সাতক্ষীরায় হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির আত্মপ্রকাশ


432 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির আত্মপ্রকাশ
ডিসেম্বর ১০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের সামাজিক  প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা বেড়েই চলেছে।নারী ও শিশু নিয়ত মানবাধিকার লংঘনের শিকার হচ্ছে ।  এর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে , রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানবাধিকার লংঘন একটি নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দারিদ্র দুরীকরন ও আইনের শাসন মানবাধিকার সুরক্ষার রক্ষাকবচ।

বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরায় মানবাধিকার দিবস পালন উপলক্ষে নতুন একটি মানবাধিকার সংস্থার আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আয়োজকরা । তারা বলেন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে। অথচ মানবাধিকারের মতো অতি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে আমরা পিছিয়ে থাকছি  । এমন অবস্থা চলতে থাকলে সমাজ প্রগতি বাধাগ্রস্থ হবে। তারা আরও বলেন পবিত্র সংবিধান আইন ও মৌলিক অধিকার বিষয়ে পুর্ন নিরাপত্তা দিয়েছে। অথচ বাস্তব প্রেক্ষাপটে আমরা মানবাধিকার লংঘন করে চলেছি।  শিশুর অধিকার মানবাধিকার , নারীর অধিকার মানবাধিকার, শ্রমিক কৃষকের অধিকার মানবাধিকার উল্লেখ করে তারা বলেন সকল ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতি মিলনায়তনে আত্মপ্রকাশ করা মানবাধিকার সংগঠনটির  নাম হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি। এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীন আইনজীবি জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি এড. আজহারুল ইসলাম।সংস্থাটির সহ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আরটিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী ও মো. মনিরুজ্জামান মনির।

এড. আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভির সুভাষ চৌধুরী ।  এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রফেসর এম সুশান্ত , সাবেক খাদ্য কর্মকর্তা ডা. এমএ মালেক, এড. হুমায়ুন কবির, সাবেক খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলি সিদ্দিকী, ফজিলা খাতুন, সাবেক পৌর কমিশনার মমতাজ সুলতানা, এড. সাইদুজ্জামান, মো. ইয়াসিন আলি , সাংবাদিক রবিউল ইসলাম, এড. প্রবীর মুখার্জী, ডা. হুমায়ুন কবির প্রমুখ।  এসময় বেশ কয়েকজন আইনজীবি ছাড়াও সাংবাদিক এবং  সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

প্রধান অতিথি সুভাষ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ বারবার মানবাধিকার লংঘনের শিকার হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি কয়েকজনের নাম তুলে ধরে বলেন আইন এবং সামাজিক সুরক্ষা দিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব।  তিনি আরও বলেন যে দেশে সব মানুষ এখনও শিক্ষিত হয়ে ওঠেনি , দারিদ্র যেখানে নিত্যসঙ্গী সেখানে মানবাধিকার লংঘন খুবই সাধারন ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহির্বিশ্বে তাকালে মানবাধিকার লংঘনের আরও ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি নতুন মানবাধিকার সংস্থার শুভ যাত্রা কামনা করে সভাপতি এড. আজহারুল ইসলামের গলায় মানবাধিকার আইডি কার্ড ঝুলিয়ে দেন ।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন অচিরেই পুর্নাঙ্গ জেলা কমিটির নাম ঘোষনা করা হবে এবং পরপরই জেলার আটটি থানায় একটি করে কমিটি গঠন করা হবে। তিনি মানবাধিকার লংঘনের যেকোনো ঘটনা ঘটলেই সেখানে হাজির হয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেন ।