সাতক্ষীরা অঞ্চলে কমছে ছাগল উৎপাদন : পর্যাপ্ত খাদ্য ও চারণভুমির অভাব


440 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা অঞ্চলে কমছে ছাগল উৎপাদন : পর্যাপ্ত খাদ্য ও চারণভুমির অভাব
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার :
পর্যাপ্ত খাদ্য ও চারনভুমির অভাবে আশংকজনক হারে কমে যাচ্ছে সাতক্ষীরা অঞ্চলের ছাগল উৎপাদন। এক সময়ে উপকুলীয় জেলা সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার মানুষজন ব্যাপক হারে ছাগল পালন করতো। গ্রামের মাঠে-বিলে চরতে দেখা যেত বিভিন্ন প্রকার ছাগলের দল। স্থানীয় ভাবে সাধারন মানুষের আমিষের চাহিদা মিটিয়েও ঢাকা, চট্রোগ্রাম ও খুলনার বিভিন্ন এলাকার মাংস ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা থেকে ছাগল কিনে নিয়ে যেত। কিন্ত এখন আর সাতক্ষীরার গ্রামগঞ্জে তেমন আর ছাগল পালন করা হয় না। এ অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষের কারনে এ পশুটির পর্যাপ্ত খাদ্যভাবের পাশাপাশি নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে উৎপাদন কমে এসেছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বেতলা গ্রামের আকবার আলী জানান, দীর্ঘদিন যাবত ছাগল পালন করে আসছেন তিনি। দুই বছর আগেও তার খামারে ৫০ থেকে ৬০ টি বিভিন্ন জাতের ছাগল ছিলো। কিন্ত উন্মমুক্ত চারনভুমি না থাকার পাশাপাশি খাদ্য সংকটের কারনে তিনি ছাগল পালন কমিয়ে দিয়েছেন। বর্তমান তার বাড়ীতে এখন মাত্র ১৫ টি ছাগল রয়েছে বলে জানান তিনি।
একই উপজেলার লাবসা গ্রামের বৃদ্ধা সুফিয়া বেগল জানান, দেশীজাতের ছাগল পালন করেন তিনি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর যাবত। বছরে ৩৫ থেকে ৪০ টি ছাগল বিক্রি করে থাকেন তিনি। এতে খামারের খরচ বাদে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা লাভ হয়। কিন্ত বর্তমান তার গ্রামে ছাগল চরানোর মত উন্মুক্ত মাঠ না থাকায় ছাগল পালন প্রায় বন্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছেছে। মাত্র ৭ থেকে ৮ টি ছাগল পালন করেন এখন তিনি।
সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড় বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান জানান, সপ্তাহে চার দিন সাতক্ষীরা শহরের হাট বাজারগুলো ছাগল জবাই করা হয়ে থাকে। কিন্ত চাহিদার তুলনায় সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২০% ছাগল সংগ্রহ হয় কোনো রকম। ফলে জেলার বাইরে থেকে ছাগল আমদানি করে সাতক্ষীরার মাংসের চাহিদা মিটানো হয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রানী সম্পদ অফিস সুত্রে জানা গেছে, সরকারী হিসাব মতে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে বিভিন্ন জাতের ৩ লাখ ১৫ হাজার ৮১৯ টি ছাগল রয়েছে। কয়েক বছর আগেও এর সংখ্যা ছিলো ৫ লাখের উপরে। সুত্রটি আরো জানায়, জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে লোনা পানির চিংড়ি ঘের নির্মান করার ফলে ছাগল উৎপাদন আশংকজনক হারে কমে এসেছে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার শশাংক কুমার জানান, সাতক্ষীরা থেকে কেবল ছাগলই নয় অন্যান্য পশুর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। তিনি জানান, খাদ্য সংটকটের পাশাপাশি উন্মমুক্ত চারনভুমি না থাকার কারনে এ জেলার ছাগলের সংখ্যা দিন দিন আশংকজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে অন্যান্য পশুর তুলনায় ছাগল উৎপাদন বেশ লাভজনক হওয়ায় বাড়িতে খামার হিসাবেও ছাগল পালন হচ্ছে বলে জানান তিনি।