সাতক্ষীরায় ৭৭ ইউনিয়নের ১২৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে


314 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ৭৭ ইউনিয়নের ১২৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে
মার্চ ২৫, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা জেলায় ৭৭ ইউনিয়নে ৩৪৪ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ১২৫ প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে এক-অষ্টমাংশ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচনের কেন্দ্র বিশৃঙ্খলার অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, শ্যামনগর ও দেবহাটা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ভোটের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। জেলা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, খুব দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, কলারোয়া উপজেলার ১২টির মধ্যে ১০টি ইউনিয়নে ২২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী তাঁদের জামানত হারাচ্ছে। লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের বিএনপির জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বতন্ত্র লুৎফর রহমান, কেড়াগাছি ইউনিয়নের বিএনপির আশরাফ হোসেন, জালালাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির রবিউল ইসলাম, জয়নগরে বিএনপির মাহফিজুর রহমান, স্বতন্ত্র মনিরা খাতুন, আব্দুর রউফ, শফিকুর রহমান মালি ও হাবিবুর রহমান এবং জাসদের ইসমাইল সরদার।

একই উপজেলায় দেয়াড়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী নাজমা পারভিন, চন্দনপুরে স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী হারুনার রশিদ, নুরুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির বদরুজ্জামান, জাসদের শাহজাহান আলম, স্বতন্ত্র আইয়ুব হোসেন জামানত হারিয়েছেন। এ ছাড়া যুগিখালী ইউনিয়নের বিএনপির রবিউল ইসলাম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওজিয়ার রহমান, হেলাতলার স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী ইকবাল হোসেন, বিল্লাল হোসেন ও বিএনপির মুনছুর আলী জামানত হারিয়েছেন।

আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ২৪ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাঁদের জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন শোভনালী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী পান্না কায়সার, জাতীয় পার্টির মো. সাইফুল্লাহ ও ইসলামী আন্দোলনের লুৎফর রহমান, শ্রীউলা ইউনিয়নে বিএনপির নুরুল আমিন ও স্বতন্ত্র জহুরুল হক। আশাশুনি সদরে জাতীয় পার্টির আজাদ হোসেন টুটুল, কাদাকাটি ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের আবদুল আজিজ ও বিএনপির তুহিনুল্লাহ সরদার, বড়দল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র আবুল কালাম সানা, বিশ্বজিত ম-ল, আব্দুল গফুর ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুস সবুর সরদার জামানত হারিয়েছেন।

আশাশুনি দরগাহপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইফুদ্দিন খান, এম জমিরুদ্দিন, সোহেল মামুন ও ইসলামী আন্দোলনের মাহবুবুর রহমান, খাজরা ইউনিয়নের বিএনপির বোরহান উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের হাফিজুল ইসলাম, প্রতাপনগরের বিএনপির শেখ শাহ আলম, আনুলিয়ার স্বতন্ত্র মো. ফারুকুজ্জামান, বুধহাটার শরিফা খাতুন ফুটফুটি, কুল্লার আওয়ামী লীগের আবু সাঈদ ও ইসলামী আন্দোলনের ইয়াকুব আলী জামানত হারিয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১১ জন জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র আকতারুজ্জামান, কুশুলিয়ার স্বতন্ত্র কাজী শাহনেওয়াজ ও জাতীয় পার্টির লতিফুর রহমান বাবলু, মথুরেশপুরের জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান, স্বতন্ত্র মুজিবুর রহমান ও শাহীনুর রহমান, বিষ্ণুপুরের বিএনপির রফিকুল ইসলাম, ধলবাড়িয়ার জাতীয় পার্টির আহমদ আলী সরদার, তারালি ইউনিয়নের বিএনপির আবদুর রাজ্জাক এবং রতনপুরের স্বতন্ত্র মুজিবর রহমান ও হিমাংশু ঘোষ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে একটি বাদে ১৩টিতে জামানত হারাচ্ছেন। লাবসার বিএনপির বিদ্রোহী এড. স ম আকবর আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন ও শাহীন হোসেন এবং জাতীয় পার্টির আবদুর রউফ বাবু, বল্লী ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির দুররুল হুদা লালু, আগরদাঁড়ির জাতীয় পার্টির আবদুল মান্নান, আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান ও স্বতন্ত্র লুৎফর রহমান, ধুলিহরের ইসলামী আন্দোলনের তোসাদ্দেক আহমেদ, ব্রক্ষ্মরাজপুরের বিএনএফের আজিজুর রহমান, শিবপুরে ইসলামী আন্দোলনের ইমাদুল ইসলাম, বাঁশদহার স্বতন্ত্র নাসিমুল হক, ইমাদুল হক, জাহাঙ্গীর আলম, ময়নুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, শেখ শাহিদুজ্জামান, কুশখালী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র গোলাম মোস্তফা ও জাতীয় পার্টির গোলাম হোসেন গাজী।

শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে একটি বাদে ১১টির জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন সদর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র আব্দুর রশিদ ও সাগর কুমার নন্দী, রমজাননগরের স্বতন্ত্র এরশাদ হোসেন, জাতীয় পার্টির আশরাফুল হাসান, নুরনগরের জাতীয় পার্টির আবু ইসা, স্বতন্ত্র মোকলেসুর রহমান, কাশিমারী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র আনিসুর রহমান গাজী, মুন্সীগঞ্জে জাতীয় পার্টির জি এম মুনসুর রহমান ও স্বতন্ত্র মুজিবর রহমান, ঈশ্বরীপুরে স্বতন্ত্র আবু বকর সিদ্দীক, বুড়িগোয়ালিনীর জাতীয় পার্টির এমদাদুল হক ও স্বতন্ত্র আমিনুর রহমান, ভুরুলিয়ার জাসদের বিমল কুমার ম-ল, জাতীয় পার্টির গালাম মোস্তফা, গাবুরার জি এম জহুরুল আলম ও জাতীয় পার্টির আবদুল হাকিম শেখ এবং আটুলিয়া ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন গাজী, আওয়ামী লীগের জি এম তাজউদ্দিন আহমেদ ও স্বতন্ত্র ইউনুস আলী।

অন্যদিকে তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের একটি বাদে ১১টিতে যারা জামানত হারিয়েছেন তাঁরা হলেন খেসরা ইউনিয়নে বিএনপির রফিকুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির রুস্তম জোয়ার্দার, স্বতন্ত্র রুহুল আমিন মোড়ল ও শেখ কামরুল ইসলাম, ধান্দিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র হামিজ উদ্দিন, নগরঘাটার জাসদের মিলন কুমার ঘোষাল, সরুলিয়ার জাতীয় পার্টির এস এম আলাউদ্দিন, জাসদের শেখ জাকির হোসেন এবং স্বতন্ত্র এস এম মুনিরুজ্জামান, জামাল উদ্দিন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. বদরুজ্জামান মোড়ল ও মো. রাশিদুল হক, ইসলামকাটির স্বতন্ত্র এস এম আলতাফ হোসেন, আব্দুল হামিদ, মিনহাজ উদ্দিন গাজী, হাসানুর জামান, শেখ লোকমান আলী এবং বিএনপির রেজাউল করিম খান, জালালপুর ইউনিয়নের ওয়ার্কার্স পার্টির সরদার রফিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়ায় জাসদের আব্দুল বারী মোড়ল, বিএনপির মিয়াজান মোড়ল ও স্বতন্ত্র আবদুল্লাহ, খলিলনগর ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির এস এম জাহাঙ্গীর হাসান, স্বতন্ত্র দেবব্রত কুমার রায় ও বিএনপির শাহাদাত হোসেন জামানত হারিয়েছেন। তালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম, মাগুরার বিএনপির আমিরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র জি এম ইমান আলী এবং খলিসখালী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র অশোক লাহিড়ী ও সুলতান আহমেদ খান জামানত হারিয়েছেন।

জেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, জামানত হারানো বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভোটার হিসেব করে তার বের করা হবে। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।