সাতক্ষীরায় স্কুল ছাত্রী শাহানার আত্মহত্যা নিয়ে তোলপাড় : শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে শাহানার বাড়িতে বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা


811 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় স্কুল ছাত্রী শাহানার আত্মহত্যা নিয়ে তোলপাড় : শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে শাহানার বাড়িতে বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা
ডিসেম্বর ১৩, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দরবাস্তিয়া গ্রামে স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনার খবর পেয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক টি এম জাকির হোসেন রোববার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি এসময় শোকাহত পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন।

জানাগেছে, রোববার সন্ধা ৭ টায় খুলনা থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক টি এম জাকির হোসেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের দরবাস্তিয়া গ্রামে অকালে ঝরে যাওয়া স্কুল ছাত্রী শাহনারা খাতুনের বাড়ীতে যান।

তিনি এসময় আত্মহত্যার শিকার শাহনারা খাতুনের পিতা শাহজাহান আলীসহ তার মা ও ভাই কে শান্তনা দেন।পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দিতে গিয়ে টিএম জাকির হোসেন বলেন, ব্রক্ষ্ররাজপুর ডিবি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী শাহনারা খাতুন আত্মহত্যার পিছনে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে প্রশাসন বিচারের ব্যবস্থা করবে। তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। বখাটে ও ইফটিজিং এর সাথে জড়িতদের ব্যপারে সরকার জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে উল্লেখ করে টিএম জাকির হোসেন বলেন, শাহনারা খাতুন আত্মহত্যার সাথে জড়িতদের খুজে বের করতে পুলিশের সহযোগীতা প্রয়োজন। আর কোন শাহনারার মত প্রতিভাবান মেধাবী ছাত্রী যেন অকালে ঝরে না যায় তার জন্য এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি।SAM_0040

এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদিন, উপ-পরিচালক কর্যালয়ের গবেষনা কর্মকর্তা মো: কামরুজ্জামান, সহকারী পরিদর্শক শেখ হেদায়েত হোসেনসহ শিক্ষা বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গ: গত শুক্রবার সকালে বিষপান করে শাহনারা খাতুন (১৩) আত্মহত্যা করে। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহার ইউনিয়নের দরবাস্তিয়া গ্রামের শাহাজান আলীর মেয়ে ও ব্রক্ষ্মরাজপুর ডিবি গার্লস হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।

অভিযোগ উঠেছে,একই গ্রামে মৃত অজীত পাড়–ইয়ের ছেলে দশারন পাড়–ই সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী শাহানারা খাতুনের কাছে প্রেম নিবেদন করে। কিন্তু ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় শাহানারা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
এক পর্যায় দশারন পাড়–ই গোপনে মোবাইলে শাহানারার ছবি ধারনের পর তা পন্য করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ফের তার কাছে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি সে তার বাবা-মা’কে জানায়। একপর্যায় শাহানারার বাবা শাহাজান আলী দশারনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সবাইকে জানিয়ে মেয়ের ছবি মোবাইল থেকে মুছে ফেলার অনুরোধ করে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি।

এদিকে, মালয়েশিয়া প্রবাসী কলারোয়ার উপজেলার কাজীর হাট এলাকার এক যুবকের সাথে শাহানারা খাতুনের বিয়ের  কথা চলছিল। শুক্রবার ছেলে বাড়ির লোকজনের মেয়ে দেখতে আসার কথা জানতে পেরে দশারন পাড়–ই বৃহস্পতিবার রাতে একদফা এবং শুক্রবার সকালে আরেক দফা শাহানারাকে হুমকি দেয়।
অন্যত্র বিয়ে দিলে তার ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেয় দশারন। ইতিমধ্যে এই ঘটনা সারা গ্রামে চাউর হয়ে পড়ে। এতে অপমান সহ্য করতে না পেরে গত শুক্রবার সাকালে শাহানারা বিষপান করে। তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে সে মারা যায়। পরে স্থানীয় দুই মেম্বরের প্ররচনায় লাশের ময়না তদন্ত না করেই দুপরে দাফন করা হয়। ঘটনার পর পরই দশারন পাড়–ই ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রামবাসী জানান, বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার জন্য  ইউপি মেম্বর ফারুক হোসেন মিঠু ও শামিম হোসেন দশারনের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তারাই চক্রান্ত করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ইউপি মেম্বর ফারুক হোসেন মিঠু ও শামিম হোসেন তাদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে মেয়ের বাব’র সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তার শ্যালক (মেয়ের মামা) ছেয়ামুদ্দিনের ০১৭৬৯ ৯১৭৪৮৯ নং মোবাইলে রিং করলে তিনি এবিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। একপর্যায় মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন তিনি।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি না থাকায় লাশ দফনের বাধা দেয়া হয়নি।ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন হয়েছে। এঘটনায়  আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মেয়ের বাবাকে মামলা দিতে বলা হয়েছে। মামলা দিলে সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।