সাতক্ষীরা উপকূলে জোয়ার ভাটায় হাবুডুবু খাচ্ছে ৫০ হাজার মানুষ !


198 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূলে জোয়ার ভাটায় হাবুডুবু খাচ্ছে ৫০ হাজার মানুষ !
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সাড়ে ৮ মাস পেরিয়ে………

এস,কে হাসান ::

গত ২০ মে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ওই সময় ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে পাউবো’র বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে যায় উপজেলার বেশ কিছু এলাকা। যার একটি হচ্ছে প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়ন।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর সাড়ে ৮মাস পার হলেও বাঁধ নির্মান শেষ না হওয়ায় উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের মানুষ তাদের দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় নিয়মিত জোয়ার-ভাটার মধ্যে বসবাস করছে।

সাতক্ষীরা শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের প্রতাপনগর, কুড়িকাউনিয়া, হরিশখালী, চাকলা, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ও মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, ঘরবাড়ি, গাছগাছালি, রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ, চিংড়িঘের, পুকুর, পানির আধার সবকিছুই নিশ্চিহ্ন করে উপকূলবাসীকে নিঃস্ব করে দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। আম্পানের আঘাতে খোলপেটুয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় গ্রামের পর গ্রাম। গাছপালা, ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে দুমড়েমুচড়ে পড়ে। ফসলের খেত আর মাছের ঘের ভেসে যায়। বিধ্বস্ত জনপদে পরিণত হয় প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের ৩৯টি গ্রাম। দুই ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আম্পানের সারে ৮মাস পার হলেও এখনো পর্যন্ত তারা তাদের দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

নাকনা গ্রামের সিমা আক্তার জানান, দির্ঘদিন আমরা বিলের ভেতর পড়ে আছি আমাদের কেউ খোঁজও নেয় না । প্রায় ছেলে মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পরছে। বাড়ী থেকে ভেলায় করে মেইন সড়কে আসতে হয়। এতো কষ্ট আর নিতে পারছি না।
কুড়িকাউনিয়া রবিউল ইসলাম জানান, আমাদের আর এখানে থাকার কোন ইচ্ছা নেই, আম্পান আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। ঘরের ভেতর জোয়ার ভাটার পানি উঠানামা করছে কোন আশায় আমরা এখানে পড়ে থাকবো?
শ্রীপুর গ্রামের রবিউল মোড়ল বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার আঘাতে ভেঙে তছনছ হয়ে যায় আমাদের ঘরবাড়ী। আইলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেসে যায় গ্রামের পর গ্রাম। তখনো আমরা এত পানি দেখিনি।

শ্রীউলার মোকছেদ আলি জানান, বর্তমানে আমাদের থাকার জায়গা নেই, টোঁং বেধে কষ্ট করে সেখানে থাকি ছেলেপুলে নিয়ে, ঘরে খাবার নেই, খাওয়ার পানি নেই। স্যানিটেশন ব্যবস্থা একেবারেই নেই।
প্রতাপনগরে দায়িত্বরত পাউবো’র (এসও) আলমগীর হোসেন জানান, বর্তমানে,কুড়িকাহনিয়া,চাকলা ও হরিশখালী এ তিনটা পয়েন্ট দিয়ে জোয়ার ভাটা পানি উঠা নামা করছে। আগামী ৫দিনের ভেতর কুড়িকাহনিয়া আটকাতে পারবো। চাকলা কয়েকদিন লাগবে। আগামী এমাসের ভেতর সব বাঁধ আটকানো সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, আম্পান আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে । আমাদের কষ্টের কোন সীমা নেই। আম্পানের পরবর্তী বাঁধ বাধার পর দুইবার ভেঙ্গে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে । এতে ঘরবাড়ি,মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । বর্তমান ৩টা পয়েন্ট দিয়ে জোয়ার ভাটা চলছে। প্রতাপনগরের অবস্থা ২০ মে’র মত হয়েছে। একটা মানুষ মারা গেলে ও তার কবরটা পানির ভেতর দিতে হচ্ছে। প্রতাপনগরের মানুষের দুর্ভোগের কোন শেষ নেই ।
শ্রীউলা উপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল জানান,সাড়ে ৮মাস পরও আমার ইউনিয়নের অনেক মানুয় পানির ভেতর বসবাস করেছে। মানুষের ঘরে খাবার নেই,খাওয়ার পানি নেই। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরেছে। হাজরাখালি ও কোলা বেড়ী বাঁধ আটকানো হলেও মানুষের দুর্ভোগ এখনো কমেনি।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মীর আলিফ রেজা বলেন, বেড়িবাঁধগুলোর সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সংস্কারের ফলে ভাঙা বেড়িবাঁধগুলো আগের মতো দৃশ্যমান হচ্ছে। বাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী তাঁদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।