সাতক্ষীরায় সবজির বাজারে শীতের পরশ


204 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় সবজির বাজারে শীতের পরশ
নভেম্বর ২৩, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

অবশেষে ষড়ঋতুর রঙ্গমঞ্চে টাটকা শাক-সবজির ডালি সাজিয়ে হাজির হয়েছে শীত। তাই সাতক্ষীরার সবজির বাজারে লেগেছে শীতের পরশ। তেলের দাম বাড়লেও স্বস্তি ফিরেছে শীতকালীন সবজিতে। বাজার জুড়ে এখন কেবলই রঙিন সবজির সমারোহ। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায় টাটকা সবজির ডালি দেখে।

মৌসুমের শুরু থেকেই বাজারে এসেছে মূলা, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, ওলকচু, পুঁইবিচি, পালংশাক, গাজরসহ শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি।
গত এক সপ্তাহে প্রতিটি সবজির দাম ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গত সপ্তাহে যে ফুলকপি বা বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে তা এখন ৪০ টাকায়। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সবজির দাম আরও কমবে বলে ধারণা করছেন বিক্রেতারা।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, শীতকালীন সব ধরনের সবজি বাজারে উঠেছে। সরবরাহও ভালো। তবে তা এখনো গরীব ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে রয়েছে। নি¤œবিত্তরা তো বটেই। তবে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধিতে কেউ খুশি নয়।

রবিবার সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ২৫-৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০-৯০, টমেটো ৭০-৮০টাকা, গাজর ৯০টাকা, শিম ৪০টাকা, মূলা ১২-২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০টাকা, ঢেঁড়শ ২৫ টাকা, ফুল কপি ৪০টাকা, বাঁধাকপি ২৫-৩০ টাকা, বিটকপি ৪০টাকা, ওলকপি ৩৫ টাকা, পটোল ৩৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৩ টাকা, পুঁইশাকের মুটুরি ৬০টাকা, করলা উচ্ছে ৪০, পেঁপে ২০-৩০ টাকা। বিক্রেতারা জানালেন এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০-২০ টাকা কমেছে।

সব ধরণের আটা, ময়দা, ডাল, চিনি, ছোলা ও মাংসের দাম রয়েছে স্থিতিশীল। তবে ডিমের সাদা ডিম প্রতি হালি ২৬ টাকা এবং লাল ডিম প্রতি হালি ২৮টাকা। বিগত এক মাস ধরে মাছ বাজার রয়েছে অপরিবর্তিত। রুই আকৃতি ভেদে ১৩০-১৮০ টাকা প্রতি কেজি, কাতলা ২০০-২৫০ টাকা প্রতি কেজি, ভেটকি ও ভাঙান ৩০০-৩৫০ টাকা প্রতিকেজি, টেংরা ৩০০-৪৫০টাকা প্রতি কেজি, ব্লাক কার্প প্রতিকেজি ১০০-১৩০, সিলভার কার্প ৮০-১২০টাকা এবং তেলাপিয়া ৬০-১০০টাকা দরে প্রতিকেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পাইকারি বিক্রেতারা বলেন, ‘দাম কমতে আরো এক মাস সময় লাগবে। এখনো পুরোপুরি শীতের সবজি ওঠেনি। এখনকার বেশির ভাগ সবজির আবাদ আগে হয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই অপরিপুষ্ট। চাহিদা থাকায় ও দাম বেশি পেতে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি শীতের সবজি বাজারে আসবে।’

খুচরা ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, ‘পাইকারি বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবজি বিক্রি করি। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকলে খুচরা বাজারেও দাম বেশি থাকে।’ গত সপ্তাহের মতো চলতি সপ্তাহেও মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ৪০-৮০ টাকা, দেশি রসুন ৭০-১২০, আদা ৩০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচামালের সরবরাহ বেড়েছে। দামও কমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন ভাড়াও কিছুটা বেড়েছে। আর শীত বাড়লে, সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন সবজির দাম আরও কমবে।
নদী-নালা, খাল-বিলে পানি কমে যাওয়ায় এবং জেলার মাছের ঘের সেচে ফেলায় বাজারে দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ছে। এতে দাম কিছুটা কমেছে। রুই, কৈসহ বিভিন্ন মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে দাম আরও কিছুদিন স্থিতিশীল থাকেবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

#