সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কের দু’ধার খানাখন্ডে ভরা, দেখার কেউ নেই !


952 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কের দু’ধার খানাখন্ডে ভরা, দেখার কেউ নেই !
জুলাই ৬, ২০১৫ Uncategorized কালিগঞ্জ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা :
সাতক্ষীরা জেলাশহরসহ কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কে দুর্ঘটনা এখন নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। মাত্র এক মাস আগে এই সড়কের ঝুকীপূর্ণ স্থান মেরামত করা হলেও মাস যেতে না যেতেই আবারও সেসব স্থান খানাখন্ডে ভরে গেছে। বিভিন্ন কারণে এ সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ইতিপূর্বে ঝরে গেছে অনেক সম্ভাবনাময় তাজা প্রাণ। দূর্ঘটনায় কবলিত পরিবারসহ জনসাধারণ মনে করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনে এই সড়কের দুপাশের ভাঙন আর খাঁদগুলো বছরের পর বছর সঠিক ভাবে সংস্কার হচ্ছে না। যার কারণে বেড়েই চলেছে সড়ক দূর্ঘটনা। সম্প্রতি কালিগঞ্জের নলতা ঘোড়াপোতা, কদমতলা, ভাড়াশিলমা, কুকুডাঙ্গা, দেবহাটার আস্কারপুর, হাদিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪-৫ জনের অকাল মৃত্যু হয়, আহত হয়েছে অর্ধ শতাধিক মানুষ। সাতক্ষীরায় এ বছর সবেমাত্র বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ভরা বর্ষা মৌসুম এখনও সামনে। কিন্তু সাতক্ষীরা সড়র বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর আব্দুর রশিদের বক্তব্য, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে না-কি সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কের এই বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব দুর্ঘটনার জন্য অধিকাংশে কারণ সড়কের দুই পাশের ভাঙন আর বড় বড় খাঁদ। এসব ভাঙন আর খাঁদের কারণে বাইসাইকেল, মটরসাইকেল, মাহিন্দ্রা, মাইক্রো, পিকআপ,ভ্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন রাস্তায় চলাচলের সময় বা যানবাহন ক্রসিংয়ের সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনটাই সড়কের নিচে নামতে পারে না। কারন নিচে নামলে খাঁদে আর উপরে থাকলে মুখোমুখি সংঘর্ষ, অর্থাৎ উভয় সংকট! আর এ সংকটের কারনেই সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অকালে চলে যাচ্ছে কত তাজা প্রাণ ও নিভে যাচ্ছে সম্ভাবনার জীবন প্রদীপ!
জানা যায়, সড়ক ও জনপদের আওতায় খুলনা, সাতক্ষীরা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত সড়কগুলো বিভিন্ন সালে নির্মিত হয়েছে। প্রায় ২ বছর পূর্বে পথিমধ্যে সাতক্ষীরার আলীপুরের ইটভাটা নামক স্থান থেকে দেবহাটার হাদীপুর পর্যন্ত ১৬ কিঃ মিঃ এ সড়কটি প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত করা হয়। সড়কটি সংস্কারের পর চলাচলের উপযোগি ছিল মাত্র ২ থেকে ৩ মাস। এর পর আবার যা তাই। গতানুগতিক সেই মেরামত আবার পরিণত হয়েচে খানাখন্দে। ১ মাস পূর্বে আবারও কোন রকম ছালচামড়া লাগিয়ে মেরামত করা হয় আলীপুর থেকে হাদিপুর পর্যন্ত সড়কটি। কিন্তু ঝুকিপূর্ণ সেই দু’ধারের গর্ত গুলো থেকেই গেছে মরণ ফাঁদ হিসাবে। বর্তমানে ভাঙতে ভাঙতে মূল রাস্তা বিসি ২৪-৩২ ফুটের জায়গায় এখন কোথাও কোথাও ১৫-২০ ফুটে নেমে এসেছে। সড়কের দু’পাশে ১৮ ফুট পার্শ্ব রাস্তা থাকার কথা থাকলেও সেখানে দেখা যায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠা বা ভাঙনের কারনে মাত্র ৫ থেকে ৬ফুট আছে, তাও আবার ভেঙে খাঁদে পরিনত হয়েছে। দু’ধারের মাটি গুলো সরে গিয়ে এবং সড়কের ধার ভেঙে কোথাও ১ফুট আবার কোথাও কোথাও ২ থেকে ৫ফুট পর্যন্ত নিচু বা গর্তে পরিনত হয়েছে। এমনিভাবে বর্তমানে সড়কটির দু’পাশের সার্বিক চিত্র অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন আবার এসে গেছে বর্ষাকাল আর সেগুলো পরিনত হয়েছে ভয়ঙ্কর বিপদজনক স্থান।
দেশের অন্যান্য অঞ্চল অপেক্ষা দক্ষিণাঞ্চলের জনপদ বিশেষ করে এই সাতক্ষীরা- কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কটি অত্যান্ত যানযটপূর্ন সড়ক। এর আশে পাশে ট্রেন লাইন বা অন্যান্য যাতায়াত ব্যবস্থা নেই বলে এ অঞ্চলের মানুষের শুধু এই সড়কের উপর নির্ভর করে যাতায়াত করতে হয়। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য এ সড়কটি একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম বলেই এটি জেলার সব চেয়ে  গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এমন করুন দশার কারণে ঘনঘন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও মেরামতের কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না সাতক্ষীরা সড়ক কর্তৃপক্ষ। ফলে এই অঞ্চলের গণ-মানুষকে দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা করে ও অপ্রত্যাশিত প্রাণহানী রোধ করার প্রত্যয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি জরুরী ভিত্তি মেরামতের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সাতক্ষীরা শহর, কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কের কিছু কিছু এলাকায় খানাখন্ডের সৃষ্টি হয়েছে। মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাত্র এক মাস আগে যেসব এলাকা সংস্কার করা হয়েছে সেসব এলাকায় এক মাস যেতে না যেতেই কি কারনে খানাখন্ডের সৃষ্টি হলো তা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্যও করতে রাজি হননি।