সাতক্ষীরা ও কলারোয়ায় মেয়র-কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হলেন যারা


375 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা ও কলারোয়ায় মেয়র-কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হলেন যারা
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক / কে এম আনিসুর রহমান :

সাতক্ষীরা পৌরসভা :
——————-
সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাজকিন আহমেদ চিশতি ১৬ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টি মনোনীত শেখ আজহার হোসেন পেয়েছেন ১২ হাজার ৮৭৩ ভোট। বুধবার দিনভর ভোট গ্রহণ শেষে রাতে রিটানিং কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামূল হক চিশতিকে বেসরকারিভাবে মেয়র ঘোষনা করেন। অন্যদিকে কাউন্সিলর পদে অর্ধেক নির্বাচিত হয়েছে নতুন-পুরাতন মুখ।
সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, পৌরসভায় মোট ৭৯ হাজার ৬৩৪ জন ভোটারের মধ্যে মহিলা ৪০ হাজার ৫২৪ জন ও পুরুষ ভোটার ৩৯ হাজার ১১০ জন। পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে ৩১টি ভোট কেন্দ্রে ২৩৫টি কক্ষে ভোটারা ভোট প্রদান করেন। ভোটকে শান্তিপূর্ণ করতে পৌরসভায় ৩১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২৩৫ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ৪৭০ জন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। পৌরসভায় মোট ৫১ হাজার ৬২০ জন ভোট প্রদান করেন। মেয়র পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেন।  মেয়র পদে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি দলীয় প্রার্থী তাসকিন আহমেদ চিশতি পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১৬ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে শেখ আজহার হোসেন পান ১২ হাজার ৮৭৩ ভোট। জেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক নাছিম ফারুক খান মিঠু স্বতন্ত্র্য প্রার্থী হিসেবে নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পান ১২ হাজার ৫৩২ এবং পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী শাহাদাত হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে পান ৯ হাজার ৭২ ভোট।
পৌরসভায় কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। পৌর ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মোছাঃ জোৎ¯œা আরা কাঁচি প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৯৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।  ওয়ার্ডের প্রার্থী নূরজাহান বেগম (পুতুল) পান ৫ হাজার ৬৩৪ ভোট,  রহিমা রওশন (আঙ্গুর) পান ৫ হাজার ৩৩৭ ভোট, মমতাজ সুলতানা (গ্যাসের চুলা) পান ১০৯ ভোট। ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের অনিমা রাণী মন্ডল (কাঁচি) ৭ হাজার ১১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ফরিদা আক্তার বানু (মৌমাছি) ৭ হাজার ৫ ভোট। এবং ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ফারহাদিবা খান সাথী (কাঁচি) ৯ হাজার ৪৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচতি হন। এ ওয়ার্ডের গুলশান আরা (হারমেনিয়াম) পান ১ হাজার ১১২, শহর বানু (আঙ্গুর) পান ৫ হাজার ৮৮০ ভোট।
অন্যদিকে সাধারণ কাউন্সিল পদে ১ নং ওয়ার্ডের আব্দুস সেলিম (ডালিম) ২ হাজার ৫১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ শাহীন (উট পাখি) পান ১ হাজার ৭৮৯ ভোট। ২নং ওয়ার্ডে সৈয়দ মাহমুদ পাপা (টেবিল ল্যাম্প) ৩ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ ওয়ার্ডে আয়ুব আলী (পানির বোতল) পান ৯৪ ভোট, ওসমান গণি (পাঞ্জাবি) পান ২ হাজার ৮৬১ ভোট, মনোয়ার হোসেন (উট পাখি) পান ১৮৭ ভোট, শরিফুল ইসলাম (ডালিম) পান মাত্র ৮০ ভোট। ৩নং ওয়ার্ডে শেখ আব্দুস সেলিম (টেবিল ল্যাম্প) ২ হাজার ৫৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ ওয়ার্ডে অজিহার রহমান (পানির বোতল) পান ২২৩ ভোট, মোঃ আইনুল ইসলাম নান্টা (পাঞ্জাবি) পান ২ হাজার ৩৫০ ভোট, মোঃ আনোয়ার হোসেন (উট পাখি) পান ৪৮০ ভোট ও শেখ মুজিবর রহমান (ডালিম) পান ৬১৪ ভোট, ৪নং ওয়ার্ডের কাজী ফিরোজ হাসান (উট পাখি) ২ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ ওয়ার্ডে শেখ আছাদ আহম্মদ (ডালিম) পান ১ হাজার ৭৩২ ভোট ও মমিন উল্লাহ মোহন (পানির বোতল) পান ১২৩ ভোট, ৫নং ওয়ার্ডে মোঃ শাহিনুর রহমান (ডালিম) ২ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিহত হন। এ ওয়ার্ডে নজিবুল্লাহ আইলু (টেবিল ল্যাম্প) পান ৩৫৫ ভোট, মোঃ আজিজুল ইসলাম (পাঞ্জাবি) পান ৭৭৪ ভোট, মোঃ শফিকুল ইসলাম (পানির বোতল) পান ৫৯০ ভোট, একমাত্র মহিলা প্রার্থী মোছাঃ হাসনা হেনা (উটপাখি) পান ৩৩ ভোট ও শেখ আনোয়ার হোসেন মিলন (ব্লাক বোর্ড) পান ১ হাজার ৬৭ ভোট। ৬নং ওয়ার্ডে মোঃ শহিদুল ইসলাম (ডালিম) ২ হাজার ১১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ ওয়ার্ডে কাজী জিল্লুর রহমান (উটপাখি) পান ১৮২ ভোট, নারায়ন চন্দ্র মন্ডল (ব্রিজ) পান ১৮২ ভোট, মোঃ আবু আব্দুল্লাহ (পানির বোতল) পান ২২৩ ভোট, মোঃ আশরাফুল গাজী (ঢেঁড়শ) পান ১০৩ ভোট, মোঃ নাছির উদ্দীন সরদার (পাঞ্জাবি) পান ৩৮০ ভোট, শেখ আব্দুস ছাদেক (গাজর) পান ১৬৬ ভোট ও শেখ মারুফ আহম্মেদ (টেবিল ল্যাম্প) পান ২ হাজার ১০৪ ভোট। ৭নং ওয়ার্ডে শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু (পানির বোতল) ৩ হাজার ৬২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ ওয়ার্ডে মোঃ তৌহিদুর রহমান (পাঞ্জাবি) পান ২৬৬ ভোট ও মোঃ সফিউর রহমান (উটপাখি) পান ১ হাজার ৯৬৪ ভোট, ৮নং ওয়ার্ডে মোঃ শফিকুল আলম বাবু (পাঞ্জাবি) ৩ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ ওয়ার্ডে আব্দুল আনিছ খান চৌধুরী (উটপাখি) পান ১ হাজার ৮৭৪ ভোট ও সৈয়দ মোঃ আবুল কালাম আজাদ সুজন (ডালিম) পান ১২৩ ভোট এবং পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে শেখ শফিক-উদ-দৌলা (উটপাখি) ৫ হাজার ১৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ ওয়ার্ডে মোঃ আজিজুল হক (পাঞ্জাবি) পান ৫ ভোট ও শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন (পানির বোতল) পান ১ হাজার ৩৮ ভোট। রাত সাড়ে ১০টায় জেলা নির্বাচন অফিসে রিটানিং কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামূল হক বিজয়ীদের নাম বেসরকারিভাবে ঘোষনা করেন। এ সময় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
###

কলারোয়া পৌরসভা :
——————-
ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের কলারোয়া প্রতিনিধি জানান,  শংকা আর সম্ভাবনার দোলাচলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কলারোয়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গাজী আক্তারুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৫হাজার ৪’শ ৫৭ ভোট। ৪ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী আরাফাত হোসেন। আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লাল্টু পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৩৫ ভোট। জাতীয়পার্টির মনোনীত প্রার্থী মুনছুর আলী পেয়েছেন ৫৭ ভোট।

শতকরা ৭১ দশমিক ৪৭জন ভোটার তাদের ভোটারাধিকার প্রয়োগ করেছেন। পৌরসভার মোট ১৮হাজার ৫’শ ২৫ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ১৩হাজার ২’শ ৪০টি। বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়েছে ২৯৬টি ভোট।

৩০ডিসেম্বর বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিরতীহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর পদে সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ডে (৪নং, ৫নং ও ৬নং ওয়ার্ড) ১হাজার ৯’শ ৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সন্ধ্যা রানী বর্মণ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সেলিনা পারভীন পেয়েছেন ১হাজার ৩’শ ৯৬ ভোট। সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ডে (৭নং, ৮নং ও ৯নং ওয়ার্ড) ১হাজার ৬’শ ৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুন নেছা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি তৃতীয় লিঙ্গের দিথী পেয়েছেন ১হাজার ৫’শ ১২ ভোট।

সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে এসএম মফিজুল হক ৫’শ ৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জিএম শফিউল আলম পেয়েছেন ৫’শ ভোট। ৩নং ওয়ার্ডে ৬’শ ২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এনায়েতুল্লাহ খান টুন্টু পেয়েছেন ৬’শ ১০ ভোট। ৪নং ওয়ার্ডে মেজবাহ উদ্দীন লিলু ৪’শ ৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মাগফুর রহমান রাজু পেয়েছেন ৩’শ ২১ ভোট। ৫নং ওয়ার্ডে শেখ জামিল হোসেন হোসেন ৯’শ ৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আব্দুস সবুর পেয়েছেন ২’শ ৩৮ ভোট। ৬নং ওয়ার্ডে আলফাজ উদ্দীন ৯’শ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আবু জাফর সরদার পেয়েছেন ৬’শ ভোট। ৭নং ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর হোসেন ১হাজার ২’শ ৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সাইদুর রহমান মল্লিক পেয়েছেন ৪’শ ৮৭ ভোট। ৮নং ওয়ার্ডে শেখ ইমাদুল ইসলাম ৮’শ ৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হারুন-অর-রশীদ পেয়েছেন ৬’শ ৭২ ভোট। ৯নং ওয়ার্ডে ৫’শ ৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আকিমুদ্দিন দফাদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আব্দুল লতিফ সরদার পেয়েছেন ৪’শ ২০ ভোট।
রাত ৮ টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা আহমেদ আলী বেসরকারি ভাবে এ ফলাফল ঘোষনা করেন।