সাতক্ষীরা উপকূলে ঝূঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কা


134 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূলে ঝূঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কা
মে ১২, ২০২২ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল শাহাদাৎ জাকির ::

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আসানির প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আতঙ্কে আছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। জোয়ারের পানির তোড়ে জেলার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরা উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে ৪৪টি পয়েন্টের বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি এখন ঘূর্ণিঝড় আসানিতে রূপ নিয়েছে। এটি আঘাত হানলে জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে আবারও এলাকা প্লাবিত হবে বলে আশঙ্কা করছেন উপকূলবাসী।

শ্যামনগর উপজেলার রবিউল ইসলাম বলেন, উপকূলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ। এলাকাবাসীর জোরালো দাবি সত্ত্বেও এখনো টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। যার কারণে দুর্যোগ আসলেই আতঙ্কে বুক কাঁপে উপকূলবাসীর।

একই উপজেলার ভেটখালী গ্রামের তাহেরা খাতুন বলেন ২০২০ সালে আম্পান ঝড়ের সময় ভেটখালির বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। তারপর সেটা ঠিক করা হয়নি।

হরিনগর গ্রামের নির্মল রায় বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ইয়াসের পর জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ করেছে। তবে কিছু এলাকায় কাজ না করায় আতঙ্ক বেড়ে গেছে সেসব এলাকার মানুষের। ওইসব এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকদের বলার পরও তারা কোন কাজ করেননি।

তিনি আরও বলেন, আম্পানের রেশ কাটতে না কাটতে আবার আসানি নামের ঝড়ের আভাস শোনা যাচ্ছে। এই ঝড়ে অনেক জায়গা ভাঙার আশঙ্কা আছে। যদি বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকে তাহলে আমরা কোথায় যাবো?
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অসীম মৃধা বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্ট খুব ঝূঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানোর পরও তারা কোনপ্রকার কাজ করেননি।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকা নদীবেষ্টিত। এখানে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। সরকারি মহল থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও, তা বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় না। যে কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে ইউনিয়নের মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে আতঙ্কে থাকি।

এদিকে ভেটখালি, হরিনগর, মুন্সিগঞ্জসহ ওই উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে ৫টি, গাবুরায় ৭টি, পদ্মপুকুরে ৮টি, কাশিমাড়ীতে ১টি ও আটুলিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের ১টি পয়েন্ট খুবই ঝূঁকিপূর্ণ। এছাড়াও আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, শ্রীউলা ও আশাশুনি সদরসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধের অবস্থা খারাপ থাকলেও তিনটি পয়েন্ট সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আসানির প্রভাবে এসব পয়েন্টের পরিস্থিতি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর থেকে ওই এলাকার মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তবে বিশেষ করে আশাশুনি ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষ বেশি চিন্তিত। বিষয়টি দ্রুত নজরদারিতে এনে রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন ওই এলাকার স্থানীয় লোকজন।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আসানি মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে ৯৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। এর ভিতরে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ১৯৭টি আর স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৭৪০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে তিন লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব। দুর্যোগ পূর্ব ও পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য সাড়ে তিনহাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এব্যাপারে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর জেলার অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। আপাতত নদী ভাঙনের কোন সমস্যা নেই। তবে অতিরিক্ত জোয়ারের পানি যেন ছাপিয়ে বাঁধের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য একাধিক টিম কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ মজুদ করে রেখেছি। যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে তৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

#