সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মামুন হাসানের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প


296 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মামুন হাসানের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প
নভেম্বর ৪, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

সাতক্ষীরা অনলাইন শপের কল্যাণে সমাজের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এখন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। তাদেরই একজন সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মো মামুন হাসান রাজীব। জন্ম সাতক্ষীরা জেলার লাবসা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে। ৪ ভাই বোনের লেখাপড়ার খরচ বহন করা তার বাবার জন্য সহজসাধ্য ছিল না। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবার থেকে নিজের খরচ বহন করার তাগিদ অনুভব করতেন। যেখানে এস এস সি পরীক্ষার পর ছাত্র ছাত্রীরা বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানে ঘুরে সময় পার করেন, সে সময় মামুন হাসানকে পারিবারিক টানো পোড়নের কারনে টিউশনি করে সময় পার করতে হয়েছে।

স্কুল জীবন থেকেই টিউশন করাতেন। নিজের খরচ চালানোর জন্য যে যেমন টাকা দিতেন তাই দিয়েই তিনি টিউশন চালিয়ে গিয়েছেন। যখন উপলব্ধি করলেন শুধু নিজের খরচ চালালেই হবেনা। পরিবারের খরচের জন্য টাকা বের করতে হবে। তখন বাড়িয়ে দিলেই টিউশনের পরিমান। এমনও দিন গেছে দৈনিক ১০ ঘন্টা টিউশন করিয়েছেন। তবুও তিনি হেরে যাননি। মামুন হাসান হেরে যাওয়ার পাত্র নন। নীরবে নিভৃতে পরিশ্রম করে গেছেন নিজের ও পরিবারের জন্য। এভাবেই কষ্ট করে সাতক্ষীরা সরকারী কলেজ থেকে অর্থনীতিতে বি এস এস ও এম এস এস শেষ করেন। এরপর ভর্তি হন সাতক্ষীরা ল কলেজে। সেখান থেকে এল এল বি শেষ করেন।

এরপর ২০১৬ সালে একটি কোম্পানীতে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু শিক্ষকতার নেশা তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। তাই ২০১৭ সালে কোম্পানীর চাকুরী ছেড়ে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। স্কুলের বেতন ও টিউশন করিয়ে ভালোই দিন চলছিল মামুন হাসানের। কিন্তু হঠাত করে মার্চ মাস থেকে করোনার জন্য স্কুল বন্ধ হয়ে গেল। বেশিরভাগ টিউশন চলে গেল। এদিকে দিন দিন সাংসারিক খরচের চাপ বাড়তে লাগল। অনলাইনে ক্লাশ নেওয়া ছাড়া তখন তেমন কোন কাজ ছিল না। বিষন্নতা ভর করেছিল মামুন হাসান রাজীবের জীবনে।

একদিন ফেইসবুকে পরিচয় হয় সাতক্ষীরা আইটি ফার্মের পরিচালক ইমরান ভাইয়ের সাথে। তার আমন্ত্রণে যুক্ত হন সাতক্ষীরা অনলাইন শপ গ্রুপে।

প্রথম প্রথম দেখতেন গ্রুপে কে, কি, কিভাবে বিক্রয় করছেন। এসব দেখতেন আর ভাবতেন তিনিও কিছু একটা করবেন। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য তাকে তো আর বসে থাকলে চলবে না। কিছু একটা করতেই হবে। কিছু করার সিদ্ধান্ত যখন নিলেন তখন বাধ সাধলো পুঁজি। নিজের তেমন পুঁজি নেই যে পন্য কিনে তা গ্রুপে সেল করবেন। একদিন পরিচিত এক স্থানীয় ভাইয়ের দোকান থেকে একজোড়া ইন্ডিয়ান রুলির ছবি তুলে গ্রুপে সেল পোষ্ট করলেন। মহান আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে সেটির অর্ডারও পেয়ে গেলেন। অর্ডার করলেন চট্রগ্রামের এক বোন। এরপর স্থানীয় বিভিন্ন দোকান থেকে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে কাজ করেছেন।

একদিন হঠাৎ সাতক্ষীরা অনলাইন শপ গ্রুপে দেখলেন সেরা ১০ জন উদ্যোক্তার ছবি। এই দেখে তার কাজের আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। সেরা ১০ এ আমাকে থাকতেই হবে। এই পণ করে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করলেন। পণ্যের ভেরিয়েশন বাড়াতে শাড়ি, থ্রি পিস, ওয়ান পিস, ঘড়ি, শার্ট, প্যান্ট আর গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারি সংগ্রহ করে গ্রুপে সেল পোষ্ট করা শুরু করলেন। আল্লাহর রহমতে সাতক্ষীরা অনলাইন শপ গ্রুপের মাধ্যমে গত অক্টোবর মাসে ২২ হাজার টাকার পন্য বিক্রয় করেন। সাথে সাথে সেরা ১০ উদ্যোক্তার কাতারে নিজের জায়গা আদায় করে নেন।

মামুন হাসান বলেন, “আমি সব সময় চেষ্টা করি ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পন্য সংগ্রহ করতে। ক্রেতার মনের মত মান সম্মত পন্য সরবরাহ করাই আমার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য”।” তিনি আরো বলেন, “ব্যাংক থেকে যদি বিনা সুদে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে তাহলে তরুণদের এগিয়ে যাওয়া আরো ত্বরান্বিত হত।”

মামুন হাসান নিজের অভিজ্ঞতা নিজের ছাত্র ছাত্রী ও সমাজের বেকার যুব সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন- আমি চাই প্রতিটি বাড়ি থেকে উদ্যোক্তার সৃষ্টি হোক। পড়াশোনা শেষ করে বেকার বসে না থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে উদ্যোক্তা হয়ে কাজ শুরু করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

জীবনে কিছু করতে হলে শুধু যে পুঁজির প্রয়োজন তা নয়। সততা, মেধা ও পরশ্রম এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে সাধন করে যে কেউই জীবনে সফল হতে পারে। মামুন হাসান রাজীব তার উজ্বল উদাহরণ। আমাদের মনে রাখতে হবে আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করেন যারা নিজেরা নিজেদেরকে সাহায্য করে। সবাইকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে Where there is will, there is way.

মামুন হাসান রাজীবের মত এমন শত শত তরুণ উদ্যোক্তা সাতক্ষীরা অনলাইন শপের কল্যাণে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন। তাই আর চাকুরীর আশায় বসে না থেকে সবারই উচিত সাতক্ষীরা অনলাইন শপ গ্রুপে জয়েন করে নিজেই নিজের কর্মসংস্থানের চেষ্টা করা। আর নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গ্রুপ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। গ্রুপের লিংকঃ https://www.facebook.com/groups/satkhiraonlineshopbd

আসুন সবাই সাতক্ষীরা অনলাইন শপের এডমিন শেখ ইমরান হোসেনের সাথে সুর মিলিয়ে বলি- সাতক্ষীরা অনলাইন শপ গ্রুপে জয়েন করি, বেকার মুক্ত সাতক্ষীরা জেলা গড়ি।