সাতক্ষীরায় সিরিজ বোমা হামলা মামলার রায় কাল


342 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় সিরিজ বোমা হামলা মামলার রায় কাল
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট দেশব্যাপী ৬৩ জেলার মধ্যে জেএমবি সাতক্ষীরার পাঁচটি স্থানে বোমা হামলার ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত ৬টি মামলার যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে আসামীপক্ষের আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিজ নিজ পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পরে বিচারক শরিফুল ইসলাম আগামিকাল বুধবার রায় এর জন্য দিন ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিরিজ বোমার ছয়টির প্রতিটি মামলায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধ চার্জশীট দেওয়া হয় । চার্জশীটভূক্ত ২৪ আসামির ৪ জন এখনও পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাঁকাল ইসলামসপুরের নাসিরুদ্দিন দফাদার ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর মস্তিস্কের রক্ষক্ষরণজনিত কারণে সাতক্ষীরা কারাগারে মারা যান। বর্তমানে ২৩ জন এই মামলার আসামী।

আসামীরা দেশের বিভিন্ন কারাগারে অবস্থান করায় মামলার রায় হতে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর সময় লেগে যায়।

মঙ্গলবার জেলখানা থেকে ৯ জনকে আদালতে আনা হয়। এই মামলায় আগেই জামিনে থাকা ১০ জন আসামী আদালতে হাজিরা দেন। আসামীদের মধ্যে পলাতক রয়েছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ফখরুদ্দিন রাজি, সাতক্ষীরা সদরের সাতানির আবুল খায়ের, খড়িবিলার মনোয়ার হোসেন উজ্জল ও কলারোয়ার পাটুলি গ্রামের নাঈমুদ্দিন।

মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক শেষে জামিনে থাকা ১০ জনের মধ্যে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে মমতাজউদ্দিন ও নূর আলী মেম্বরকে জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। বাকী ৮ জনের জামিন বাতিল করে মোট ১৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. আব্দুস সামাদ জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট সাতক্ষীরা শহীদ রাজ্জাক পার্ক , সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালত চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বর, বাস টার্মিনাল ও খুলনা মোড়সহ পাঁচটি স্থানে একযোগে এই বোমা হামলা ও নিষিদ্ধ লিফলেট ছড়ানোর ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই প্রত্যক্ষদর্শী বাঁকাল ইসলামপুর চরের রওশানের বিবরন মতে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বোমা হামলাকারী সাতক্ষীরা শহরতলীর বাঁকালের দলিলউদ্দিন দফাদারের ছেলে নাসিরুদ্দিন দফাদার আটক হয় । তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাতক্ষীরার রসুলপুরে জেএমবির ঘাটি চিহ্নিত করা হয় এবং ১৩ জনকে আটক হয়। তাদেরকে ঢাকায় জেআইসিতে ( জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল ) এ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয় । সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়া ছাড়াও জেএমবির বহু গোপন তথ্য জানায় তারা । পরে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় সাতক্ষীরায় ।

২০০৬ সালের ১৩ মার্চ সিআইডি সবগুলি মামলায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয় । সে বছরই মামলাগুলি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে পাঠানো হয় । যথা সময়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০০৭ এর ২৫ জুন মামলাগুলি খুলনা থেকে ফেরত আসে সাতক্ষীরায় ।

২০০৮ সালের ১৪ ফের্রুয়ারি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে মামলাগুলির বিচার কাজ শুরু করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে শায়খ রহমান, বাংলা ভাই ও আতাউর রহমান সানির মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে এসব মামলার আসামির তালিকা থেকে চাজর্শীটের সময় বাদ দেওয়া হয়েছে ।

#