সাতক্ষীরায় সিবি হসপিটালের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন


1103 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় সিবি হসপিটালের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

*চিকিৎসা সেবা নিতে আর বিদেশে যেতে হবে না

স্টাফ রিপোর্টার ::
জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদ্বোধন হলো খুলনা বিভাগের তথা সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক ও সর্ববৃহৎ বেসরকারি প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ‘সিবি হসপিটাল লিমিটেড’।
বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শহরতলীর মোজাফফর গার্ডেনে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও অনুষ্ঠানস্থলসহ সমগ্র মোজাফফর গার্ডেন লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সিবি হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম আনিছুর রহমান শোনান প্রত্যাশার কথা। তিনি বলেন, আমরা সব দিক থেকে অসহায়। স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি অবহেলিত। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জেলা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। যাচ্ছে দেশের বাইরেও। এই অসহায়ত্বের কথা ভেবেই জেলায় উন্নতমানের হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে আমাদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে- হাসপাতালে উন্নতমানের সেবা, সুলভ মূল্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকবে। আমরা হাসপাতাল তৈরি করেছি, কসাইখানা নয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসার যন্ত্রপাতি রয়েছে। তবে তা ব্যবহারের মতো জনবলের খুবই অভাব। এই জনবল তৈরি করতে হবে।
চিকিৎসা সেবা একটি শিল্প উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই শিল্পে সেবা প্রদানের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। রোগীদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে। তাহলেই মানুষ চিকিৎসা নিতে আসবে।
তিনি সিবি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, তার সাহসিকতার সহযাত্রী হয়ে এই জেলাকে অবহেলিত জনপদ থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, সেই সময় খুব বেশি দূরে নয়, যখন ভারতের মানুষও সাতক্ষীরায় আসবে চিকিৎসা নিতে। বিশ্বমানের সব চিকিৎসকেরা এই জেলায় রয়েছে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে একদিন এই জেলা চিকিৎসা ক্ষেত্রে সকলের আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্র্জন ডা. তওহীদুর রহমান বলেন, আজ সাতক্ষীরাবাসীর জন্য আনন্দের দিন। একটা ছাদের নিচে একই সাথে সব সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা- অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। আমি বিশ্বাস করি, এই হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি সাতক্ষীরার যেসব ছেলে ডাক্তার হয়ে অন্যত্র কাজ করছেন তাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, শুধু জেলার বাইরেই চিকিৎসা দিলে হবে না। নিজের জেলার প্রতিও দরদ নিয়ে কাজ করতে হবে।
স্বাধীন চিকিৎসক পরিষদ সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোখলেছুর রহমান বলেন, সিবি হাসপাতালের মাধ্যমে জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। একই সাথে জেলায় যেন বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা না যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি বলেন, আমি মনে করি এই হাসপাতালের লক্ষ্য সেবা দেওয়া। আর তাই সিবি হাসপাতাল প্রশংসার দাবি রাখে। হাসপাতাল স্থাপনের সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
সিবি হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ডা. হুমায়ুন কবীর বলেন, আমি এই হাসপাতালে কাজ করতে পেরে খুবই গর্বিত। তবে হাসপাতালের কাজ এখানেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো হবে। জেলা শহরে নার্সিং টেকনোলজি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিক্যাল ক্যাম্প বসিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে। সেখানে ফ্রি ওষুধ বিতরণ করা হবে। এছাড়াও মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে আগামী পাঁচ বছর শতকরা ১০ টাকা হারে ছাড় দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে।
ডা. ফকরুল ইসলাম বলেন, এই হাসপাতালকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেবা দেওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ থাকলেও সেসব জিনিসপত্র চালানোর মতো দক্ষ লোকের পরিমাণ খুবই কম। আর তাই আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে নিতে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় তিনি সিবি হাসপাতালের যে কোন প্রয়োজনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ডা. এ ইউ এম সলিমুল্লাহ বলেন, আজকের দিনটি সাতক্ষীরাবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। আমিও আশাবাদী যে, এখান থেকে ভালো সেবা পাওয়া সম্ভব হবে। যে সমস্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে হাসপাতাল সাজানো হয়েছে- তা এই জেলার স্বাস্থ্য খাতকে আরও এগিয়ে নিতে অসামান্য অবদান রাখবে।
সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ বলেন, জেলা শহরে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেশের বাইরে সেবা নিতে না যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে- তা আমার কাছে সত্যিই ভিন্নধর্মী পরিচয় তুলে ধরেছে। আমি এই বৃদ্ধ বয়সে আশাবাদী যে, অন্তত আমার মতো যারা জীবনের শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়েছেন তাদের জন্য একটু ভালো চিকিৎসা এই শহরে বসেই নেওয়া যাবে।
ডা. হরষিত চক্রবর্তী বলেন, মানুষ সুস্থ অবস্থায় অর্থ আয় করে, আবার অসুস্থ হলে সেই অর্থ চিকিৎসার জন্যে ব্যয় করে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই হাসপাতাল অন্য সব হাসপাতালের থেকে নিজেদের আলাদা করে মেলে ধরবে। এতে সাতক্ষীরাবাসী উপকৃত হবে।
ডা. সুমন কুমার দাশ বলেন, মানুষ বাঁচার আশা নিয়েই ডাক্তারের কাছে আসে। আর আমরা নানা জটিলতায় ভালো চিকিৎসা দিতে পারি না। কিন্তু আমি আশাবাদী এই হাসপাতাল চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এরকম ভালো চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জায়গা তৈরি হলে আমরাও ভালো চিকিৎসা প্রদানে সচেষ্ট হতে পারবো।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. মরিয়ম সুলতানা বলেন, এখানকার মানুষ এখান থেকেই সেবা পাবে। জেলা শহর এমনকি দেশের বাইরেও আর কাউকে যেতে হবে না। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ হাসপাতাল মানুষের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডা. কাজী আরিফ আহমেদ বলেন, জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্যে এরকম একটা প্রতিষ্ঠান বড়ই প্রয়োজন। আমরা নানা জটিলতায় সরকারি হাসপাতাল থেকে সেবাগ্রহীতাদেরকে ভালো সেবা দিতে পারি না। সেক্ষেত্রে সিবি হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সুলভ মূল্যে সেবা দেওয়ার জন্যে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানান।
ডা. আহসানুল্লাহ আল বাকী প্রাথমিক আয়োজনেই মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, অনেক হাসপাতাল হচ্ছে এবং হবে কিন্তু স্বার্থক মানের সেবা চাই। তিনি নিজেকে সিবি হাসপাতালের সাথে যুক্ত করতে পারলে গর্বিত হবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অর্থোপেডিকস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কামরুজ্জামান বলেন, এই জেলা আমার আঙিনা। আর এই জেলায় এমন একটি অনুষ্ঠানে নিজেকে উপস্থিত রাখতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার বলেন, সেবাই ধর্ম। আর সেই সেবা যেহেতু চিকিৎসা সেবা তাহলে তো তার চেয়ে বড় আর কিছু নেই। তবে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে বলেন, যেহেতু তিনি হাসপাতাল আর কসাইখানার পার্থক্য বুঝেই উদ্যোগী হয়েছেন, সেহেতু তাকে সাধুবাদ জানাই।
গ্রাম্য ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ডা. আব্দুল গফফার বলেন, মানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালকে সবাই মিলে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এই হাসপাতাল অত্যাধুনিক হাসপাতালের বহিঃপ্রকাশ। সততা আর নিষ্ঠার সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা শাহাদাত হোসেন ও গীতা পাঠ করেন তপন কুমার দাশ।
পরে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সিবি হাসপাতালের ফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। পরে অতিথিদের নিয়ে তিনি হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ ঘুরে দেখেন।