সাতক্ষীরায় ৪ এমপির নামে সাড়ে ৬৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ১৫৮ প্রকল্প


409 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ৪ এমপির নামে সাড়ে ৬৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ১৫৮ প্রকল্প
জুলাই ১৪, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

এম কামরুজ্জামান :
সাতক্ষীরার চারটি নির্বাচনী আসনে ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠাম প্রকল্প’ (আইআরআইডিপি)  এর আওতায় (প্রত্যেক সংসদ সদস্যদের নামে ১৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ) ৬৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫৮টি প্রকল্পের কাজ চলছে। এলজিইডি এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে। সাতক্ষীরা জেলায় গড়ে ৮৪ ভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে বলে দাবি এলজিইডির। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। তবে এই প্রকল্পের তালিকা প্রস্তুত  নিয়ে স্থানীয় এমপিদের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রিতির অভিযোগ।
সাতক্ষীরা এলজিইডি সূত্রে জানাগেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রত্যেক এমপির নামে ১৫ কোটি টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ আসে। এই বরাদ্দ দিয়ে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে আইআরআইডিপি’র আওতায় ১৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যবয়ে ৪৮টি প্রকল্প, সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে ১৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮টি প্রকল্প, সাতক্ষীরা-৩ (দেবহাটা,আশাশুনি ও কালিগঞ্জের একাংশ) ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৭টি প্রকল্প এবং সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের একাংশ) আসনে ১৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। স্থানীয় এমপিরা তার নির্বাচনী এলাকায় যেসব পাকা সড়ক নির্মান ও সংস্কার ,ব্রীজ ও কালভার্ট করার জন্য তালিকে করে পাঠিয়ে শুধুমাত্র সেসব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এলজিইডি কে।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এবং স্থানীয় একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, স্থানীয় এমপিরা যে তালিকা এলজিইডির কাছে দিয়েছে ওই তালিকা তৈরী নিয়ে দলীয়করণ, স্বজনপ্রিতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।তালিকা করার সময় গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন অনেক প্রকল্প তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, এই প্রকল্পে জেলার সব চেয়ে বড় কাজ সাতক্ষীরা সদস উপজেলার বেতনা নদীর উপর সুপারিঘাটা এলাকায় ৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রীজ নির্মান। নির্মান কাজ প্রায় শেষ। তবে কাজের মান নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সিডিউল অনুযায়ি তা করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সড়কের পাশে যে মাটির কাজ করা হয়েছে তা ধ্বসে পড়ছে। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে বলেন, কাজে কোন ধরনের দূর্নীতি ও অনিয়ম হয়নি। তবে এলাকায় পর্যাপ্ত মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু কিছু জায়গায় মাটি ধ্বসে গেছে। এসব মেরাতম করার কাজ চলছে। ফাইনাল বিল প্রস্তুত করার আগেই ঠিকাদারের কাছ থেকে তা বুঝে নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এমপিদের নামে ১৫ কোটি টাকার যে বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা দিয়ে জেলায় ১৫৮টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। মাত্র ১৪টি কাজ বাদে বাকি কাজ সবই শেষ হয়ে গেছে। আগামি ডিসেম্বরের আগেই এসব কাজ শেষ হবে।
উল্লেখ্য, এমপিদের নামে ১৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের কাজ শেষ হওয়ার আগেই আবারও একই প্রকল্পে প্রত্যেক এমপির নামে ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ ঘোষনা করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, আইআরআইডিপি প্রকল্পের নতুন যে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে তাতে যেন এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্রীজ ও কালভার্ট গুলোই স্থান পায়। এই তালিকা তৈরী নিয়ে যেন কোন ধরনের দলীয়করণ, স্বজনপ্রিতি বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে।