সাতক্ষীরায় ২৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে !


372 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ২৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে !
মে ১৪, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল ::
সাতক্ষীরায় ২৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। বিভাগীয় পদোন্নতির সুযোগ না থাকা ও প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বন্ধ থাকায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে শ্রেণি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চাপে পড়ছেন সহকারী শিক্ষকরা। একই সাথে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণি কার্যক্রম।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরায় ১০৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যেখানে ১০৭৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৮০১জন প্রধান শিক্ষক। বাকী ২৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র আরও জানায়, জেলার আশাশুনি উপজেলায় ১৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টি, কলারোয়া উপজেলায় ১২৭টির মধ্যে ২৪টি, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১৩৮টির মধ্যে ৩১টি, তালা উপজেলায় ২০৯টির মধ্যে ৫৯টি, দেবহাটা উপজেলায় ৫৫টির মধ্যে ১২টি, শ্যামনগর উপজেলায় ১৮৮টির মধ্যে ৪৭টি ও সদর উপজেলার ১৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী একাধিক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকায় নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমে অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। আবার রুটিনে ক্লাসও থাকে। দুই দিকে সামলাতে গিয়ে ব্যাহত হয় শ্রেণি কার্যক্রম। এতে ক্ষতি হয় শিক্ষার্থীদের।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির এক নেতা বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে আড়াই শতাধিক সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আর্থিক কোন সুবিধা না পেলেও তাদের বছরের পর বছর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে নানা অসুবিধার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় এই জটিলতা কাটছে না। এজন্য বিভাগীয় পদোন্নতি দিলে এই সংকট থাকতো না।
এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম জানান, আদালতে মামলা চলায় সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষকে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বন্ধ থাকায় সংকট কাটছে না। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত এই জটিলতা কেটে যাবে।
###