সাতক্ষীরা উপকূলে জলবায়ু ক্ষতির শিকার ৪৩ হাজার নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প


206 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূলে জলবায়ু ক্ষতির শিকার ৪৩ হাজার নারীর সক্ষমতা  বৃদ্ধি প্রকল্প
জানুয়ারি ৩১, ২০২১ আশাশুনি দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরন শীর্ষক এক কর্মশালা

বিশেষ প্রতিনিধি :
দুর্যোগপ্রবন ও লবন প্রভাবিত খুলনা ও সাতক্ষীরার ৫টি উপকূলীয় উপজেলায় ৪৩ হাজার নারীর সক্ষমতা অর্জনে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি এবং খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়নের ১০১টি ওয়ার্ড। তাদেরকে কাঁকড়া চাষ, উঠানে সবজি চাষ, লবন সহিষ্ণু ধান ও মাছ চাষ,নার্সারী ও পানির ওপর সবজি চাষে সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাদের মাঝে সুপেয় পানি পৌছাতে ১৩ হাজার ৩০৮টি পরিবার বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টির পানি সংরক্ষন, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার ( পিএসএফ) ও পুকুরের পানি বিশুদ্ধকরন প্রকল্পও রয়েছে।

রোববার সাতক্ষীরায় ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বিশেষতঃ নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপি।

শহরের কামালনগরে তুফান কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেন। সবুজ জলবায়ু তহবিলের আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

উপকূলীয় এলাকার ৯৯ শতাংশ নারীকে তার পরিবারের জন্য ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে পানি আনতে যেতে হয় এবং স্বাদু পানি দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে কর্মশালায় বক্তারা আরও বলেন, তাদের জীবনমান উন্নয়নে ২৭৬ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকার এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি পুকুরের পানি শোধনাগার কর্মসূচী রয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির শিকার হয়ে থাকে উপকূলীয় নারীরা। এ প্রসঙ্গে বক্তারা এ অঞ্চলে বারবার দুর্যোগ বিশেষ করে সিডর আইলা বুলবুল আম্পানের ভয়াবহ ক্ষত চিহ্ণ ও আঘাতের চিত্র তুলে ধরেন। জেন্ডার রেসপনসিভ ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন বা জিসিএ শীর্ষক এই প্রকল্পের ক্ার্যক্রম ফেব্রুয়ারি মাসে জরিপ শেষে মার্চ থেকে ২৪৫ টি গ্রামে এক যোগে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী জামানুর রহমান, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর প্রতিনিধি খুরশীদ আলম শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন . ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আক্তার ডলি, আশাশুনির ভাইস চেয়ারম্যান মোসলেমা খাতুন মিলি প্রকল্প পরিচালক আলমগীর হোসেন প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন বলেন উপকূলের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। যথাযথ সমন্বয় ও উপযোগীতা বিবেচনায় এনে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। তাদেরকে লবনাক্ততামুক্ত করতে পারলে উপকূলের বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের এই সবুজ জলবায়ু তহবিলের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশের ১৯ টি জেলায় বিশেষ করে ১১ টি জেলায় জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত লবনাক্ততা অসহনীয় মাত্রায় পৌছে গেছে জানিয়ে কর্মশালায় বলা হয় এ অবস্থা থেকে মক্তি হতে জিসিএফ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু সংখ্যক স্কুলেও সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বারবার দুর্যোগে সাতক্ষীরার ক্ষত চিহ্ন তুলে ধরে বলেন উপকূলীয় নারীদের সক্ষমতা অর্জনের এই কর্মসূচির সাথে বাড়িতে মৌ বাক্স বসিয়ে মধু চাষ, জলের ওপর সবজি উৎপাদন , উপআনুণ্ঠানিক শিক্ষা ও পুষ্টি উন্নয়ন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

কর্মশালার শুরুতে প্রকল্প পরিচালক ইকবাল হোসেন এবং পরে ইউএনডিপি প্রতিনিধি খুরশীদ আলম প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।