সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল। কাগুজে ঠিকাদার কিছুই জানেন না


455 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল। কাগুজে ঠিকাদার কিছুই জানেন না
আগস্ট ১০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মাণ কাজে অত্যন্ত  নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে স্থানীয় লোকজন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রাচীর নির্মাণে ১ নং ইটের পরিবর্তে ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রাচীরে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনিয়মের কাজ সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কাজের সাব ঠিকাদার শীর্ষূস্থানীয় একজন প্রভাবশালী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ধর্ণা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের কাগুজে ঠিকাদার কিছুই জানেননা বলে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানিয়েছেন । স্থানীয়দের দাবী, ৩ নং ইট দিয়ে তৈরি করা প্রচীর ভেঙ্গে নতুন করে ১ নং ইট দিয়ে প্রাচীর তৈরি করতে হবে। নহিলে তারা  এ কাজ হতে দেবে না।
সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা জেলা শহরের উপকন্ঠে বিনেরপোতায় নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য দুই পাশে ২৩০ ফুট ও অপর দুই পাশে ১৭০ ফুট করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। টেন্ডারে ঠিকাদার আসাদুজ্জামান সেলিমের কাগজপত্র দাখিল করে কাজ পান ঠিকাদারের কোন লাইসেন্স না থাকা স্থানীয় মোশাররফ হোসেন মন্টু। টেন্ডারের চুক্তি মূল্য ৩১ লাখ টাকা। সিডিউলে চারপাশে ৮০০ ফুট প্রাচীরের জন্য গ্রেট বীমের উপরে ৬ ফুট উচ্চতা ও নিচে ফাঁকা ইটের কাজ করার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সিডিউল অনুযায়ি কাজ হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয় মানুষের।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। প্রাচীর নির্মাণ ৫০ ভাগ হলেও বেশির ভাগ গাঁথুনি ৩ নং ইট দিয়ে করা হয়েছে। কেন্দ্রের প্রশাসনিক ভবনের পিছুনে গ্রেট বীমের নিচের সকল গাঁথুনি ৩ নং ইট দিয়ে করা হয়েছে। এ দেয়ালে গ্রেট বীমের নিচে গাঁথা ইটগুলো সিমেন্ট কম দেওয়ায় হাত দিয়ে সহজে খোলা যাচ্ছে প্রতিটি ইট। স্থানীয়রা জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে তারা সিমেন্ট দিচ্ছেন প্রয়োজনের তুলনায় অল্প। ফলে গাঁথুনি দুর্বল হয়ে কোন রকম দাঁড়িয়ে আছে। এসব গাঁথুনি খালি হাতে খোলা যাচ্ছে । অন্যদিকে রাস্তার পাশের দেওয়ালে গ্রেট বীমের উপরের গাঁথুনি দেড় নং ও ২ নং ইটের মিস্কড গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের সামনের প্রাচীর নির্মাণের জন্য স্তুপ করে রাখ ইটগুলো ২ ও ৩ নম্বর।
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমানসহ কয়েকজন জানান, প্রাচীর নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম ও ৩ নং ইট দিয়ে গাঁথার সংবাদ পেয়ে আমরা এর প্রতিবাদ করি। প্রবাবশালী সাব ঠিকাদার মন্টু কর্ণপাত না করলে আমরা বৃহস্পতিবার কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময়ে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের অবহিত করি। তিনি আরো জানান, কাজ তদারকির  দায়িত্বে গণপূর্ত বিভাগের নিয়েজিত কার্য সহকারী জোহর আলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলাম। তারা সংশ্লিষ্ট  ঠিকাদারের কাছ থেকে মোট অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে সকল অনিয়ম নিয়মে পরিণত করেছে। তারা প্রতিদিন কয়েকবার কেন্দ্রে তদারকী করলেও ৩ নং ইট দিয়ে গাঁথুনি ও বালির সাথে পরিমাণমত সিমেন্ট কম দেওয়ার বিষয়ে কোন কিছুই বলছেন না। ঠিকাদার এবং সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা যোগসাজশে নিম্মমানের কাজ করছেন বলে তাদের অভিযোগ।
সূত্র জানায়, স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় সাব ঠিকাদার মোশাররফ হোসেন মন্টু একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির কাছে ধর্না দিতে থাকেন। কাজ বন্ধ করে দেওয়া কয়েকজনকে ঐ জনপ্রতিনিধির ভাই ডেকে ঝামেলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন । এক পর্যায়ে এই জনপ্রতিনিধির ভাই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
কাজের সাব ঠিকাদার মোশাররফ হোসেন মন্টু ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, কাজের মান কেমন হচ্ছে তা দেখার দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। তারা বিষয়টি দেখছে। এ বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলেন। তিনি ওই জনপ্রতিনিধির ভাইয়ের কথা বলে বলেন, তার সাথে কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি অবগত আছেন। ঐ জনপ্রতিনিধির ভাই ঠিকাদার বা গণপূর্ত বিভাগের কেই কিনা জানতে চাইলে তিনি (মন্টু) জানান, পুরো বিষয়টি তিনি দেখছেন। আপনারা সংবাদ প্রকাশ করতে চাইলে করেন। তবে কাজ আমি সঠিকভাবে করছি। ফাটলের স্থানে জোড় দেয়া হবে। মিস্ত্রি ভুল করেছে বিধায় প্রাচীরে ফাটল দেখা দিয়েছে।
টেন্ডারে উল্লেখিত ঠিকাদার আসাদুজ্জামান সেলিম জানান, আমি গণপূর্ত অফিস থেকে ঘটনাটি শুনেছি। কাজ বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমার কাগজপত্র নিয়ে মন্টু কাজটি নিয়েছে। সেই মূলত: কাজটি করছে। তবে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আমি আমার মিস্ত্রি দিয়ে কাজটি শেষ করে দেব। তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে আর কারো কাছে নিজের কাগজ দিয়ে এভাবে আমার সুনাম ও ব্যবসায়িক ক্ষতি করব না।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তদারকী কাজে নিয়েজিত গণপূর্ত বিভাগের কার্য সহকারী জোহর আলী ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, কাজ ঠিকমত হচ্ছে। কিছু ইট ৩ নম্বর মন্টু এনেছিলো। সেগুলো ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তাকে ভালো ইটদিয়ে কাজ করার জন্য বলেছি।
উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানান পরে আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে নিন্মমানের কাজ হওয়ায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। কাজের মান ভালো না হওয়া পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি আরো জানান। এলাকাবাসী কাজের মান ভালো করার জন্য ৩ নং ইট ও দুর্বল গাঁথুনি খুলে ফেলার দাবী তাদের কাছেও জানিয়েছেন। ঠিকাদারে সাথে যোগসাজশ বা আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।