সাতক্ষীরায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণ : সুফল পাবে কয়েক লাখ কৃষক


530 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণ : সুফল পাবে কয়েক লাখ কৃষক
জুলাই ২৮, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

উদ্যান ফসল (ফুল, ফল, শাক-সবজি ও মসলা) চাষাবাদ জনপ্রিয় করতে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণ হচ্ছে সাতক্ষীরায়। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শস্য বহুমূখীকরণ ও ফল বাগানভিত্তিক কৃষি চর্চা করতে পারলে একদিকে জেলার কৃষক যেমন লাভবান হবে, তেমনি আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও পুষ্টি চিত্রও বদলে যাবে। এ প্রকল্প থেকে সাতক্ষীরাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েক জেলার লাখ লাখ কৃষক সুফল পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বেতলা বাইপাস জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন ৩.৭৬ একর জমিতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের মধ্যে ৪তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ৩তলা অফিস, ডরমিটরী ও প্রশিক্ষণ কক্ষ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। একই সাথে চলছে বাউন্ডারী ওয়াল ও ভূমি উন্নয়নের কাজ। জমি অধিগ্রহণ, মূলভবন, বাউন্ডারী ওয়াল, ভূমি উন্নয়নসহ আনুষাঙ্গিক কাজে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত এ প্রকল্পটি ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যে সকল কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়ে পূর্ণ উৎপাদনক্ষম হবে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র আরও জানা যায়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ প্রকার ফল, ৯০ প্রকার সব্জি ও ৩০ প্রকার মসলাজাতীয় ফসলসহ ফুল, শোভাবর্ধনকারী এবং ভেষজ উদ্ভিদ চাষাবাদ হয়ে থাকে। এতে যে পরিমান ফসল উৎপাদন হয় তার ৬০ শতাংশ বছরের মাত্র ৪ মাসেই উৎপাদিত হয়ে থাকে। তাই সারা বছর সমানুপাতিক হারে কাঙ্খিত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফল উৎপাদন, বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিল্পের প্রসার, রপ্তানী, পর্যটন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ উন্নয়ন এবং অধিকতর পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয় অগ্রগতির লক্ষ্যে এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। একই সাথে নতুন জাতের আম, কাঁঠাল, কলা, নারিকেল, পেয়ারা, পেঁপে, কালোজাম, ড্রাগন ফল সম্প্রসারণসহ সকল প্রকার ফলের নতুন অবমুক্তায়িত এবং দেশী/বিদেশী নতুন সম্ভাবনাময় ফলের জাতসমূহ ব্যবহারেও ভূমিক রাখবে এ প্রতিষ্ঠানটি।
আরও জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় কৃষক প্রশিক্ষণ, মহিলা উদ্দ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, নার্সারীম্যান প্রশিক্ষণ, স্প্রেম্যান প্রশিক্ষণ, স্টেকহোল্ডার কন্সাল্টেশন, এসএএও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক একক ও মিশ্র ফলবাগান প্রদর্শনী স্থাপনের সুযোগ পরে কৃষক।
আরও জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে উদ্যান ফসলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করে জেনেটিক বেইজ তৈরী করা স্থানীয় এবং পার্শ্ববর্তী জেলা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদামফিক উন্নত জাত ও মানের ফল, ফুল, সবজি ও মসলার চারা/কলম/বীজ উৎপাদন ও সরকারী মূল্যে বিক্রয় করা। সাতক্ষীরা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নার্সারী মালিক, ফল, ফুল, সবজি এবং মসলা চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা। আগ্রহী ফল, ফুল, সবজি ও মসলা চাষী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী ও শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দকে ফল, ফুল, সবজি এবং মসলা চাষে উদ্বুদ্ধ কার ও শিক্ষা দেওয়া। জাতীয় বৃক্ষরোপন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় চারা/কলম উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ করা। পুষ্টি উন্নয়ন ও মহিলাদের কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে দরিদ্রতা বিমোচন করা। মাশরুম বীজ উৎপাদন ও উদ্দ্যোক্তা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ করা। উদ্যান বিষয়ক বিভিন্ন প্রযুক্তি হাতে কলমে প্রদর্শন এবং সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা। সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা। নতুন উদ্ভাবিত ফলের জাত সংগ্রহ করে মাতৃ বাগান সৃজন করা ও চারা-কলম তৈরী ও পরিবেশ সংরক্ষণে আইপিএম প্রযুক্তিসহ সকল জৈব কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করাই হবে এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার হর্টিকালচার সেন্টার সিনিয়র উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. আমজাদ হোসেন বলেন, জেলায় চার লক্ষ ২৪ হাজার ৬৮৪ জন কৃষকের চাষাবাদযোগ্য জমির পরিমাণ এক লাখ ৮৭ হাজার ২৪৮ হেক্টর। প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ উৎপাদনক্ষম হলে জেলায় শস্য বহুমূখীকরণ ও ফলের বাগান ভিত্তিক কৃষি চর্চা করতে পারলে যেমন কৃষক লাভবান হবে, তেমনি অর্থ ও পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ উৎপাদনক্ষম হবে। তখন জেলার কৃষি আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে। নতুন ফলের আবাদ বাড়বে। ফলের গুণগত মানও ঠিক থাকবে। যা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।