সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দেওয়ার নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় !


425 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দেওয়ার নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় !
জুলাই ১৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্যানেলভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগপত্র প্রদানের জন্য ৪৩৩ জন সহকারী শিক্ষকদের নিকট থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নাম করে অর্থ বাণিজ্য করেছে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস। কোন রকম পরীক্ষা ও রিসিট ছাড়াই ৪৩৩ জনের নিকট থেকে আদায় করা হয়েছে অন্তত ৩ লক্ষ টাকা। শিক্ষকদের নিকট থেকে জোর পূর্বক আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে না দিয়ে পুরোটায় ভাগবটরা করেছে সিভিল সার্জনসহ কতিপয় কর্মচারী। সংশ্লিস্টরা জানায়, সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া ফরম পূরণ করেই আমাদের নিকট থেকে জনপ্রতি ৭৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। অর্থ আদায়কারী প্রধান অফিস সহকারী এম কে আশেক নওয়াজ জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশে টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে সিভিল সার্জন ডা: উৎপল কুমার দেবনাথ অর্থ আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, টাকা নেওয়ার কথা কোথাও বলা নেই, আবার নিষেধও করা নেই। তবে কত জনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দেওয়া হয়েছে তার কোন হিসেব বা রেজিষ্টারও নেই অফিসে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিভিল সার্জন মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সনদ দিবেন। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতি ২৭ টাকা করে আদায় করা যেতে পারে।

সূত্র জানায়, হাইকোর্টের রায়ের পরে গত জুন মাসে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্যানেলভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ পত্র প্রদান করেন। নিয়োগ পত্রে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে প্যানেলভুক্ত ৪৩৩ জন শিক্ষককে জেলার ৭টি উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে বলা হয়। একই সাথে জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও বলা হয়।

সূত্র আরো জানায়, জুনের মাঝামাঝি সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাইমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষকগণ জেলা সিভিল সার্জন অফিসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আসলে তাদের নিকট জনপ্রাতি পরীক্ষার ফি বাবদ ৭৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। কোন প্রার্থী স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গেলে তাকে দুটি ফরম ধরিয়ে দেওয়া হয়। আঙ্গুলের টিপ সহি নিয়ে ফরম পূরণ করে জমা দেওয়ার সময় সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান অফিস সহকারী এম কে আশেক নওয়াজকে দিতে হয় ৭৫০ টাকা। এ সময় তিনি ফরম সিভিল সার্জন উৎপল কুমার দেবনাথের নিকট জমা দিলে তিনি স্বাক্ষর করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দিয়ে দেন।
সূত্র আরো জানায়, সিভিল সার্জন একদিনে অন্তত একশো’র বেশি মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কারোর কোন টেস্ট করেন নি। আবার কারো গায়ে পর্যন্ত স্পর্শও করেননি। ফলে একজন চাকুরি প্রার্থী ফিট কিনা তা দেখারও প্রয়োজন বোধ করেন নি। যারা অর্থ দিয়েছে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দেওয়া হয়েছে।
একাধিক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, সিভিল সার্জন টাকা ছাড়া কাউকে পরীক্ষা করেনি। এটা তার দায়িত্ব। সরকারি অফিসে বসে তিনি কিভাবে ৭৫০ টাকা করে অর্থ আদায় করেন তা নিয়েও এই প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অপর এক প্রার্থী জানান, গত বছর এই অফিসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৫০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এবার কিভাবে ৭৫০ টাকা করে আদায় করেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমাদের পরীক্ষা তো দূরের কথা গায়ে স্পর্শ পর্যন্ত করেনি অফিসের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী। ফরম পূরণ করে অর্থ দিলেও পাওয়া গেছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ। সূত্র আরো জানায়, ঢাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ১০০-২০০ টাকা নেয় অফিসের পিয়ন। আবার অনেক ক্ষেত্রে নেনও না। তিনি এবিষয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবী জানিয়ে বলেন, চাকুরিতে প্রবেশে ঘুষের কারণে মানুষ বেশি ঘুষ খায়।
চাকুরি প্রার্থীরা আরো জানান, অফিসের প্রধান অফিস সহকারী এম কে আশেক নওয়াজ কোন ব্যক্তির নিকট থেকে অর্থ ছাড়া ফরম গ্রহণ করেন নি। দাবীকৃত অর্থ আদায়ের পরে তার ফরম স্বাক্ষর করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি কোন নিয়ম নীতি অনুসরণ করা হয়নি। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সূত্র আরো জানায়, আদায়কৃত অর্থ সিভিল সার্জনসহ অফিসের প্রধান অফিস সহকারী আশেক নওয়াজসহ কতিপয় কর্মকর্তার পকেটে গেছে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হয়নি। কর্মচারীরা পদ অনুসারে ভাগ পেয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান অফিস সহকারী এম কে আশেক নওয়াজ জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশে অর্থ আদায় করা হয়েছে। আদায়কৃত অর্থের সিংহভাগ সিভিল সার্জনের পকেটে গেছে। এ বিষয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুজ্জামান জানেন।
মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুজ্জামান জানান, এতো টাকা করে নেওয়ার কথা না।তবে সিভিল সার্জনের একটি ফিস থাকে।
আর সিভিল সার্জন ডা: উৎপল কুমার দেবনাথ ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, টাকা নেওয়ার কথা কোথাও বলা নেই, আবার নিষেধও করা নেই। সিভিল সার্জনের ফিস ৫০ টাকা হতে পারে না। মেডিকেল বোর্ডের জন্য টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে মেডিকেল বোর্ডে কে কে ছিলো তা জানাতে পারেনি অফিসের প্রধান অফিস সহকারী।