সাতক্ষীরায় স্ত্রীর ডিভোর্স নোটিশ পেয়ে শ্বশুরকে মেরে ফেলল জামাই


362 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় স্ত্রীর ডিভোর্স নোটিশ পেয়ে শ্বশুরকে মেরে ফেলল জামাই
জুন ২২, ২০২২ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

॥ আর.কে.বাপ্পা ॥

সাতক্ষীরার দেবহাটায় স্ত্রীর ডিভোর্স নোটিশ পেয়ে শ্বশুরকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে জামাইয়ের বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ জুন) ভোর রাতে উপজলার মাটিকুমড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজগার আলী সরদার (৫৫) মাটিকুমড়া গ্রামের মৃত সুরত আলী সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক। অভিযুক্ত জামাই কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরয়া গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে সালাউদ্দিন।

নিহতের ছোট ভাই আক্তার হোসেন সরদার জানান, তার বড় ভাই আজগার আলীর ছোট মেয়ে শিল্পী খাতুনের সঙ্গে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নর বরেয়া গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে আপন খালাত ভাই সালাহউদ্দিনের দু’ বছর আগে বিয়ে হয়। সালাহউদ্দিন বেকার হওয়ায় বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে শিল্পীকে প্রায়ই নির্যাতন করতো। এ নিয়ে কয়েকবার শালিস হয়েছে। এরপরও নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় গত ১০ দিন আগে শিল্পীক বাড়িতে নিয়ে এসে তালাকনামা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সালাহউদ্দিন গত রবিবার ও সোমবার গভীর রাতে তাদের (আক্তার) বাড়ির পাশ ঘোরাঘুরি করতো। কখনো তাকে গাছের উপর উঠে বসে থাকতে দেখা গেছে।

আক্তার হোসেন অভিযাগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভাত খেয়ে নিজের ঘরের বারাদায় মশারী টানিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তার ভাই আজগার। দিবাগত রাত একটার দিকে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সালাহউদ্দিন ঘুম অবস্থায় মশারির উপর দিয়ে আজগার আলীকে রাম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে চলে যায়।

ভাইয়ের চিৎকারে তিনিসহ স্থানীয়রা ছুঁটে এসে আজগার আলীকে রাত সোয়া দুইটার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান ভর্তি না নেওয়ায় বুধবার ভোর সোয়া চারটার দিকে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরী বিভাগ চিকিৎসা চলাকালিন ভোর ৫টার দিকে আজগার আলী মারা যান। খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ময়না তদন্ত শেষে বিকেলে লাশ গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে তিনি জানান।

নিহত আজগার আলীর স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন জানান, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শ্বশুরকে হত্যার পর সালাহউদ্দিন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আগে থেকে ভিসা প্রস্তুত করে রাখছে। যে কোন সময় সে ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে পালাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এ ব্যাপারে সালাহউদ্দিনের (২৫) সঙ্গে যোগাযাগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ওবায়দুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের একাধিক টিম হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে মাঠে রয়েছে।

#