সাতক্ষীরা উপকূলের লক্ষাধিক মানুষকে রক্ষার দাবীতে পাওবো’র সামনে মানববন্ধন


165 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূলের লক্ষাধিক মানুষকে রক্ষার দাবীতে পাওবো’র সামনে মানববন্ধন
আগস্ট ২৬, ২০২০ আশাশুনি দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী সাম্প্রতিক আমাবশ্যার জোয়ারের পানির প্রবল চাপে বেড়িবাঁধ ভাঙন এবং জলাবদ্ধতায় লন্ডভন্ড সাতক্ষীরাসহ উপকূলের মানুষকে রক্ষার দাবীতে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে অবস্থায় ও স্মারকলিপি পেশ করেছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি। ২৬ আগস্ট বুধবার বেলা ১টায় উক্ত স্মারকলিপি পেশ করা হয়। এর পূর্বে বেলা ১১টা থেকে বৃষ্টির মধ্যে জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক মো. আনিসুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচির বক্তারা বলেন, পানিতে ডুবে রয়েছে সাতক্ষীরার অধিকাংশ এলাকা। লাখ লাখ মানুষ পানির উপর ভাসছে। ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের, শাকসজ্বিসহ সবধরণের কৃষি খামার সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু এলাকায় মানুষের রান্না-বান্না করারও জায়গা নেই। মৃত মানুষের দাফন ও সৎকার করতে এক এলাকা থেকে অপর এলাকায় ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। পয়ঃনিষ্কাশন, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, পানি এখন শুরু উপজেলা ইউনিয়ন গ্রামে নয়, সাতক্ষীরা জেলা শহরে অবস্থিত সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স, বিজিবি ক্যাম্প, টেক্সটাইল মিলস, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা কালেকটারেটও পানিতে ভাসছে। শহরের মানুষও পানির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর পরপরই মাননীয় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই এই এলাকা পরিদর্শন করেন। এলাকায় নদীর পানি প্রবেশ বন্ধ করা, দ্রুত বাঁধ নির্মাণসহ সবধরণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। স্থানীয় জনসাধারণ স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেরা অর্থ দিয়ে বাঁশ, বস্তা, পেরেক কিনে সাতক্ষীরা জেলার বড়ধরণের তিনটি পয়েন্ট ছাড়া আর সকল স্থানে রিংবাঁধ নির্মাণ করে নদীর পানি প্রবেশ বন্ধ করে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ বাঁধার সাথে যুক্ত মানুষদের সহায়তা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ১০০০ মেট্রিক টন চাল প্রদান করা হয়। কোন কোন স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও বাঁশ, বস্তা, পেরেক নিয়ে সহায়তা করা হয় বলে আমরা জেনেছি। কিন্তু স্বেচ্ছাশ্রমে যেনতেনভাবে পানি বন্ধের পর বাঁধগুলো আরও মজবুত করতে আর কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। ভেঙে যাওয়া এসব বাঁধের অনেকস্থানে পূর্ব থেকেই ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। অনেকস্থানে ভাঙার পর ডিপিএম এর মাধ্যমে ইমার্জেন্সি কাজ করার জন্য নতুন করে ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ইমার্জেন্সি কাজের ও পূর্ব নির্ধারিত অধিকাংশ ঠিকাদার এলাকার কোন কাজ করেননি। এরফলে সাম্প্রতিক অমাবশ্যায় জোয়ারের পানির প্রবল চাপে পূর্বের ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো নতুন করে ভেঙে গিয়ে এলাকায় এক দুর্বিসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবী জানান এবং সাতক্ষীরাসহ উপকূলের মানুষকে বাঁচানোর আহবান জানান।

এসময় বক্তব্য রাখছেন, অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সুধাংশু শেখর সরকার, এড. শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, ওবায়দুস সুলতান বাবলু, সাংবাদিক এম কামরুজ্জামান, প্রভাষক ইদ্রিশ আলী, মাধব চন্দ্র দত্ত, এড, মনির উদ্দিন, এড. আল মাহামুদ পলাশ, অপারেশ পাল, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, তপন কুমার শীল, সুরেশ পান্ডে, কমরেড আবুল হোসেন, মুনসুর রহমান, কায়সারুজ্জামান হিমেল, কওসার আলী, আব্দুস সামাদ, মমিন হাওলাদার, আলী নুর খান বাবলু, এড. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা পৌরসভায় অবস্থান কর্মসূচি ও স্মরকলিপি পেশ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর গণস্বাক্ষর কর্মসূচি সফল করার আহবান জানানো হয়।

অবস্থান শেষে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ ও ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরাবর সাতক্ষীরাসহ উপকূলবাসীর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিভিন্ন দাবী দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

##

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির স্বারকলিপিতে যা উল্লেখ করা হয়েছে :

মাননীয়,
প্রতিমন্ত্রী
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বাংলাদেশ

মাধ্যম: নির্বাহী প্রকৌশলী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভাগ ১ ও ২, সাতক্ষীরা।

বিষয়: স্মারক লিপি।

মহাত্মন,
আমরা গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী সরকারের সবধরণের উদ্যোগের পরও সাতক্ষীরাসহ উপকূলের মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। ঝড়ের পরপরই মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই এই এলাকা পরিদর্শন করেন। এলাকায় নদীর পানি প্রবেশ বন্ধ করা, দ্রুত বাঁধ নির্মাণসহ সবধরণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। স্থানীয় জনসাধারণ স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেরা অর্থ দিয়ে বাঁশ, বস্তা, পেরেক কিনে সাতক্ষীরা জেলার বড়ধরণের তিনটি পয়েন্ট ছাড়া আর সকল স্থানে রিংবাঁধ নির্মাণ করে নদীর পানি প্রবেশ বন্ধ করে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ বাঁধার সাথে যুক্ত মানুষদের সহায়তা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ১০০০ মেট্রিক টন চাল প্রদান করা হয়। কোন কোন স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও বাঁশ, বস্তা, পেরেক নিয়ে সহায়তা করা হয় বলে আমরা জেনেছি। কিন্তু স্বেচ্ছাশ্রমে যেনতেনভাবে পানি বন্ধের পর বাঁধগুলো আরও মজবুত করতে আর কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। ভেঙে যাওয়া এসব বাঁধের অনেকস্থানে পূর্ব থেকেই ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। অনেকস্থানে ভাঙার পর ডিপিএম এর মাধ্যমে ইমার্জেন্সি কাজ করার জন্য নতুন করে ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ইমার্জেন্সি কাজের ও পূর্ব নির্ধারিত অধিকাংশ ঠিকাদার এলাকার কোন কাজ করেননি। এরফলে সাম্প্রতিক অমাবশ্যায় জোয়ারের পানির প্রবল চাপে পূর্বের ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো নতুন করে ভেঙে গিয়ে এলাকায় এক দুর্বিসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়,
জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যত্রতত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন, উজানের নদ-নদীগুলোর সাথে এখানকার নদ-নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং অপরিকল্পিত মাছের ঘের নির্মাণের কারণে ও পোল্ডারের ভিতরের পানি নিস্কাশনের খালগুলো বেদখল হয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় এলাকা এখন দেশের সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আয়লার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দেন। সেই অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক কাজও করা হয়। কিন্তু বেড়িবাঁধগুলো টেকসই হয়নি। প্রতিবছরই ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ছাড়াই ভারী জোয়ারেও বেড়িবাঁধ ভেঙেছে। আর এবার ভেঙেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে।

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী,
কপোতাক্ষ নদের ভাটিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা ও আশাশুনির দক্ষিণাংশ এবং খুলনার কয়রা উপজেলা ও পাইকগাছার দক্ষিণাংশের বেড়িবাঁধ প্রতিবছর ভাঙছে। আবার ঐ কপোতাক্ষের উজানে পাইকগাছা ও আশাশুনির উত্তরাংশ তালা, কলারোয়া, কেশবপুর, মণিরামপুরসহ উজানের অংশে প্রতিবছর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। একই অবস্থা খোলপেটুয়াসহ অন্যান্য নদীগুলোর। প্রতিবছরই নদী ভরাট প্রক্রিয়া ভাটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আর সেই নদী ভরাটের কেন্দ্রস্থলেই সবচেয়ে বেশি ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে একটি পোল্ডার বা একটি এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রকল্প তৈরী করে ভাঙন বা জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। এজন্য আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ উপকুলীয় এলাকা নিয়ে (বিশেষ করে সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলা) সমীক্ষার পর সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবী জানিয়ে আসছি।
সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে আমরা নি¤েœাক্ত দাবীগুলো পেশ করছি:
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙন ও জলাবন্ধতা কবলিত উপকূলীয় এলাকাকে ‘দুর্যোগ প্রবন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এই এলাকার উন্নয়নে পৃথক অথরিটি গঠন করতে হবে। দুর্যোগের কারণে এই এলাকা থেকে ব্যাপকহারে অভিবাসন বন্ধ করতে বিশেষ বরাদ্দ ও অর্থনৈতিক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। জলাবদ্ধ ও ভাঙন কবলিত এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য স্থায়ী রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী, মজবুত ও টেকসই বেড়িবাঁধ পুন:নির্মাণ করতে হবে। সামগ্রীক উন্নয়ন অংশিদার সুনিদ্দিষ্ট এসডিজি অর্জনে অগ্রধিকার ভিত্তিতে গৃহীত ডেল্টা ও ব্লু প্লানের আওতায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ক) বেড়িবাঁধের নদীর সাইটে পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
খ) লোকালয় সাইডে বেড়িবাঁধকে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশনা অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং বেড়িবাঁধ ও ঘেরের বাঁেধর মধ্যবর্তী স্থানে বৃক্ষরোপন করতে হবে।
গ) যেসব স্থানে বারবার বাঁধ ভাঙছে সেইসব স্থান চিহ্নিত করে সেখানে ভাঙন প্রতিরোধক স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও প্রয়োজনবোধে ড্রেজিং করতে হবে।
ঘ) বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব জমি না থাকলে ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।
ঙ) বাঁধের নিচে ১০০ ফুট এবং সেই অনুপাতে উচ্চতা ও উপরে চওড়া করতে হবে।
চ) বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরী তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনার সকল কাজে স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
জ) জলবায়ু পরিবর্তনকে একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত না করে এই এলাকায় প্রতিনিয়ত নদী ভাঙন ও জলাবন্ধতার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে হবে এবং মনুষ্য সৃষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ঝ) উপকূলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে। অন্যান্য প্রাণিকূলের জন্য মিষ্টি পানির আধার গড়ে তুলতে হবে।
ঞ) দুর্যোগ প্রবণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্রসহ মাটির কেল্লা তৈরী করতে হবে।

২. ক) জলাবদ্ধতার হাত থেকে সাতক্ষীরা শহর বাঁচাতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। খ) জেলার সকল নদী-খালের জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ যতদুর সম্ভব পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সকল বাধা অপসারণ করতে হবে। গ) ডিএস/সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদী-খালের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে। উদ্ধারকৃত জমি ইজারা দেওয়া যাবে না। নতুন করে আর কোন অপ্রয়োজনীয় স্লুইস গেট ও ক্লোজার নির্মাণ করা যাবে না। ঘ) গ্রাম-শহরের পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এমন স্থানে চিংড়ি চাষ বন্ধ করতে হবে। ঙ) ইছামতি নদীর সাথে মরিচ্চাপ-খোলপেটুয়া নদীর সংযোগস্থাপনকারী কুলিয়ার লাবন্যবতি ও পারুলিয়ার সাপমারা খালের দু’পাশের স্লুইস গেট অপসারণ করে জোয়ার-ভাটা চালু করতে হবে। চ) ইছামতি থেকে মাদার নদীর (আদি যমুনা) প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে। ছ) নিচু বিলগুলো উঁচু করতে টিআরএম প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। জ) সাতক্ষীরা শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত প্রাণ সায়র খালের স্বাভাবিক প্রবাহ চালু করতে হবে ও বেতনা ও মরিচ্চাপের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। ঝ) নদী খালের নেট-পাটা অপসারণ করতে হবে।

অতএব, উল্লেখিত দাবী সমূহ মূল্যায়নপূর্বক সাতক্ষীরাসহ উপকূলবাসীকে রক্ষা করতে আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক নির্দেশ প্রদানের অনুরোধ জানাচ্ছি।

ধন্যবাদান্তে

অনুলিপি:
১. মাননীয় সংসদ সদস্য, সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪
২. মাননীয় জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা
৩. মাননীয় পুলিশ সুপার, সাতক্ষীরা
৪. সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সাতক্ষীরা জেলা
৫. মাননীয় মেয়র, সাতক্ষীরা পৌরসভা