সাতক্ষীরা উপকূল আম্পানের আঘাতে বিপর্যস্ত


251 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূল আম্পানের আঘাতে বিপর্যস্ত
মে ২০, ২০২০ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আম্পানের প্রভাবে সুন্দরবনে নদীতে ভাটায়ও উপচে পড়া পানি

আশ্রয়ে তিন লাখ মানুষ ও ২৯ হাজার গবাদি পশু

বিশেষ প্রতিনিধি ::

সাতক্ষীরা উপকূল আম্পানের আঘাতে বিপর্যস্ত।ক্ষিপ্র গতিতে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সাতক্ষীরার সুন্দরবনসংলগ্ন নদ নদীতে ভাটার সময়েও পানি কমেনি। নদীর পানি ভাটায় কমই টানতে দেখা গেছে। নদীগুলি হয়ে উঠেছে ক্ষিপ্র রাক্ষুসী। এর ফলে বুধবার সন্ধ্যায় জোয়ার উঠলে এবং একই সাথে আম্পান আঘাত করলে পরিস্থিতি কী হতে পারে তা নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন উপকূলের মানুষ।
এদিকে আম্পানের প্রভাবে সাতক্ষীরায় দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে দুপুরে ঝড়ো হাওয়া উঠতে থাকে। সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখার সময় জোরালো দমকা হাওয়া বইছিলো এবং নদনদীর পানি আছড়ে পড়ছিলো বেড়িবাঁধের ওপর। বুধবার দিনভর সুর্যের মুখ দেখা যায়নি। উপকূলের মানুষ সন্ধ্যায় ভরা অমাবস্যার মধ্যে আম্পানের সম্ভাব্য আঘাতের সময় জোয়ার উঠলে জীবন ও সম্পদের সমূহ ক্ষতি হতে পারে এমন আশংকা করছেন।

শ্যামনগর ও আশাশুনির বিভিন্ন ইউনিয়নের বিশেষ করে গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও শ্রীউলা ইউনিয়নে ৪৫ টিরও বেশী বেড়িবাঁধ পয়েন্ট ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে গাবুরার নেবুবুনিয়া, নিজামিয়া মাদ্রাসার সামনে ও পদ্মপুকুরের চাউলখোলা, খুটিকাটা, কামালকাটি ও চন্ডিপুরে কপোতাক্ষ এবং খোলপেটুয়ার পানি বেড়িবাঁধ উপচে পড়তে শুরু করেছে। পদ্মপুকুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান জানান এসব স্থানে তারা বালির বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল জানান তার এলাকার দাতিনাখালি, ভামিয়া ও দুর্গাবাটির তিনটি পয়েন্টে খোলপেটুয়া নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী হয়ে উঠেছে উত্তাল। এসব নদী এখন ক্ষিপ্র রাক্ষুসীর রূপ নিয়েছে। তিনি জানান সেই সাথে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে এ এলাকা তলিয়ে যাবার আশংকা করছেন মানুষ।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ঝুঁকির মধ্যে থাকা ২ লাখ ৮৯ হাজার মানুষকে ১৮৪৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও বিভিন্ন স্কুলকলেজের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। একই সাথে ২৯ হাজার গবাদি পশুর জীবন রক্ষায়ও এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তিনি জানান সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূর্গত মানুষকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃদ্ধ বৃদ্ধা , প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী মায়েদের সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সব নদীতেই পানি অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলিয়া, হরিশখালি, চাকলা, কুড়িকাহনিয়া, শ্রীপুর এবং কোলায় বেড়িবাঁধ ভাঙনের মুখে। সেখানে গ্রামবাসী বাঁধ ঠেকানোর কাজ করছেন। একই উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুর, আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছোট এবং শ্রীউলা ইউনিয়নের মাড়িয়ালা ও হাজরাখালিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাসী। গাবুরা ইউপি মেম্বার গোলাম মোস্তফা জানান তার এলাকায় খোলপেটুয়া এবং কপোতাক্ষ নদীর পানি ওভার ফ্লো হয়েছে। সেখানে বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের সীমান্ত নদী কালিন্দী এবং মাদার নদীর পানি ফেঁপে বনে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে উপকূলীয় এলাকার শত শত চিংড়ি ঘের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘেরের ছোট ছোট রিং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে বলে চিংড়ি চাষীরা জানিয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখার সময় একই সাথে ঝড় ও বৃষ্টি হচ্ছিল। জনজীবন একরকম হয়ে পড়ে স্থবির।

#