সাতক্ষীরায় সবজি চাষে সাফল্য


429 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় সবজি চাষে সাফল্য
অক্টোবর ১৮, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
সবজি চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে সদর উপজেলার বল্লি অঞ্চলের চাষীরা। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প শোনালেন উপজেলার ১২নং বল্লী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের গৌর বিশ্বাসের ছোট ছেলে বিধান বিশ্বাস।
সরজমিনে গেলে চাষী বিধান বিশ্বাস জানান, বেকারত্ব জীবন ও গরীব বাবার সংসারের ঘানি টেনে পড়া লেখা করতে পারেনি। তাই চাষে মনযোগী হয়। প্রথমে লোকের জমিতে কাজ করতান। পরে বিশ শতক জমি ইজারা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে সবজির চাষ শুরু করি। বাজারে সবজির চাহিদা ভাল থাকায় প্রথমে ফুলকপি ও বাঁধাকপি, সীম, পোটল, কাকরোল, শশা, পেপে, জালিকুমড়া, শশীন্দা, ঢেড়শ, পুইশাক, লাল শাক চাষ করি। এ সব সবজি বাজারে বিক্রি করে বেশ লাভ হতে থাকে। ২০ হাজার টাকা খরচ করে এক মৌসুমে অর্ধ লক্ষাধীক টাকার সবজি বিক্রি করি। পরে এক এনজিও সংস্থার কাছ থেকে লোন নিয়ে আরো বিশ শতক জমি ইজারা নিয়ে এক একর জমিতে সবজি চাষ করি। এখন সারা বছরই তার জমিতে বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ হচ্ছে। সবজি চাষ করে বর্তমানে তার সংসার চলে।
বর্তমানে সে তার জমিতে শীতকালিন সবজি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে। কৃষি খামার বাড়ির মতে বিধান একজন আদর্শ সবজি চাষী। বিভিন্ন সময়ে তিনি কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেন। তার দেখা দেখিতে এলাকায় অনেকেই সবজি চাষে ঝুকে পড়েছে। প্রাইকারী ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে সবজি কিনে গ্রামগঞ্জের বাজারে বিক্রি করেন।
তিনি জানান এবছর তার জমিতে লক্ষাধীক টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা বেচা কেনা করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। তিনি জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি কৃষি মেলায় তার ফসল প্রদর্শন করে। এতে তিনি বেশ কয়েকবার পুরস্কৃতও হয়েছেন। সবজি চাষে সহযোগিতা করেন তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে মিলন বিশ্বাস। চাষী বিধান বিশ্বাস আরো জানান, ২৫ বছর ধরে সবজি চাষে নিয়োজিত থেকে গত ৫ বছর পূর্বে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে একবার বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক ঔষধ পেয়েছিলাম। ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে সুখি জীবন যাপন করছেন বিধান বিশ্বাস। তিনি সরকারি অনুদানসহ কৃষি খামারবাড়ির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
##