সাতক্ষীরা উপকূলে খাবার পানির তীব্র সংকট !


119 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূলে খাবার পানির তীব্র সংকট !
জুন ২৭, ২০২০ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

॥ সামিউল মনির ॥

ঘুর্ণিঝড় আম্পান এর তান্ডবের শিকার উপকুলবর্তী শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট চলছে। মাঝেমধ্যে সরকারি বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পানি বিতরণ করা হলেও বৃষ্টির শুরু থেকে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রাত্যহিক জীবনের গুরুত্বপুর্ন চাহিদা খাবার পানি না পেয়ে শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ চরম দুরাবস্থার মধ্যে দিন পার করছে।
তবে আম্পান তান্ডবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ দাতিনাখালী, বুড়িগোয়ালীনি, দুর্গবাটি ও কাশিমাড়ী আর গাবুরা ও পদ্মপুকুরের কিছু এলাকায় খাবার পানির সমস্যা মারাত্বক পর্যায়ে পৌছেছে।

সরেজমিনে গোলাখালী ও দাতিনাখালী আর কাশিমাড়ী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একটু খাবার পানির জন্য মানুষের মধ্যে হা-পিত্যেশ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন হঠাৎ করে পানি দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় অনেকে আকাশ পানে তাকিয়ে রীতিমত বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছে।
দাতিনাখালী গ্রামের মরিয়ম খাতুন জানায়, আম্পান এ বাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা লবন পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে কিছু মানুষ পানি দিত। কিন্তু ক’দিন ধরে বৃষ্টি মুরিু হওয়াতে তারা আর পানি দেচ্ছে না।

ভাত না খেয়ে এক/আধ দিন কাটিয়ে দেয়া যায়, তবে পানি ছাড়া এক মুহুর্ত চলে না- উল্লেখ করে বুড়িগোয়ালীনির বাবু রাম মন্ডল বলেন, বৃষ্টি হলি হাড়ি পাতিল কলস নে পানি ধরে রাখতিছি। পরে ঐ পানি দিয়ে কোন রকমে দিন কাটলেও সব সময় বৃষ্টি না হওয়ায় মাঝেমধ্যে পানির জন্যি খুব কষ্ট হচ্ছে।

পানি সংকট নিয়ে প্রায় অভিন্ন অভিযোগ কাশিমাড়ীর রবিউল ইসলাম, জাহানারা বেগম শাহাজালাল মোল্যা আর দুর্গাবটি গ্রামের পরীক্ষিত মন্ডলসহ অনেকেরই। তারা জানায় গত কয়েক দিন আগেও বেশকিছু প্রতিষ্ঠান পানি বিতরণ কার্যক্রম চালু রেখেছিল। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে তারা আর পানি দিতে আসছে না। অনেকে আবার অভিযোগ করেছেন, পানি বিতরণ কার্যক্রমের সাথে জড়িতরা পরিবার প্রতি দিনে এক কলস পানি দিচ্ছে। কিন্তু পরিবারের সদস্য সংখ্যা বিচেনায় না নেয়াতে বিতরণের পানি নিয়েও তাদের সমস্যা মিটছে না। এমনকি অনেককে ত্রাণ হিসেবে বিতরণের পানি সংগ্রহ করতে বাড়ি থেকে তিন থেকে পাঁচ কিলো মিটার পর্যন্ত পাড়ি দিতে হচ্ছে বলেও জানায়।

স্থানীয়রা জানায় কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও কয়েকদিন খাবার পানি সরবরাহ করেছে। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ার পর থেকে কোন পক্ষই আর পানি দিতে না আসায় তারা খাবার পানি নিয়ে মারাত্বক কষ্টে দিন পার করছে।

খাবার পানির সমস্যা প্রকট স্বীকার করে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আম্পান’র পর থেকে সরকারিভাবে প্রতিদিন প্রায় সত্তর হাজার লিটার পানি ভ্রাম্যমান ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এক মাস পর্যন্ত ঐ কার্যক্রম পরিচালনার পর লবন পানিতে ডুবে যাওয়া এলাকার টিউবওয়েলসমুহ উঁচু করার পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এনজিএফ ও সুশীলনসহ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েকদিন আগে পর্যন্ত পানি বিতরণ চলছিল বলেও তিনি জানান। তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি শুরু না হওয়া পর্যন্ত পানি সমস্যার সম্পুর্ন সমাধান হবে না বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।