সাতক্ষীরায় শোক দিবসে মোড়ক উন্মোচন ছন্দ সুরের লহমায় ক্যাসেটবন্দী বঙ্গবন্ধু দশ গানে নতুন আবিস্কার


1203 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় শোক দিবসে মোড়ক উন্মোচন ছন্দ সুরের লহমায় ক্যাসেটবন্দী বঙ্গবন্ধু দশ গানে নতুন আবিস্কার
আগস্ট ১৫, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার
‘বীরের বেশে বাংলাদেশে মুজিব অবশেষে, বাধার পাহাড় ভেঙ্গে এবার নতুন রংয়ে রেঙ্গে, উড়িয়ে দিলো বিজয় নিশান স্বাধীন বাংলাদেশে। ১৫ আগস্টের শোকাবহ দিনে মোহনীয় ছন্দে আর সুরের লহমায়  এভাবেই নতুন করে আবিস্কৃত হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হল ভর্তি শ্রোতা আর  দর্শকদের সামনে বঙ্গবন্ধুকে নতুন রং তুলিতে আর নতুন ভাষায়  চিত্রায়িত করলেন তারা। অশ্রু সজল নয়নে শ্রোতা দর্শকরা যেনো ভিড়ের মাঝে নতুন পদ্মফুলের সন্ধান পেলেন। আবেগে তাই আপ্লুত হয়ে উঠলেন তারা। তারা গাইলেন, শুনলেন আর শোনালেন ফ্রেমবন্দী বঙ্গবন্ধুর অমরত্বের বানী। আর কালো অক্ষরে লেখা পংক্তিমালা। সুরের ঢেউয়ে ঊথলিত হলো শিল্পকলার মিলনায়তনে  ঠাঁসা  মানব জলধি।

সোমবার সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি চারণে তার সৈনিকরা যখন নানা প্রশস্তিতে মেতে উঠেছিলেন তখনই সুরেলা কন্ঠে বঙ্গবন্ধুকে ধারন করে মঞ্চে উঠে এলেন সাতক্ষীরার দুই উদীয়মান শিল্পী সাবরিনা ইয়াসমিন প্রমা ও পূজা কর্মকার। ফ্রেমবন্দী দশগানের মোহময় সুরেলা কন্ঠে দৃপ্ত অঙ্গিকারে বেজে উঠলো মহান নেতা বঙ্গবন্ধু আমরা মুজিব সেনা, লোভে মোহে ভয়ে ভীতে হইনা বেচাকেনা। অনন্তলোকের  বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন জানিয়ে প্রমা পূজা গেয়ে উঠলেন বঙ্গবন্ধু আবার তুমি আসতে যদি ফিরে, ভালবাসায় সিক্ত করে সেই মানুষের ভিড়ে। ইতিহাস অবিনাশী, যিনি ইতিহাস গড়েন তার বিনাশ নেই, তাই বঙ্গবন্ধু মরেও অমরত্ব লাভ করেছেন।

গানের ছন্দে  তাকে তারা আখ্যায়িত করলেন, হাজার বছরের সেরা বাঙ্গালি বীরের সেরা বীর, গর্বের ধন মানিক রতন বঙ্গজননীর। জাতির পিতাকে অমর লোক থেকে আবারও জনারন্যে ফিরিয়ে আনার সেকি আকাশচুম্বী বাসনা যার প্রতিফলন ঘটলো হৃদয়স্পর্শী গানে আকাশ বাতাস পাহাড় নদী, সাত সাগরের জল, কোথায় আছো জাতির পিতা বলনা আমায় বল। একদল রক্তখেকো মীর জাফর যারা জাতিকে বিপথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, বাঙ্গালি জাতিকে যারা আবার পরাধীনতার শিকল পরাতে চেয়েছিল তাদের বুলেট জর্জরিত করেছিল বঙ্গবন্ধুর প্রশস্তবুক। সেই সব মীরজাফরদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে পূজা আর প্রমা গাইলেন মীরজাফরের মরন বাণে এই পৃথিবী ছাড়ি , বঙ্গবন্ধু অকালে দিলো মরন নদী পাড়ি। জীবন সংগ্রামী বঙ্গবন্ধু জীবনের অনেক সময় কাটিয়েছেন পাক হানাদার বাহিনীর কারাপ্রকোষ্ঠে। শতমুখী নির্যাতন আর নিপীড়নের শিকার হয়েও যিনি বাঙ্গালির জয়গান গেয়েছেন, পাকিস্তানি কারাগারে তার জন্য খুঁড়ে রাখা কবর দেখেও যিনি পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পনের প্রস্তাবকে  ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন  সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠ আজও ধ্বনিত হয় আকাশে বাতাসে। আমাদের জীবনী শক্তিকে আরও বেগবান করে হাতছানি দেয় এখন যৌবন ,সময় হলো তোমার মিছিলে যাবার, এখন যৌবন সময় হলো তোমার  যুদ্ধে যাবার। প্রমা আর পূজার কন্ঠে  তাই ধ্বনিত হলেন বঙ্গবন্ধু বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলে, রক্তে নেশার আগুন জ্বেলে, মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার তুমি দিলে। এতো আকাংখা, এতো আলিঙ্গন, এতো আকর্ষন, এতো ভালবাসা, এতো প্রত্যাশা তবু তো তিনি ফিরবেন না কোনোদিন। হৃদয়ে তাই বঙ্গ সন্তানকে গেঁথে রেখেছে বাঙ্গালি, ক্ষনে ক্ষনে তাই গেয়ে ওঠে তারা  কাঁদো বাঙ্গালি কাঁদো, কাঁদো অশ্রু নীরে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আসবেনা আর ফিরে। এই দেশ আর এই মাটিকে ফেলে তিনি চলে গেছেন অমরত্ব লাভ করে। কারন এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি, কাঁদিবে ভূবন। বঙ্গবন্ধু তার ক্রন্দনরত ভূবন রেখে পাড়ি দিয়েছেন অমর লোক। আর তার নৌকার হাল ধরেছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা। পূজা আর প্রমা তাই গেয়ে উঠলেন ‘মুজিব একবার দেখে যাও, কেমন করে শেখ হাসিনা বাইছে তোমার নাও। জাতির শৃংখল মুক্ত করেছেন যে বীর সন্তান, বাংলাদেশের স্বাধীন ঠিকানা দিয়েছেন যে বঙ্গ সন্তান, বাঙ্গালি, বাংলাদেশ আর বাংলা ভাষাকে বিশ্বে যিনি মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন, শোষক নয়, শোষিতের পক্ষ নিয়ে দেশ সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করেছেন যে মহামানব, শ্রেষ্ঠ বীর বাঙ্গালি যে মানুষ বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান তাকে কি ভুলা যায়। ফ্রেমবন্দী কন্ঠে নতুন চিত্রায়নে বঙ্গবন্ধু উদভাসিত হলেন পূজা আর প্রমার কন্ঠে যে দেশেতে যে বেশেতে যখন থাকি যেথা, ভুলি নাই, ভুলবো না মোরা, মুজিব তোমার কথা।

জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে নিয়ে দশগান রচনা করেছেন যিনি তিনি প্রাণকৃষ্ণ সরকার। জাতীয় পর্যায়ে এক সময়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত গীতিকার তিনি। জেলার কালিগঞ্জের থালনা গ্রামের প্রাণকৃষ্ণ সরকার ঘুষুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়েছেন। আধুুনিক, দেশাত্মবোধক, পল্লীগীতি আর দেশের গান রচনা করে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন তিনি। আর শোক দিবসে পরিবেশিত ক্যাসেটবন্দী  দশ গানের নেপথ্য সুরকার হলেন ঢাকা বেতারের নিয়মিত আধুনিক গানের শিল্পী মো. আজিজুর রহমান।

কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়ার  ছায়াঢাকা গ্রামে বেড়ে ওঠা চুয়াত্তর বছরের আজিজুর রহমান কালজয়ী কন্ঠশিল্পী শ্যামল মিত্রের শিষ্য। শ্যামল মিত্রের তালিম নিয়ে ছেলেবেলা থেকে  তিনি বিচরন করছেন গানের জগতে। এখনও চলেছেন গান গেয়ে আর গানে সুর দিয়ে। শহরের আমতলা মহল্লার মো. বেলাল হোসেন ও মিসেস মমতাজ বেগমের মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্রী  সাবরিনা ইয়াসমিন প্রমা আর ইটাগাছা গ্রামের কৃষ্ণপদ সরকার ও জ্যেতি কর্মকারের  মেয়ে পুলিশ লাইনস স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী পূজা  কর্মকারের কন্ঠে সুরেলা আওয়াজে উচ্চারিত হলেন এই দুই নেপথ্যচারী সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ প্রাণকৃষ্ণ সরকার ও মো. আজিজুর রহমান।

সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচির এক পর্যায়ে প্রাণকৃষ্ণ সরকার রচিত, আজিজুর রহমান সুরারোপিত এবং পূজা ও প্রমার কন্ঠে উচ্চারিত গানের সিডির মোড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো.মহিউদ্দিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন. উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান, পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি প্রমুখ। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে প্রমার মা মমতাজ বেগম, পূজার বাবা কৃষ্ণপদ, গীতিকার প্রাণকৃষ্ণ সরকার, সুরকার মো. আজিজুর রহমান, গীতিকার ফেরদৌস আহমেদ প্রমুখ এসেছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গান ও তার পরিবেশন নিয়ে আত্মতৃপ্তির নানা কথা শোনালেন  তারা। জানালেন প্রমা ও পূজা সাতক্ষীরা নজরুল একাডেমির অগ্নিবীনার ছাত্রী। পূজা পল্লীগীতি এবং হামদ  নাদ ও গজলে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে।  শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত পূজা এবার বিটিভিতে স্থান লাভ করেছে। আর প্রমাও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করে চলেছেন।