সাতক্ষীরায় সহিংসতা প্রতিরোধে নারী বান্ধব সেবাকেন্দ্র


115 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় সহিংসতা প্রতিরোধে নারী বান্ধব সেবাকেন্দ্র
আগস্ট ২, ২০২২ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্রটি প্রত্যন্ত এলাকায় যথেষ্ট ভূমিকা রেখে চলেছে। নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্রটির অবস্থান বুড়িগোয়ালিনী। নকশীকাঁথা মহিলা সংগঠন দ্বারা পরিচালিত নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্রটির প্রধান উদ্দেশ্য সমূহ হচ্ছে সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক, মানসিক, আইনগত এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য, সেবা এবং প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার।
বিশেষ করে দূযোগকালীন বা জরুরি অবস্থায় সহিংসতা প্রতিরোধে নারী, কিশোরী কিংবা শিশুর জন্য প্রয়োজন হয় নানামুখী সেবা এবং তথ্যের। সারভাইভারকে সহযোগিতা ও তথ্য প্রদান এবং সচেতনতাবৃদ্ধিমূলক কাজ করা। সেবা কেন্দ্রের আরও উদ্দেশ্যা হচ্ছে নারী ও মেয়ে শিশুর সম্মতি সাপেক্ষে রেফার, আউটরিচ এবং প্রতিরোধমূলক কাজ গ্রহণ করা। যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য/ধর্ষণ কেসের ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট/প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা।
নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্র পরিচালনার প্রধান সমন্বয়কারী নকশীকাঁথার পরিচালক চন্দ্রিকা ব্যানার্জী বলেন, ২০২১ সালের প্রথমদিকে নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্রটি একশন এইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় চালু করা হয়। এই সেবা কেন্দ্রে বর্তমানে কর্মরত আছেন একজন মিডওয়াইফ, একজন ফ্যাসিলিটেটর ও তিনজন কেস ওয়ার্কার। এখানে শুধু মাত্র একজন পুরুষ কর্মী কর্মরত। তিনি বলেন ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত বুড়িগোয়ালিনী নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে জিবিভির শিকার ১৪০৯জন নারীর সহযোগিতা করা হয়েছে। মিডওয়াইফারী সাপোর্ট পেয়েছে ৪৬৪ জন, মনস্তাত্তিক সহযোগিতা ও প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছে ২৮৩০জন নারী, জিবিভি কেস ম্যানেজমেন্ট ও কেসে সাপোর্ট পেয়েছে ১৭০৪জন নারী, বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে রেফারেলকৃত নারীর সংখ্যা ১৭৪জন, শারীরিক নির্যাতনে সহায়তা পেয়েছে ২৭০জন নারী, যৌন নির্যাতনে সহায়তা পেয়েছে ৪৫জন, স্বামী দ্বারা নির্যাতিত এমন নারী সহায়তা পেয়েছে ৪১২জন, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য নির্যাতনে সহায়তা পেয়েছে ৩৯৩জন। নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্রে নিজেদের উদ্যোগে এসে সেবা নিয়েছেন এমন নারীর সংখ্যা ১৩৮৩জন। সেবা কেন্দ্র কতৃক গ্রাম পর্যায়ে আউটরিচ সেশন করা হয়েছে নারী, কিশোরী, বালক ও পুরুষদের নিয়ে ২৪০টি এবং এখানে উপস্থিতির সংখ্যা ৪৪০০জন। সচেতনতামুলক সভা করা হয়েছে ৮৩টি এখানে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল ৮৩০জন।
নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্রটিতে সরজমিনে দেখা যায় বেস্টফিডিং কর্ণার, বিনোদনমূলক ও জীবনভিত্তিক কমসূচি,মনোসামাজিক কাউন্সিলিং স্থান, প্রাথমিক যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ প্রদান স্থান। সহিংসতার সম্মুখীন সারভাইভারকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, মর্যাদা ও বৈষম্যহীনতা বিষয়ে সংবেদনশীল হয়ে থাকেন প্রত্যেক কমীবৃন্দ।
সেবাকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুড়িয়োলিনী ইউপির বাসিন্দা এক জন নারী বলেন সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে রেফারেল করা হয় উপজেলা ওসিসি কর্মকর্তার নিকট। সেখানে ওসিসি কর্মকর্তা স্বামী ও স্ত্রীর একটা পারিবারিক সমস্যা মিমাংসা করে দেওয়ায় ভাল ভাবে সংসার করতে পারছি। অনুরুপ একজন কিশোরী বলেন অল্প বয়সে বিয়ের কারণে লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যায়। সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে উভয় পরিবারের সম্মতিতে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারছি।
উপজেলা ওসিসি কর্মকর্তা প্রনব কুমার বিশ^াস বলেন, নকশীকাঁথা পরিচালিত নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায়ই প্রতি মাসে নারীর সহিংসতা বিষয়ে বিভিন্ন কেস নিজে অথবা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মিমাংসা করা হয়। তিনি নারী বান্ধব সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম প্রত্যন্ত এলাকায় আরও বৃদ্ধি করার আহব্বান জানান।