সাতক্ষীরা উপকূলে শুরু হয়েছে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি, উত্তাল নদ-নদী


349 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূলে শুরু হয়েছে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি, উত্তাল নদ-নদী
মে ২০, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আশ্রয় কেন্দ্রে লক্ষাধিক মানুষ

৪৩ পয়েন্টে বেড়িবাধ ঝুকিপূর্ণ

আসাদুজ্জামান ::

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় রাত থেকে থেমে থেকে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি হচ্ছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে নদ-নদী। জোয়ারের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। যত সময় বেশী হচ্ছে ততই বাড়ছে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কবল থেকে রক্ষা পেতে মানুষ ছুটছে আশ্রয় কেন্দ্রে। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে উপকুলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের বিষয়ে সতর্ক করে উপকূলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বত্র মাইকিং করছে সিপিপি সদস্যরা। তোলা হয়েছে লাল ফ্লাগ। উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা, পদ্মপুকুরসহ অন্যান্য ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার কাজ করছেন প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, নৌ বাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার এক হাজার ২৭২টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ও পদ্মপুকুরের ৫৫ হাজার মানুষের মধ্যে ১০ হাজার মানুষকে নদী পার নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। বাকী মানুষ স্থানীয় আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্কুল ও মসজিদসহ বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাধ নিয়ে আতংকে আছে উপকূলের মানুষ। শ্যামনগর ও আশাশুনির অন্তত ৪৩টি পয়েন্টে বেড়িবাধ জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যা ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ডাম্পিং করে মেরামতে করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম আবুজর গিফারী জানান, উপকুলী উপজেলা শ্যামনগরের ৬৫ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে বর্তমানে অবস্থান করছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, জেলার উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পর্যাপ্ত মাস্ক ও গামছা দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ প্রত্যেক ইউনিয়নে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ২৫০ মেট্রিক টন চাল ও ১২ লাখ টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে।

#