সাতক্ষীরা উপকূলে গ্রামের উপর দিয়ে এখনও জোয়ার-ভাটা খেলছে


171 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূলে গ্রামের উপর দিয়ে এখনও জোয়ার-ভাটা খেলছে
জুন ৫, ২০২০ আশাশুনি ফটো গ্যালারি শ্যামনগর সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

মনজুর কাদীর

ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে সাতক্ষীরা উপকূলবর্তী আশাশুনি ও শ্য্যামনগর উপজেলায় যে ২৩টি জায়গায় বেড়িবাঁধ ধসে পড়েছিল তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক জায়গা এখনও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এসব ভাঙ্গন এলাকায় ক্লোজার দিয়েও রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বেশ কয়েকটি জায়গায় নদীতে ভাটার সময় বেড়িবাঁধ বাঁধা সম্ভব হলেও প্রবল জোয়ারের তোড়ে তা আবারও ধসে পড়ছে। বিশেষ করে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৭টি গ্রাম এবং শ্রিউলা ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের উপর দিয়ে এখনও জোয়ার ভাটা বয়ে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলার উপর দিয়ে কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, বেতনাসহ বড় বড় ৭টি নদী প্রবাহিত হয়েছে। এসব নদী গিয়ে মিলিত হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। সাতক্ষীরায় ৬০ বছর আগে নির্মিত ৮শ’ ২ কি:মি: বেড়িবাঁধের দেড় শতাধিক পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ২০ বছর আগেই মেয়াদ শেষ হওয়া বেড়িবাঁধগুলো আইলা,সিডর,ফনি,বুলবুল,আমপানসহ বিভিন্ন সময়ে সাইক্লোন,ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ।

সর্বশেষ গত ২০ মে ঘুর্ণিঝড় আমপানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ২৩টি পয়েন্ট ভেঙে প্লাবিত হয় বিস্তির্ণ এলাকা। দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার অর্ধেক জায়গায় ধ¦সে পড়া বেড়িবাঁধ এখনও বাধা সম্ভব হয়নি। ফলে কমপক্ষে ১৫ টি গ্রামের উপর খেলছে জোয়ার-ভাটা। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এলাকার অসংখ্য মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের দাবী ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চায়।

আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আম্পানে ধসেপড়া বেড়িবাঁধ নির্মানে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে। তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এলাকার হাজার হাজার মানুষ তাদের বেঁচে থাকার লড়াই-এ বাধ মেরামত করতে তারা সাদ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ঘুর্নিঝড় বুলবুল পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরায় সরকারের দুই জন মন্ত্রী এসে আশ্বাস দিয়ে ছিলেন আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

তবে আম্পান আঘাত হানার পর বেড়িবাঁধ দেখতে আসেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি এবারও আশ^াস দিয়েছেন টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের। উক’লীয় মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে বসে আছে।

আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল বলেন, আম্পানে ধসে পড়া বেড়িবাঁধ এখনও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। অনেক জায়গাতে ভাটায় বাধার পর প্রবল জোয়ারের তোড়ে তা আবারও ধসে যাচ্ছে। অসংখ্য মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছে। মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে তারা। বাধ সংস্কার করা না গেলে সাতক্ষীরা উপকূলীয় কয়েকটি গ্রাম রক্ষা করা যাবে না। বহু মানুষ তাদের পৈত্রিক বশতবাড়ি হারাবে। বানভাসি মানুষের দাবি সরকার উপকূকে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বাধ মেরামতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী বাধ বাধার কাজে সহযোগিতা করছে। উপক’লীয় মানুষও বাধ সংস্কারে রাতদিন কাজ করছে। আশাকরছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধসেপড়া বাধ সংস্কার করা সম্ভব হবে ।