সাতক্ষীরা উপকূল জুড়ে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি


96 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূল জুড়ে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি
জুন ৩০, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

আকাশে মেঘ দেখলেই বুক কাঁপে। বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে কাটে রাত-দিন। বারবার ভাঙে বাঁধ। বারবার ভেসে যায় আমাদের বাড়িঘর। বারবার নষ্ট হয় ফসলের ক্ষেত। ঘূর্ণিঝড় আমাদের গা সওয়া বিষয়। নদীর পানিতেই আমাদের বসবাস। আমরা আর ভাসতে চাই না। আমরা বাঁচতে চাই। আমরা টেকসই বেড়িবাঁধ চাই। শুক্রবার সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে এভাবে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি, পদ্মপুকুর ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আনিসুর রহিমের নেতৃত্বে আম্পান দুর্গত শ্যামনগর উপজেলা পরিদর্শন করেন সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, বাসদ নেতা এড. আজাদ হোসেন বেলাল, নিত্যানন্দ সরকার, জাপা নেতা আনোয়ার জাহিদ তপন, জাসদ নেতা আশেক ই এলাহী, সিপিবি নেতা আবুল হোসেন, গণফোরাম নেতা আলী নূর খান বাবুল, কারিগরী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তপন কুমার শীল, উদীচী নেতা শেখ সিদ্দিকুর রহমান, সাহিত্যিক ও কবি গাজী শাহজাহান সিরাজ, উন্নয়ন কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মিজানুর রহমান, দেশ টিভির শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট ও দৈনিক পত্রদূতের এসএম শহীদুল ইসলাম, সূর্যের আলোর মুনসুর রহমান, সংবাদকর্মী জহুরুল কবির, নুসরিকা অদ্রি, সুশীলনের মনিরুজ্জামান ও দেবরঞ্জন বিশ্বাসসহ নেতৃবৃন্দ।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিদর্শনকালে ইউপি চেয়ারম্যান এড. এসএম আতাউর রহমান বলেন, ২০ মে সুপার সাইক্লোন আম্পানের আঘাতে ৮টি পয়েটে বেড়িবাঁধ ভাঙে। স্থানীয় লোকজন নিয়ে পরের দিন ৬টি পয়েন্টে বাঁধবাঁধা সম্ভাব হলেও দুটি পয়েন্টে বাঁধা যায়নি। ফলে ওই দুটি পয়েন্ট দিয়ে পানি ঢুকে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় দুই সহ¯্রাধিক পরিবার। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় সহ¯্রাধিক পরিবার। তিনি বলেন, পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ৩৭ হাজার জনসংখ্যা। ৮হাজার পরিবার। প্রায় সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত। দশ কিলোমিটার কাচা রাস্তার কোন অস্তিত্ব নেই। ৬ কিলোমিটার ইটের সোলিং ভেঙে গেছে। উচু রাস্তার উপর এখনো মানুষ টোং বেঁধে বসবাস করছে। তিনি সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে নাগরিক কমিটির ২১ দফা কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। এসময় তিনি জেলা নাগরিক কমিটির সকল আন্দোলন সংগ্রামে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে টেকসই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান।
পদ¥পুকুর ইউনিয়ন থেকে নাগরিক কমিটির পরিদর্শন বোট পানির বুক চিরে ছুটে চলে কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ঝাপালি ভাঙন কবলিত এলাকায়। যেতে যেতে চোখে পড়ে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাধেঁর জরাজীর্ণ চেহারা। কোথাও বাঁধ আছে আবার কোথাও নেই। রিংবাঁধ দিয়ে আপাতত পানি আটকানো হয়েছে অধিকাংশ জায়গায়। আটুলিয়া ইউনিয়নের বিড়ালক্ষী এলাকায় রিংবাঁধ বাঁধা হয়েছে। নৌকা পৌছালো কাশিমাড়ির ঝাপালি। দেখা গেলা দুই সহ¯্রাধিক মানুষ ঝুড়ি কোদাল নিয়ে রিংবাঁধ বাঁধার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কথা হলো তাদের সাথে। ইউপি মেম্বর রাজগুল জানালেন, কাশিমাড়ি ইউনিয়নে লোকসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। ভোটার ২২ হাজার। খোল পেটুয়া নদীর মাত্র একটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও কালিগঞ্জের কালিকাপুর, বালিয়াডাঙ্গা, রামনগর. রহমতপুরসহ প্রায় ৮-১০টি গ্রাম। তিনি আরও বলেন, মাছের ঘের, ফসলের ক্ষেত, ঘরবাড়ি সবই ভেসে গেছে বানে জলে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, আজগর আলীসহ অনেকেই জানান, সুপার সাইক্লোন ‘আম্পানের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলা। উপকূল রক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। চিংড়ী ঘের আর কাঁকড়ার প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছাড়াও অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটিসহ হাজার হাজার গাছ উপড়ে গেছে। বাঁধ, বসতঘরসহ চিংড়ি আর কাকঁড়া প্রজেক্টের ক্ষয়ক্ষতি কয়েক শত কোটি টাকা। জরাজীর্ণ বাঁধের ভাঙন কবলিত অংশ মেরামত করতে না পারার কারণে দাতিনাখালী, গাবুরা, নাপিতখালী, নেবুবুনিয়া, পদ্মপুকুর, ঘোলা, ঝাপালী ও দুর্গাবাটিসহ গোলাখালীর মানুষ রীতিমত জোয়ার-ভাটার মধ্যে বসবাস করছেন তারা। অনেকে পানিতে ডুবে থাকা বসত ঘর থেকে মুল্যবান জিনিসপত্র নৌকাযোগে অন্যত্র নেয়। এছাড়া দাতিনাখালী, বুড়িগোয়ালীনি, দুর্গাবাটি, গাবুরা এবং গোলাখালীসহ কয়েকটি অংশের মানুষ পানিতে ভেসে থাকা বসত ঘর ছেড়ে রাস্তা আর উঁচু এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩০ কিলোমিটার বাঁধের পনেরটি স্থানে ভেঙে যায়। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন মেরামতের চেষ্টা চলছে।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া নদীর কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ঝাপালী অংশের পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে কাশিমাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের অনেক গ্রাম, খালবিল, পথঘাট, ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘের প্ল¬াবিত হয়। জোয়ারের পানিতে শুধু বাড়িঘর ধ্বসে পড়েনি, পাকা রাস্তা ভেঙে উপজেলা সদরে যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
শ্যামনগর-ঝাপালী সড়কের একাধিক স্থানে প্রবল বেগে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়। এতে পিচের রাস্তা বড় বড় খানা খন্দের সৃষ্টি হওয়াসহ চরম ভোগান্তিতে পড়ে গ্রামবাসী। গ্রামবাসীর দুর্দশা লাঘবে কাশিমাড়ী-ঝাপালী সড়কের ঝাপালী নামক স্থানে সাঁকো তৈরি করায় গ্রামবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনেন কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফ। পানিবন্দী মানুষ চরম দুর্দশার মধ্যে শুধু টেকসই বাঁধের দাবি করেছে।
এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তার ইউনিয়নের খেজুরহাটি, ঝাপালি, জয়নগর ও কাশিমাড়িসহ ৬টি গ্রাম পানিতে ডুবে আছে। তিনি জানান, এসব গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ রক্ষায় এখন শেষ ভরসা জনগণ। দুর্যোগে যতবার বাঁধ ভেঙেছে, ততবারই স্থানীয় জনতা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সেই বাঁধ মেরামত করেছে। এবারও সুপার সাইক্লোন আম্পান তান্ডবেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আম্পানে সাতক্ষীরা উপকূলীয় আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলা রক্ষায় নির্মিত বাঁধ কমপক্ষে ৭৭টি পয়েন্টে ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে ভেসে যায় হাজার হাজার বিঘা জমির মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয় সহ¯্রাধিক বসতভিটা।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল জেলা নাগরিক কমিটির সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, নাগরিক কমিটির সকল আন্দোলন সংগ্রামে সাথে আছি, আগামীতেও থাকবো। জেলা নাগরিক কমিটির ২১ দফা দাবি এ অঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রাণের দাবি। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় রিংবাঁধ দিয়ে সাময়িকভাবে পানি আটকানো হয়। এরপর আর কারো মনে থাকেনা। বাঁধ ছিদ্র করে নোনা পানি তোলা বন্ধ করতে হবে। আইলায় যেখানে ভেঙেছিল আম্পানেও সেখানে ভেঙেছে। তাই আমরা আর ভাসতে চাইনা। আমরা বাঁচতে চাই। আমরা টেকসই স্থায়ী বেঢ়িবাঁধ চাই।
এদিকে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগের ৮০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এগুলো ১১টি পোল্ডারে বিভক্ত। এরমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর অধীনে দুটি পোল্ডার খুলনার কয়রা উপজেলার মধ্যে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আম্পান তান্ডবে আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের খাজরা বাজার পয়েন্ট, গদাইপুর আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া, বিছট শ্রীউলা ইউনিয়নের হিজলা, মাড়িয়ালা ও কাকড়াবুনিয়া, প্রতাপনগর ইউনিয়নের ঘোলা, নাকনা, কুড়িকাউনিয়া ও চাকলা, আশাশুনি সদর ইউনিয়নের বলাবাড়িয়া দয়ারঘাট ও জেলেখালী, শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী, পার্শ্বেমারী, খলশেবুনিয়া ও চাঁদনীমুখা, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পোড়াকাটলা, টুঙ্গিপাড়া ও হুলো, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের চুনকুড়ি, কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ঝাপালী ঘোলা ও ত্রিমোহনী আটুলিয়া, রমজাননগর ইউনিয়নের গোলাখালী, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বাইনতলা, কামালকাটি, সুভদ্রকাটি, খুলনার কয়রা উপজেলার হরিণখোলা, ২ নাম্বার কয়রা, উত্তর বেতকাশি, রতœারঘেরি, গাজীপাড়া, দক্ষিণ জোড়সিং, আংটিহারা, মেদেরচর, গোলখালী, দশালিয়া, হামকুড়সসহ বিভিন্ন স্থানে ৭৭টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প¬াবিত হয়। এর আগের সিডর, আইলা, মহসেন, বুলবুল ও ফণিসসহ সব ঘূর্ণিঝড়েরই কমবেশি ক্ষত চিহ্ন রয়েছে এসব এলাকায়। সর্বশেষ আম্পানেও এসব ইউনিয়নে নদীভাঙন হয়েছে বেশি। এসব এলাকার অধিকাংশ স্থান এখনো তলিয়ে আছে। আম্পানের পর থেকে এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের কাজে নেমেছেন। তারা রাতদিন পরিশ্রম করে বেশ কিছু বাঁধ ইতোমধ্যে বেঁধে ফেলেছেন। তবে তা কতক্ষণ টিকে থাকে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানিয়েছিলেন, বাঁধ রক্ষায় গ্রামবাসীকে নিয়ে কাজ করছি। মানুষের জীবন তো আগে বাঁচাতে হবে। কারও দিকে তাকিয়ে থাকলে মানুষকে বাঁচানো যাবে না। আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ এখনো পানিবন্দি। পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সাইফুল্লা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়ি না ভাঙলে এলাকায় আসে না। তাদের বারবার বলেও কোনো লাভ হয় না। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের গণমাধ্যমকে জানান, তার বিভাগের অধীনে ৩৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এগুলো চারটি পোল্ডারে বিভক্ত। তিনটি পোল্ডারের মধ্যে ৩০ কিলোমিটার বাঁধ বেশি ঝুঁকিতে ছিল। আম্পানে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ ১-এর অধীন ১৩টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে বিলীন হয়ে যায়। ১৩টি পয়েন্টই স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সাময়িকভাবে মেরামত করে। এখানে প্রচন্ড ঢেউ বা জলোচ্ছ্বাস সহ্য করতে পারে এমন শক্ত বাঁধের ব্যবস্থা করা না গেলে যে কোনো সময়ে তা আবার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশাঙ্কা রয়েছে।

এদিকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও খুলনার কয়রা এলাকায় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সরেজমিন পরিদর্শনে এসে বলেন, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৯০০ কোটি টাকার দুটি ও ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। খুব শিগগির সেগুলো ছাড় করে উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজসহ প্রকল্পের কাজে সেনাবাহিনীকেও কাজে লাগানো হবে বলে জানান তিনি।