সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাচীর নির্মাণে দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরে টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের


367 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাচীর নির্মাণে দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরে টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের
আগস্ট ১১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ ভয়েস অব সাতক্ষীরায় প্রকাশিত হওয়ায় তোড়পাড় শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজের চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি প্রাচীর নির্মাণের জন্য আনা ৩ নং ইট ফেরত পাঠানো নির্দেশ দেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রতিবাদকারীদের ম্যানেজ করতে সাব ঠিকাদার মোশাররফ হোসেন মন্টু দিনভার দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। তবে ৩ নং ইট দিয়ে পিছনের দেয়াল গাঁথার পর তা এখনও না ভাঙ্গায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
গণপূর্ত বিভাগের সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা জেলা শহরের উপকন্ঠে বিনেরপোতায় নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য দুই পাশে ২৩০ ফুট ও অপর দুই পাশে ১৭০ ফুট করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়। টেন্ডারে ঠিকাদার আসাদুজ্জামান সেলিম কাজ পান। টেন্ডারের চুক্তি মূল্য ৩১ লাখ টাকা। সিডিউলে চারপাশে ৮০০ ফুট প্রাচীরের জন্য গ্রেট বীমের উপরে ৬ ফুট উচ্চতা ও নিচে ফাঁকা ইটের কাজ করার বিষয়ে উল্লেখ আছে।
সূত্র জানায়, সেলিম কাজ না করে কাজটি স্থানীয় মোশাররফ হোসেন মন্টুর কাছে বিক্রি করে দেয়। পেশায় ঠিকাদার না হয়েও মোশাররফ হোসেন মন্টু কাজটি করায় কাজে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে। প্রাচীর নির্মাণ ৫০ ভাগ হলেও বেশির ভাগ গাঁথুনি ৩ নং ইট দিয়ে করা হয়েছে। কেন্দ্রের প্রশাসনিক ভবনের পিছনে গ্রেট বীমের নিচের সকল গাঁথুনি ৩ নং ইট দিয়ে করা হয়েছে। এ দেওয়ালে গ্রেট বীমের নিচে গাঁথা ইটগুলো সিমেন্ট কম দেওয়ায় হাত দিয়ে সহজে খোলা যাচ্ছে প্রতিটি ইট।
স্থানীয়রা জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে তারা সিমেন্ট দিচ্ছেন প্রয়োজনের তুলনায় অল্প। ফলে গাঁথুনি দুর্বল হয়ে কোন রকম দাঁড়িয়ে আছে। এসব গাঁথুনি খালি হাতে খোলা যাচ্ছে বলে। অন্যদিকে রাস্তার পাশের দেওয়ালে গ্রেট বীমের উপরের গাঁথুনি দেড় নং ও ২ নং ইটের সমন্বয়ে গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের সামনের প্রাচীর নির্মাণের জন্য স্তুপ করে রাখ ইটগুলো ২ ও ৩ নম্বর। কাজের দায়িত্বে গণপূর্ত বিভাগের নিয়েজিত কার্য সহকারী জোহর আলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলাম ঠিকাদারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে সকল অনিয়ম নিয়মে পরিণত করেছে। তারা প্রতিদিন কয়েকবার কেন্দ্রে তদারকী করলেও ৩ নং ইট দিয়ে গাঁথুনি ও বালির সাথে পরিমাণমত সিমেন্ট কম দেওয়ার বিষয়ে কোন কিছুই না বললে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেয়।
এনিয়ে সোমবার ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশীষ ডি কস্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। এ সময় তিনি স্তুপ করে রাখা ৩ নং ইট ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন ওই সাব ঠিকাদারকে। পরে বাবুলিয়ার সানি ইট ভাটার ১ নং ইট দিয়ে কাজ করার নিদের্শ দেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে সংবাদ প্রকাশের পর সাব ঠিকাদার মন্টু বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেন। তিনি প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির ছোট ভাইয়ের কাছে বিষয়টি জানান। ভাই প্রভাবশালীর ভাই গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তাকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।
গণপূর্ত বিভাগের নিয়েজিত কার্য সহকারী জোহর আলী জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার পরিদর্শন করে ভালো করে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কাজের দায়িত্বে নিয়েজিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলামের ফোনে কয়েকবার রিং দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।