সাতক্ষীরায় হাইব্রিড বেগুন চাষে লাভবান কৃষকরা


2694 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় হাইব্রিড বেগুন চাষে লাভবান কৃষকরা
জুলাই ৪, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার :
স্থানীয় জাতের তুলনায় বেশি ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় সাতক্ষীরায় হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। তাছাড়া সল্প সময়ে অধিক ফলন হওয়ায় চাষীরা ব্যাপক হারে চাষ করছেন এ জাতের বেগুন।  চলতি গ্রীস্ম মৌসুমে সাতক্ষীরার সবকটি উপজেলাতেই অন্যসব সবজির পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ হয়েছে।
কৃষকরা জানায়, চারা রোপনের দুই মাসের মধ্যেই বেগুন উত্তোলন করা যায়। প্রতিটি বেগুন ৩০০ গ্রাম থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা গ্রামের বেগুন চাষী মোহর আলী জানান, চলতি গ্রীস্মকালীন মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে হাইব্রিড লুনা ও  বারি জাতের বেগুন চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বার মাসই অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বেগুনের চাষ করেন। প্রায় দুই দশক যাবত বিভিন্ন সবজির আবাদ করেন। তিনি বলেন, হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ খুব লাভজনক। এটি দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং অধিক উৎপাদন হয়। তবে এটি চাষে খরচ একটু বেশি হয় বলে জানান এই কৃষক। তিনি বলেন, হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষে বেশি যতœ নিতে হয়। কৃষক মোহর আলী জানান, এবার ২ বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ বাদে তার অন্তত  ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছে। তিনি বলেন, ইতি মধ্যে বেগুন উত্তোলন শুরু কলেছেন তার ক্ষেতে। তবে এবার বাজারে বেগুনের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে বলেনও জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৪৪০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৩১০ হেক্টর, তালায় ২৮০ হেক্টর, দেবহাটায় ১৬০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ২৯৫ হেক্টর,  আশাশুনিতে ১২০ হেক্টর ও শ্যামনগরে ৯৫ হেক্টর।
৮ থেকে ৯ প্রকার হাইব্রিড জাতের বেগুনের চাষ হয়েছে এ জেলায়। এরমধ্যে রয়েছে, লুনা, তারাপুরী বারি বেগুন-২, কাজলা বারি-৪, নয়নতারা ও বারি-৫ বিজয়। তবে এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে হাইব্রিড লুনা ও বিজয় জাতের বেগুন। কৃষকরা জানায়, এ দু‘জাতের বেগুন সারা বছর উৎপাদন করা যায়। তাছাড়া গাছের সব শাখা প্রশাখায় বেগুন ধরে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিকিদ মো. আব্দুল মান্নান বলেন, বেগুন একটি অত্যন্ত লাভজনক ও উপকারী ফসল। এটি বাংলাদেশে বার মাসে সবজি হিসেবে উৎপাদন করা হয়। তাছাড়া সবটির  চাহিদা আমাদের দেশে ব্যাপক। তিনি বলেন, এ ফসলটি সাতক্ষীরায় ব্যাপক হারে চাষ করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, হাইব্রিড জাতের চারা রোপনের সাথে সাথেই সেচ, সার ও কিটণাশক অতি জরুরী। তিনি বলেন, বেগুনের শত্রু হলো ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা। এটাকে দমন করতে পারলে চাষী বেশি লাভবান হবে।