সাতক্ষীরা অঞ্চলে ভুট্রা চাষ ক্রমশ কমে যাচ্ছে


466 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা অঞ্চলে ভুট্রা চাষ ক্রমশ কমে যাচ্ছে
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার  ::
লবনাক্ততা বৃদ্দির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সাতক্ষীরা অঞ্চলে ভুট্রা চাষ ক্রমশ কমে যাচ্ছে । কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে উৎপাদিত ভুট্রা‘র বিপনিন ব্যবস্থা না থাকা। ফলে গত দুই বছরের ব্যবধানে ফসলটি‘র আবাদ কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি গবেশনা ইন্সিটিটিউট বিনেরপোতাস্থ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
মো. আতিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় ভুট্রার আবাদ কমে যাওয়ার অনেকগুলো কারনের মধ্যে অন্ততম কারনে হচ্ছে লবনাক্ততা বৃদ্দির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন। এর নেতিবাচক প্রভাবে ফসলটির আবাদ কমছে। তাছাড়া উৎপাদিত ভুট্রা সাতক্ষীরায় বিপনিন ব্যবস্থা না থাকা ও কৃষক পর্যায়ে বীজ সংরক্ষন করতে না পারার কারনেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষক। তিনি বলেন, যে সময়ে ভুট্রার আবাদ করবে কৃষক তখন তার আবাদী জমিতে জলবদ্ধতা থাকে। ফলে জলমগ্ন অবস্থায় জমিতে কৃষকরা বীজ বপন করতে পারে না । যে কারনে বাধ্য হয়ে চলে যায় বোরো চাষে । অথচ ভুট্রা চাষে খরচ যেমন কম আবার বেশি উৎপাদন হয়। উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্রা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হতে পারে। অন্যদিকে লবনসহিঞ্চু বারি-৯ এবং হাইব্রিড-১২ জাতের ভুট্রা বীজ উদ্ভাবন করা হয়েছে কৃষি গবেশনা থেকে।  উপকুলীয় জেলাতে এসব জাতের ভুট্রা চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারবে। তবে সাতক্ষীরা অঞ্চলের উৎপাদিত ভুট্রার বিপনিন ব্যবস্থা তেমন না থাকায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে ফসলটি চাষ করতে। তাছাড়া সাতক্ষীরা অঞ্চলে হাইব্রিড জাতের ভুট্রা চাষ হওয়ার কারনে কৃষকরা বীজ সংরক্ষন করতে পারেনা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, গত ২০১৪-১৫ সালে জেলার সাতটি উপজেলাতে ভুট্রা চাষ করা হয়েছিলো ২২০ হেক্টর জমিতে। এর পরের বছর ২০১৫-১৬ সালে জেলায় ভুট্রা চাষ করা হয় ১৬৫ হেক্টর জমিতে। কিন্ত চলতি ২০১৬-১৭ মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে ভুট্রা চাষ হয়েছে ১১৫ হেক্টর জমিতে। ফলে গত দুই বছরের ব্যবধানে জেলায় ভুট্রার আবাদ প্রায় ৫০ শতাংশ পরিমানর কমেমে।
চলতি মৌসুমে ১১৫ হেক্টর আবাদের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩১ হেক্টর, কলারোয়ায় ২৫ হেক্টর, তালায ২৩ হেক্টর, দেবহাটায় ৮ হেক্টর, কালিগঞ্জে ১৯ হেক্টর, আশাশুনিতে ৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলাতে ৪ হেক্টর।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মিয়া সাহেবেরডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ সরদার জানান, পর পর দুই বছর ভালো ফলন না পাওয়ায় চলতি মৌসুমে ভুট্রা চাষ করেননি। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে গত দুই বছর ভুট্রা চাষ করে লোকসান করেছেন। জমিতে লবনাক্ততা বৃদ্ধির কারনে ভুট্রার ভালো ফলন পাননি। তিনি বলেন, গাছ বেড়ে উঠলেও থোড় বা মোচা চিকন হয়ে যায় এবং দানাও ছোট দেখা দেয়। ফলে কাঙিত ফলন পাওয়া যায়নি। তাছাড়া যতসামান্য ফলন হলেও তা আবার বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়েছে তার। স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে না পেরে এক মৎস্য খামারীর কাছে কম মুল্যে বিক্রি করেন বলে জানান তিনি। যে কারনে এবার ভুট্রা চাষ করেননি বলে জানান।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার পাঁচনল গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের ভুট্রা চাষ করেছেন। যা গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম পরিমান। কারন হিসাবে তিনি বলেন, গত বছর ৫ বিঘা পরিমান জমিতে চাষ করে সাড়ে ৫ মেট্রিকটন ভুট্রা উৎপাদন করেন। কিন্ত উৎপাদিত ভুট্রা বিক্রি করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তার। অবশেষে সাতক্ষীরাতে বিক্রি করতে না পেরে যশোরে নিয়ে ওই ভুট্রা করেন। এতে তার পরিবহন খরচ গুনতে অনেক টাকা। তাই এবার কম পরিমান জমিতে ফসলটি চাষ করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, সাতক্ষীরা অঞ্চলে ভুট্রা চাষের উপযোগী হওয়ার পরও বিপনিন ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা তেমন আগ্রহ দেখায় না ফসলটি উৎপাদনে। তিনি আরো বলেন, অন্যান্য বছরে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এনজিও‘রা তাদের প্রকল্পের অধিনে কিছু কিছু কৃষকদের দিয়ে ভুট্রার আবাদ করাতো। কিন্ত গেল ২ বছর বা চলতি মৌসুমে এনজিও‘দের সেই প্রকল্প দেখা যাচ্ছে না। ফলে ভুট্রার আবাদ কমে যাচ্ছে সাতক্ষীরা জেলায়। তাছাড়া জলাবদ্ধতার কারনেও ভুট্রার আবাদ কমছে বলে জানান তিনি।
এই কৃষিবিদ আরো জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় প্যাসিফিক, ডন, কোহিনুর ও বারি-৯ জাতের ভুট্রা চাষ করা হয়েছে। #