সাতক্ষীরা চীফ জুডিশিয়াল আদালতে প্রেরণ করা হয়। সেই অনুযায়ি দীর্ঘ ১৮ বছর পর গত ৪ নভেম্বর নিম্ম আদালতে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। আদালত ১৭ নভেম্বর এই মামলায় স্বাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য্য করে। মঙ্গলবার যথারিতি মামলার কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ধর্ষিতা এক নারীকে দেখতে আসেন। তিনি ঢাকায় ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলারোয়া বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগ উঠে তৎকালিন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত ৭০/৭৫ জনের নামে থানায় ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে এক যুগ পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।


এরপর ২০১৫ সালের ১৭ মে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরা ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ জনকে স্বাক্ষী করে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শেখ সফিকুর ইসলাম। সাতক্ষীরা চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণের পর ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আসামীপক্ষের আপীল আবেদনে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন উচ্চতর আদালত। এরপর রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চতর আদালত চলতি বছরের ২২ অক্টোবর মামলাটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নথি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে নির্দেশ দেন।