সাতক্ষীরা উপকূল রক্ষা বাঁধে ফাটল, শত শত বিঘা মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত


142 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা উপকূল রক্ষা বাঁধে ফাটল, শত শত বিঘা মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে সরে গিয়ে দুর্বল হবার পর লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবারও বৃষ্টি অব্যাহত ছিল উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায়। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হননি কেউ।

এছাড়া বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে শত শত বিঘা মাছের ঘের। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে নিম্নাঞ্চলে। ভারি বর্ষণে উপকূল রক্ষা বাঁধের বেশকিছু পয়েন্টে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে।

জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাতক্ষীরায় গত শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত সর্বমোট ১২৩ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুটের অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

এদিকে, লঘুচাপের প্রভাবেও উপকূলীয় এলাকার জরাজীর্ণ ৩৫টি পয়েন্টে প্রায় ৬২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জি.এম মাসুদুল আলম জানান, চারদিন ধরে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নদীতে জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা বাড়ছে। টানা ভারি বর্ষণের কারণে শত শত বিঘা মৎস্যঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া গাবুরা, নাপিতখালি, জেলেখালিসহ কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।

একই উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, গত চারদিনের বৃষ্টিতে দাতিনাখালীর চুনা নদীর বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে সেখানে বাঁধ মেরামতের কাজ করা যাচ্ছে না।

আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম বলেন, গদাইপুর এলাকায় খোলপেটুয়ার নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। পরে তা স্থানীয়দের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হয়েছে। তবে, পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে প্রায় দুই শতাধিক বিঘা মৎস্যঘের নিমজ্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ওইসব এলাকায় আবারও যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। নদীর পানি আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের সময় বাঁধের কানায় কানায় পানি উঠছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, বেড়িবাঁধের ৩৫টি পয়েন্টে প্রায় ৬২ কিলোমিটার বাঁধ আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। টানা বর্ষণে কিছু এলাকায় নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ শুরু হয়েছ। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সঠিকভাবে কাজ করা যাচ্ছে না।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি বর্তানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, এখনো উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছাসের আশঙ্কা রয়েছে। তবে আগামী দু/একদিনের মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে।