সাতক্ষীরায় ৫৮৪ টি মন্দিরে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি : ঝুঁকিপূর্ণ ১৯টি কেন্দ্র


158 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ৫৮৪ টি মন্দিরে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি : ঝুঁকিপূর্ণ ১৯টি কেন্দ্র
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

সাতক্ষীরায় সনাতন ধর্মালম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব (দূর্গাপূজা) কে কেন্দ্র করে সদরে ১০৫ সহ জেলায় সর্বমোট ৫৮৪ টি মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আগামী ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ষষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে শারদীয় দূর্গাৎসব শুরু হবে। সাতক্ষীরা সদর সহ জেলার অধিকাংশ মন্দিরে চলছে তারই প্রস্তুতি। কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমার সৌন্দর্য বর্ধনে। দূর্গা পূজার বাকি মাত্র ১৮ দিন। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছে। দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে মন্দিরগুলোতে দিনরাত মিলিয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সদরের মন্দির গুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরীর ধূম। সরজমিনে সদরের রসুলপুর,আলিপুর,ভোমরা,কাথন্দা,ছয়ঘোরিয়া,সোনাবাড়িয়া,ঝিটকি,ধুলিহর,নলতা, দোবহাটা,বাকা,বুধহাটা এলাকা ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ মন্দির গুলোতে মায়ের আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বকি আছে রং তুলির আঁচড় লাগানোর কাজ। এদিকে মাগুরা কর্মকারপাড়া সার্বজনিন পূজা ম-লের সভাপতি পবিত্র ব্যানার্জি বলেন আমাদের পূজা ম-লে এবার প্রতীমা তৈরির কাজ করছে আগরদড়ি থেকে আসা কারিগর (মৃৎশিল্পি) রঘুনাথ রায়। সুজয় পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত আছে সে। বাপ দাদাদের কাছেই শেখেন কাদা মাটি আর খড় দিয়ে কিভাবে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি। আন্যদিকে ঝিটকি এলাকার কারিগর অজয় পাল বলেন, বছরের সব সময় কাজ থাকে না তাই অধিকাংশ সময় বেকার থাকতে হয়। কিন্তু এখন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাজের চাপ বেশি তাই রাত দিন পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে মা দুর্গার প্রতিমা তৈরি করছি। আর কয়েকদিন পর প্রতিমা রং করা হবে। তবে কাঠ, সুতা, খড়, রং, কাপড় ও মুকুট দিয়ে এক সেট তৈরি করতে সময় লাগে ৮-১০ দিন। সাতক্ষীর জেলা মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ^ নাথ ঘোষ বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে। আগামী ১৮/৯/১৯ তারিখ জেলাপ্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনা সভা হওয়ার কথা আছে। তবে এই বছর সাতক্ষীরায় সর্বমোট ২০ টি মন্দিরকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আমরা বিশ^াস করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে যে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে তারা আন্তরিক ভাবে কাজ করলে কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটবে না। এবার উপজেলার ফিংড়িতে-০৯টি, লাবসায়-০৬টি, বল্লীতে-০৫টি,ঝাউডাঙ্গায়-১৮টি, আগড়দাড়িতে-১৩টি, ধুলিহরে-৩টি, ব্রক্ষ্ররাজপুরে-০৪টি, ভোমরায়-০৩টি, আলিপুরে-০টি, শিবপুরে-০৯টি, ঘোনায়-০৬টি, বাঁশদাহে-৪টি, কুশখালি-০৩টি, বৈকারি-০৩টি, ধানদিয়া ১৭টি, নগরঘাটায় ৯টি, সরুলিয়ায় ১০টি, কুমিরা ১৩টি, খলিষখালী ২০টি, তেতুলিয়া ৮টি, তালা ১৯টি, ইসলামকাটি ২০টি, মাগুরা ১০টি, খলিলনগর ২০টি, খেশরা ১৪টি, জালালপুর ১৬টি সর্বমোট ১২টি ইউনিয়নে ১৮২টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে। শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা মন্ডপগুলোকে তিনটি শ্রেনীতে ভাগ করেছি। আর সে অনুযায়ী আমরা তিনটি স্তরের নিরাপত্তা দেব। যেন কোন ধরণের অপ্রতীকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি। সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ যাতে নির্বিগ্নে তাদের উৎসব পালন করতে পারে সে বিষয়ে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এছাড়া দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ও সার্বক্ষনিক নিরাপত্তায় থাকবে যাতে পূর্বের ন্যায় এবারো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

#